সরকারবিরোধী আন্দোলনে উত্তাল ইরান। রাজধানী তেহরানসহ দেশটির বিভিন্ন শহরে টানা দুই রাত ধরে তীব্র বিক্ষোভ হয়েছে। এসব বিক্ষোভের মধ্যে তেহরানের একটি মসজিদে অগ্নিসংযোগ এবং ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের আগে ব্যবহৃত পতাকা উড়ানোর ঘটনা ঘটেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস-কে লাদান নামের ৬০ বছর বয়সী এক নারী জানান, তিনি টানা দ্বিতীয় রাত রাস্তায় নেমেছিলেন। তেহরানের সা’দাত আবাদ এলাকার এই বাসিন্দা বলেন, তিনি নিজ চোখে বিক্ষোভকারীদের একটি মসজিদে আগুন দিতে দেখেছেন।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) রাতের পর শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) রাতেও মাসহাদ, তাবরিজ, উরুমিয়াহ, ইস্ফাহান, কারাজ ও ইয়জদসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
এদিকে বিবিসি ফার্সি-র প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, বিক্ষোভকারীরা সরকারবিরোধী স্লোগান দিচ্ছেন। তারা ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যু কামনা করে স্লোগান দেন এবং রাজতন্ত্র তথা শাহ শাসনের পক্ষে অবস্থান নেন।
অন্যদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সাধারণ জনগণকে বিক্ষোভে অংশ না নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। বিশেষ করে অভিভাবকদের উদ্দেশে প্রচারিত বার্তায় বলা হয়, সন্তানদের বিক্ষোভে যেতে দেওয়া থেকে বিরত থাকতে। সতর্ক করে বলা হয়, বিক্ষোভ চলাকালে গোলাগুলি হলে এবং তাতে কেউ আহত বা নিহত হলে সে জন্য দায় নেওয়া হবে না।
এমন সতর্কতা ও ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন রাখার পরও হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে আসেন। তেহরানের বাসিন্দা ৪২ বছর বয়সী প্রকৌশলী আমির রেজা জানান, তিনি গুলির শব্দ ও সাউন্ড বোমার বিস্ফোরণ শুনেছেন। একপর্যায়ে সিভিল পোশাকে থাকা মিলিশিয়া ও পুলিশ গুলি ছুড়তে শুরু করলে তিনি নিরাপত্তার কারণে বাড়িতে ফিরে যান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে নিরাপত্তা বাহিনী আকাশের দিকে গুলি ছোড়ে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ডিসেম্বর তেহরানের গ্র্যান্ড বাজারের ব্যবসায়ীরা প্রথমে শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ শুরু করেন। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই তা সহিংস রূপ নেয়। টানা ১৩ দিন ধরে চলমান এই আন্দোলনের মধ্যে টাইম ম্যাগাজিন এক প্রতিবেদনে দাবি করেছে, গত বৃহস্পতিবার শুধু তেহরানেই ২০০ জনের বেশি বিক্ষোভকারী গুলিতে নিহত হয়েছেন।
বিক্ষোভ সহিংস হয়ে ওঠার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছে ইরান। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে দেশটি অভিযোগ করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের উসকানিতেই শান্তিপূর্ণ আন্দোলন সহিংসতায় রূপ নিয়েছে।
এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন করে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরান সরকার যদি বিক্ষোভকারীদের হত্যা অব্যাহত রাখে, তাহলে দেশটির বিরুদ্ধে কঠোর হামলা চালানো হবে। তিনি দাবি করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান সরকার চরম সংকটে রয়েছে।



