tanaka

মেরুল বাড্ডায় রাজউকের দেড় হাজার কোটি টাকার জমি ২১ বছর ধরে দখলে

রাজধানীর মেরুল বাড্ডায় রাজউকের প্রায় ১১ একর জমি দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে দখলে রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। জমিটির বাজারমূল্য প্রায় ১ হাজার ৬৫০ কোটি টাকা। একই জমিকে ঘিরে প্রায় ছয় হাজার মানুষের কাছ থেকে ৩০০ কোটি টাকা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
প্রচ্ছদআদালতইন্টারপোলের ‘রেড নোটিশ’ জারি করতে দুদকের আবেদন: সাইফুজ্জামান ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে

ইন্টারপোলের ‘রেড নোটিশ’ জারি করতে দুদকের আবেদন: সাইফুজ্জামান ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে

ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ এবং তার স্ত্রী রুকমিলা জামান বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে ‘রেড নোটিশ’ জারি করতে আবেদন করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গত ১৮ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম মহানগর স্পেশাল জজ (ভারপ্রাপ্ত) মো. আবদুর রহমানের আদালতে এই আবেদন দাখিল করা হয়।

এছাড়া, সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, তার স্ত্রী রুকমিলা জামান এবং ইউসিবি ব্যাংকের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, যে তারা নামসর্বস্ব কাগুজে প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবি) ঢাকার কারওয়ান বাজার শাখা থেকে ২১ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাৎ করেছেন। এই অভিযোগে দুদক মামলাও দায়ের করেছে।

মামলাটি ১৬ সেপ্টেম্বর দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে দায়ের করেন সংস্থার উপ-সহকারী পরিচালক মো. রুবেল হোসেন। দুদকের একটি ঊর্ধ্বতন সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

এদিকে, সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তার স্ত্রী রুকমিলা জামান, দুবাইয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচারের মাধ্যমে সেখানে ২২৬টি ফ্ল্যাট কিনেছেন। সেখানে ব্যবসায়ও তারা বিনিয়োগ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সিআইডির তদন্তে প্রমাণ পাওয়া গেছে যে, সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে অর্থ পাচার ও মানিলন্ডারিং আইনে মামলা দায়ের হয়েছে।

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) জানায়, সাইফুজ্জামান চৌধুরী (৫৬) ও তার স্ত্রী রুকমিলা জামান (৪৬) সহ আরও অজ্ঞাত ৫-৭ জনের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানায় অর্থ পাচার আইনে মামলা হয়েছে।

২০১৪ সালের জানুয়ারি মাসে ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন সাইফুজ্জামান চৌধুরী। এছাড়া, তিনি ইউনাইটেড ব্যাংকের নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন এবং শিল্প প্রতিষ্ঠান আরামিট গ্রুপের চেয়ারম্যান হিসেবেও কাজ করেছেন।

সিআইডি জানায়, ২০১৬ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন এলাকা, যেমন আল বারশা সাউথ, জাবাল আলি, বুর্জ খলিফা, ওয়ার্ল্ড আইল্যান্ড, খাইরান, ইয়ালায়েস ২, জাদ্দাফসহ আরও অনেক স্থানে ২২৬টি ফ্ল্যাট কেনার তথ্য পাওয়া গেছে। এসব ফ্ল্যাটের মোট মূল্য প্রায় ৩৩ কোটি ৫৬ লাখ দিরহাম, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪৩০ কোটি টাকা।

এছাড়া, রুকমীলা জামানের নামে দুবাইয়ের আল বারশা সাউথ থার্ড এলাকায় দুটি সম্পত্তি পাওয়া গেছে, যার মূল্য ২২ লাখ ৫০ হাজার দিরহাম। সাইফুজ্জামান চৌধুরীর নামে ও তার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যক্তিদের নামে দুবাই ইসলামী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, ও ফার্স্ট আবুধাবি ব্যাংকের ব্যাংক হিসাবের তথ্যও পাওয়া গেছে, যার মাধ্যমে বিভিন্ন অঙ্কের লেনদেন হয়েছে।

এই অবৈধ সম্পত্তি ক্রয় ও অর্থ পাচারের সঙ্গে যুক্ত থাকা সাইফুজ্জামান চৌধুরী এবং তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বিভিন্ন রেকর্ড থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে, সরকারের পক্ষ থেকে অনুমতি ছাড়াই এসব আর্থিক কর্মকাণ্ড করা হয়েছে। এর ফলে তারা প্রায় ১,২০০ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছেন, যা মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২ (সংশোধনী ২০১৫) অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ।