দুর্নীতি ও পাসপোর্ট জালিয়াতির মামলায় দুবাইয়ে গ্রেফতার হওয়া পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
রোববার বিকেলে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান দুদকের উপপরিচালক (মিডিয়া) আকতারুল ইসলাম।
তিনি বলেন, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং পাসপোর্ট জালিয়াতির মামলায় বেনজীর আহমেদকে গ্রেফতারের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ইন্টারপোলের কাছে আবেদন করা হয়েছিল। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ইন্টারপোলের সহযোগিতায় গত ১২ জুন সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। বর্তমানে তাঁকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চলছে।
আকতারুল ইসলাম জানান, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে বর্তমানে মোট ছয়টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ১৪ কোটি ৬২ লাখ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় ইতোমধ্যে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে এবং মামলাটির বিচার কার্যক্রম চলমান। বাকি পাঁচটি মামলার তদন্ত এখনও চলছে। এসব মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে প্রায় ৭৬ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালেও বেনজীর আহমেদ জালিয়াতির মাধ্যমে একাধিক বেসরকারি পাসপোর্ট সংগ্রহ করেছিলেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর গত বছর অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। পরবর্তীতে তাঁর এবং পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, সম্পদের তথ্য গোপন এবং বিভিন্ন আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়।
তদন্তের অংশ হিসেবে আদালতের নির্দেশে বেনজীর আহমেদ ও তাঁর পরিবারের নামে থাকা বিপুল পরিমাণ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ জব্দ করা হয়েছে এবং ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করা হয়েছে। জব্দকৃত সম্পদের মধ্যে রয়েছে ঢাকার একাধিক ফ্ল্যাট, দেশের বিভিন্ন জেলায় শত শত বিঘা জমি, বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ার, ব্যাংক হিসাব এবং সঞ্চয়পত্র।



