tanaka

তিনবেলা খাবার জুটত না, এখন শাহরুখ সেজে আয় ৫ লাখ রুপি!

একসময় সাইনবোর্ড আঁকাই ছিল জীবিকা নির্বাহের প্রধান অবলম্বন। অনিয়মিত আয়ের কারণে সংসার চালানোও ছিল কঠিন। কিন্তু চেহারায় বলিউড তারকা শাহরুখ খানের সঙ্গে অদ্ভুত মিলই...
প্রচ্ছদখেলাতীব্র সমালোচনার মুখে বিশ্বকাপে বেসরকারি বিনিয়োগের পরিকল্পনা থেকে সরে এলো ফিফা

তীব্র সমালোচনার মুখে বিশ্বকাপে বেসরকারি বিনিয়োগের পরিকল্পনা থেকে সরে এলো ফিফা

বিশ্বকাপসহ নিজেদের প্রধান প্রতিযোগিতায় বেসরকারি বিনিয়োগ আনার বিতর্কিত পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত বাতিল করেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। সদস্য দেশগুলোর তীব্র বিরোধিতা, ইউরোপীয় ফুটবলের কঠোর অবস্থান এবং রাজনৈতিক চাপের মুখে পরিকল্পনা থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো।

মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই প্রস্তাবটি ঘিরে বিশ্ব ফুটবলে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়। অধিকাংশ সদস্য অ্যাসোসিয়েশন পরিকল্পনার বিপক্ষে অবস্থান নেওয়ায় শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবায়ন না করার সিদ্ধান্ত নেয় ফিফা।

কী ছিল ফিফার পরিকল্পনা?

ফিফা বিশ্বকাপ, ক্লাব বিশ্বকাপসহ নিজেদের প্রধান প্রতিযোগিতার বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ (এফএফই)’ নামে একটি নতুন প্রতিষ্ঠান গঠনের পরিকল্পনা করেছিল।

প্রায় ২ হাজার কোটি মার্কিন ডলার মূল্যমানের এই প্রতিষ্ঠানের প্রায় ২০ শতাংশ শেয়ার দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করে প্রায় ৪২০ কোটি ডলার সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। ফিফার দাবি ছিল, এই অর্থ সদস্যদেশগুলোর উন্নয়ন তহবিল উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে ব্যবহার করা হবে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, সদস্যদেশগুলোকে ২০২৭ সালের শুরুতেই এককালীন ২ কোটি ডলার দেওয়া এবং ২০৩০ সালের মধ্যে সেই সহায়তা ৪ কোটি ডলারে উন্নীত করার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছিল।

যেভাবে ফাঁস হলো পরিকল্পনা

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস প্রথম ফিফার গোপন পরিকল্পনার খবর প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক অধিকারকে কেন্দ্র করে প্রাইভেট ইকুইটি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বড় অঙ্কের চুক্তির চেষ্টা চালাচ্ছে ফিফা।

খবরটি প্রকাশের পরই বিশ্ব ফুটবলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। এরপর বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে বাধ্য হয় ফিফা।

শুরু হয় তীব্র বিরোধিতা

ফিফার ঘোষণার পরই ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থা উয়েফা পরিকল্পনাটিকে ‘ফুটবলের আত্মা বিক্রির চেষ্টা’ বলে আখ্যা দেয় এবং আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দেয়।

উত্তর ও মধ্য আমেরিকার ফুটবল সংস্থা কনক্যাকাফ, ইংল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এফএ) এবং এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি)ও পরিকল্পনাটি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে। তাদের অভিযোগ, সদস্যদেশগুলোর সঙ্গে যথাযথ আলোচনা ছাড়াই এত বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের ক্রীড়াবিষয়ক কমিশনার গ্লেন মিকালিফও ফিফাকে সতর্ক করে বলেন, ‘আমাদের খেলা নিয়ে ছিনিমিনি খেলবেন না।’

এদিকে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম মন্তব্য করেন, ‘ফুটবল কোনো বিনিয়োগকারীর সম্পদ নয়; এটি সেই সমর্থকদের, যারা সপ্তাহের পর সপ্তাহ মাঠ ও গ্যালারি ভরিয়ে রাখেন।’

বয়কটের হুমকি

সমালোচনা বাড়তে থাকলেও ইনফান্তিনো প্রথমদিকে পরিকল্পাটিকে ‘একটি সুযোগ, কোনো বাধ্যবাধকতা নয়’ বলে ব্যাখ্যা করেন।

তবে ফিফা পরিকল্পনায় অনড় থাকলে বিশ্বকাপ বয়কটের হুমকি দেয় উয়েফা ও তাদের ৫৫টি সদস্যদেশ। একই সময়ে কনক্যাকাফের ৪১টি সদস্যদেশ সর্বসম্মতিক্রমে প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করে এবং আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশন (সিএএফ) পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানায়।

শেষ পর্যন্ত নতি স্বীকার

ক্রমবর্ধমান বিরোধিতা এবং সদস্যদেশগুলোর সমর্থন হারানোর আশঙ্কার মধ্যে অবশেষে পরিকল্পনা বাতিলের ঘোষণা দেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো।

এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘সব পক্ষের মতামত মনোযোগ দিয়ে শোনার পর স্পষ্ট হয়েছে, এই প্রকল্প এমন একটি বিভাজন তৈরি করেছে, যা আমাদের মূল লক্ষ্যকে আর সহায়তা করছে না। তাই এই প্রস্তাব আর এগিয়ে নেওয়া হবে না।’

ফিফার ভেতরেও অসন্তোষ

বিতর্ক আরও গভীর হয় যখন ফিফার প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (সিওও) কেভিন লামুর প্রকাশ্যে জানান, এটি ফিফার প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ ছিল না; বরং ‘একজন ব্যক্তির প্রকল্প’। তাঁর দাবি, এ কারণে সংস্থার অনেক কর্মকর্তা নিজেদের প্রতারিত মনে করছেন।

এদিকে প্রতিবাদ জানিয়ে পদত্যাগ করেন ইনফান্তিনোর জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা, মার্কিন ফুটবল ফেডারেশনের সাবেক সভাপতি কার্লোস কর্ডেইরো। তিনি বলেন, এই পরিকল্পনা ফিফার সদস্যদেশ, বিশ্ব ফুটবল এবং খেলাটির দীর্ঘমেয়াদি ভবিষ্যতের জন্য ক্ষতিকর

সবশেষে ফিফা জানিয়েছে, ভবিষ্যতে এ ধরনের যেকোনো উদ্যোগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে উন্মুক্ত ও গণতান্ত্রিক আলোচনা অব্যাহত রাখা হবে। তবে আপাতত বিশ্বকাপে বেসরকারি বিনিয়োগ আনার বিতর্কিত পরিকল্পনা থেকে পুরোপুরি সরে এসেছে সংস্থাটি।