ভারতের রাজধানী দিল্লি ও বাণিজ্যিক রাজধানী মুম্বাইয়ে বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে অন্তত নয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের সঙ্গে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই এবং আন্ডারওয়ার্ল্ড ডন দাউদ ইব্রাহিমের নেটওয়ার্কের যোগাযোগ থাকার দাবি করেছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ।
শনিবার দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল জানায়, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে দিল্লি, মুম্বাই ও পাঞ্জাবের বাসিন্দারা রয়েছেন। কয়েকজন বিদেশি নাগরিকও এই চক্রের সঙ্গে জড়িত বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। অভিযানের সময় তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশের দাবি, দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে হামলার পরিকল্পনা করছিল এই চক্র। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় পারমাণবিক স্থাপনা, বিমানবন্দর, রেলস্টেশন এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ছিল।
গোয়েন্দা সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরেই এই নেটওয়ার্ককে নজরদারিতে রাখা হয়েছিল। বর্তমানে তদন্তকারীরা সীমান্তপারের যোগাযোগ, অর্থায়নের উৎস এবং বিদেশে অবস্থানরত হ্যান্ডলারদের ভূমিকা খতিয়ে দেখছেন।
এদিকে সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে দিল্লিতে উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সম্প্রতি দেশটির নিরাপত্তা সংস্থাগুলো আত্মঘাতী হামলা, গাড়িবোমা বিস্ফোরণ, সশস্ত্র হামলা এবং সমন্বিত নাশকতার আশঙ্কার কথা জানিয়েছিল।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলোর সব জেলা ইউনিটকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় জোরদারের কথাও বলা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত বছর দিল্লির ঐতিহাসিক লালকেল্লা এলাকার কাছে একটি গাড়িবোমা বিস্ফোরণে ১৫ জন নিহত এবং এক ডজনের বেশি মানুষ আহত হন। ওই ঘটনার তদন্তে কয়েকজন সন্দেহভাজনের নাম সামনে আসে, যাদের মধ্যে মুজাম্মিল শাকিল গনাই, আদিল আহমেদ রাঠের, মুজাফফর আহমেদ রাঠের, মুফতি ইরফান আহমদ ওয়াগে এবং শাহীনা সাঈদের নাম উল্লেখযোগ্য।



