tanaka

মেরুল বাড্ডায় রাজউকের দেড় হাজার কোটি টাকার জমি ২১ বছর ধরে দখলে

রাজধানীর মেরুল বাড্ডায় রাজউকের প্রায় ১১ একর জমি দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে দখলে রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। জমিটির বাজারমূল্য প্রায় ১ হাজার ৬৫০ কোটি টাকা। একই জমিকে ঘিরে প্রায় ছয় হাজার মানুষের কাছ থেকে ৩০০ কোটি টাকা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
প্রচ্ছদজাতীয়দুদক কর্তৃক সাবেক মন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর অর্থ পাচারের এজেন্ট আজিজ ও উৎপল...

দুদক কর্তৃক সাবেক মন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর অর্থ পাচারের এজেন্ট আজিজ ও উৎপল গ্রেফতার

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের বিদেশে অর্থপাচারের জন্য নিয়োজিত এজেন্টদের গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন আরামিট গ্রুপের এজিএম উৎপল পাল এবং সাইফুজ্জামানের দেশের সম্পত্তি পরিচালনাকারী কর্মকর্তা আবদুল আজিজ।

চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ এলাকা থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর, বুধবার তাদের গ্রেফতার করা হয়। ১৮ সেপ্টেম্বর, বৃহস্পতিবার তাদের চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতে হাজির করে ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে, যা দুদক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

গ্রেফতারকৃতদের পরিচিতি

ইম্পেরিয়াল ট্রেডিং নামের প্রতিষ্ঠানের মালিক মো. আবদুল আজিজ দুদকের এজাহারভুক্ত আসামি। অন্যদিকে, আরামিট পিএলসির এজিএম উৎপল পাল নতুন করে মামলায় অন্তর্ভুক্ত হতে যাচ্ছেন। দুদক সূত্র জানিয়েছে, উৎপল পাল সাইফুজ্জামান চৌধুরীর বিদেশে সম্পদ দেখাশোনা ও অর্জনের দায়িত্বে ছিলেন এবং বিদেশ থেকে বিভিন্ন দেশে অর্থপাচারের অন্যতম কারিগর ছিলেন। তাকে মাস্টারমাইন্ড হিসেবে বিবেচনা করছে দুদক টিম। যদিও তিনি আরামিট পিএলসির কর্মচারী, তবে সাইফুজ্জামানের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করতেন। তার কাছ থেকে জব্দ করা ২টি ল্যাপটপ এবং ২টি মোবাইল ফোনে পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য আদালতের অনুমতি চাওয়া হয়েছে। অপরদিকে, আবদুল আজিজ সাইফুজ্জামানের সম্পত্তি ক্রয়-বিক্রয় ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজ করতেন।

ঋণ আত্মসাৎ এবং তদন্ত

দুদক সাবেক মন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, তার স্ত্রী এবং ইউসিবি ব্যাংকের এমডিসহ ২৫ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা এক কর্মচারীকে মালিক বানিয়ে এবং নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠান তৈরি করে ইউসিবি ব্যাংকের ঢাকার কারওয়ান বাজার শাখা থেকে ২১ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে তা আত্মসাৎ করেছে। ১৬ সেপ্টেম্বর, দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে সংস্থাটির উপ-সহকারী পরিচালক মো. রুবেল হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। এছাড়া, সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে প্রায় ১২৪ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে একটি তদন্ত চলমান রয়েছে, যাতে অংশ নিয়েছেন শতাধিক কর্মকর্তাও।

আলাদা সম্পত্তি এবং ব্যাংক হিসাব

দুদক সূত্রে জানা গেছে, সাবেক মন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী এবং তার স্ত্রীর নামে যুক্তরাজ্যে ৩৪৩টি, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ২২৮টি এবং যুক্তরাষ্ট্রে ৯টি সহ অন্যান্য দেশে বিলাসবহুল বাড়ি, অ্যাপার্টমেন্ট এবং জমি ক্রোক ও ফ্রিজ করার আদেশ দিয়েছে বাংলাদেশী আদালত। এছাড়া, গত ৫ মার্চ আদালত সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তার পরিবারের নামে থাকা ৩৯টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার আদেশ দেন, যেখানে মোট ৫ কোটি ২৬ লাখ ৮৩ হাজার টাকা জমা রয়েছে।

দুর্নীতির অভিযোগে সাবেক মন্ত্রী এবং তার পরিবারকে ২৬টি বিও (বিনিয়োগ) অ্যাকাউন্টের ফ্রিজের আদেশ দেয়া হয়েছে, যার মাধ্যমে তাদের মোট ৫৭৬ কোটি ৮ লাখ ৭৭ হাজার ৭৩০ টাকা লেনদেন হয়েছে।