ইরানের চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকিমূলক বক্তব্যকে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সমতুল্য’ বলে মন্তব্য করেছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি অভিযোগ করেন, তেহরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়ে ট্রাম্প কার্যত সন্ত্রাসীদের উসকে দিচ্ছেন, যাতে তারা বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলা চালিয়ে বিদেশি হস্তক্ষেপের পরিবেশ তৈরি করতে পারে। খবর আল জাজিরার।
আরাগচি বলেন, ‘ট্রাম্পের এসব বক্তব্যই সন্ত্রাসীদের অনুপ্রাণিত করছে। তারা রক্তপাত ঘটিয়ে পরিস্থিতিকে এমন পর্যায়ে নিতে চায়, যেখানে বাইরের শক্তির হস্তক্ষেপ সম্ভব হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকলেও সংলাপের পথ এখনো খোলা রেখেছি।’
চলমান বিক্ষোভের কারণে গত বৃহস্পতিবার থেকে দেশজুড়ে ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ রেখেছে ইরানি কর্তৃপক্ষ। এ প্রসঙ্গে আব্বাস আরাগচি জানান, খুব শিগগিরই সারা দেশে ইন্টারনেট সংযোগ ধাপে ধাপে পুনরায় চালু করা হবে।
তিনি বলেন, সরকার নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে এ বিষয়ে কাজ করছে, যাতে দ্রুত অগ্রগতি নিশ্চিত করা যায়। সাধারণ জনগণের পাশাপাশি দূতাবাস ও সরকারি মন্ত্রণালয়গুলোর ক্ষেত্রেও ইন্টারনেট সংযোগ পুনর্বহাল করা হবে বলে জানান তিনি।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালের পর সবচেয়ে বড় সরকারবিরোধী আন্দোলনের মুখে পড়েছে ইরান। মূল্যস্ফীতি ও আর্থিক সংকটের প্রতিবাদে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ দ্রুত রাজনৈতিক রূপ নেয়। গত ২৮ ডিসেম্বর শুরু হওয়া আন্দোলন ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। বিক্ষোভকারীরা বর্তমান শাসনব্যবস্থার অবসান দাবি করে রাজধানীসহ বিভিন্ন শহরে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।



