tanaka

জলবায়ু অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণে উন্নত দেশগুলোকে আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় উন্নত দেশগুলোকে অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণ, ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য তহবিল পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন...
প্রচ্ছদরাজনীতিতারেক রহমানকে বরণে ঢাকামুখী জনস্রোত

তারেক রহমানকে বরণে ঢাকামুখী জনস্রোত

দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবনের অবসান ঘটিয়ে আগামীকাল বৃহস্পতিবার সকালে স্ত্রী ও কন্যাকে সঙ্গে নিয়ে দেশের মাটিতে পা রাখছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। লন্ডন স্থানীয় সময় সকাল সোয়া ৬টায় তিনি বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা দেবেন। তাকে বহনকারী বিমানটি সকাল ১০টায় সিলেটে অবতরণ করবে। সেখানে এক ঘণ্টার যাত্রাবিরতি শেষে বেলা ১২টায় ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

দলের শীর্ষ নেতাকে বরণ করে নিতে বিএনপি আয়োজন করছে স্মরণকালের বৃহত্তম গণসংবর্ধনা। রাজধানীর কুড়িল এলাকার ৩০০ ফিট সড়কে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। বিমানবন্দর থেকে সরাসরি সংবর্ধনাস্থলে যাবেন তারেক রহমান। সেখানে দেশব্যাপী আগত নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উদ্দেশে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। পরে তিনি এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মা, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে দেখতে যাবেন। মায়ের শয্যাপাশে কিছু সময় কাটিয়ে গুলশানের বাসভবনে ফিরবেন তিনি।

এদিকে তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে ইতোমধ্যেই ঢাকামুখী জনস্রোত শুরু হয়েছে। দেশের বিভিন্ন জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন থেকে হাজার হাজার নেতাকর্মী রাজধানীতে অবস্থান নিয়েছেন। বিদেশে অবস্থানরত অনেক নেতাকর্মীও ঢাকায় এসে যোগ দিচ্ছেন এই সংবর্ধনায়।

বিএনপি নেতারা বলছেন, তারেক রহমানের দেশে ফেরা উপলক্ষে যে উদ্দীপনা ও প্রস্তুতি দেখা যাচ্ছে, তাতে উপস্থিতির দিক থেকে অতীতের সব আয়োজনকে ছাড়িয়ে যাবে এই গণসংবর্ধনা। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তার প্রত্যাবর্তন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন তারা। দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষের উপস্থিতির প্রত্যাশাও করছেন বিএনপি নেতারা।

সূত্র জানায়, গণসংবর্ধনাকে সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে অনুষ্ঠান আয়োজনের আনুষ্ঠানিক অনুমতি পেয়েছে দলটি। মঞ্চ নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। দলের শীর্ষ নেতারা দফায় দফায় অনুষ্ঠানস্থল পরিদর্শন করছেন। বিমানবন্দর থেকে সংবর্ধনাস্থল এবং গুলশান পর্যন্ত যাতায়াতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তারেক রহমানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দলীয়ভাবে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তার সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলামকে। একই সঙ্গে সরকারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকেও বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। বিমানবন্দর থেকে গুলশান পর্যন্ত থাকবে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা। তার বাসভবন ও অফিসেও বিশেষ নিরাপত্তা জোরদার করা হবে। এ ছাড়া নিরাপত্তাজনিত হুমকির কথা উল্লেখ করে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ) নিরাপত্তা চেয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে আবেদন করেছে বিএনপি, যদিও এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

দেশে ফেরার পর গুলশান এভিনিউয়ের ১৯৬ নম্বর বাড়িতে তারেক রহমানের ওঠার কথা রয়েছে। তবে সংস্কারকাজ শেষ না হলে মায়ের বাসভবন ‘ফিরোজা’য় তার জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে তিনটি কক্ষ।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন বলেন, “দীর্ঘদিনের গণতান্ত্রিক সংগ্রাম ও পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা থেকেই দেশব্যাপী মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে তারেক রহমানকে একনজর দেখার জন্য ঢাকায় আসছেন।”

স্থায়ী কমিটির বৈঠক

তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনকে সামনে রেখে গত সোমবার বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে তার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে ঐতিহাসিক করে তুলতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে শরিক দলগুলোর সঙ্গে আসন সমঝোতা, দুর্বল ও বিতর্কিত প্রার্থী বাছাইসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে কয়েকজন স্থায়ী কমিটির সদস্য তারেক রহমানকে ঢাকা থেকে নির্বাচন করার অনুরোধও জানান।

সংবর্ধনার মঞ্চে উপস্থিতি নিয়েও সিদ্ধান্ত হয়। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যদের পাশাপাশি ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপি এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতারা সেখানে থাকবেন। এ ছাড়া জুলাইযোদ্ধার নিহত ও আহত পরিবারের একজন করে সদস্য উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

সারা দেশ থেকে ঢাকামুখী বহর

তারেক রহমানকে বরণ করে নিতে সারা দেশ থেকেই ঢাকার পথে রওনা হয়েছেন নেতাকর্মীরা। আকাশ, সড়ক ও রেলপথে টিকিট সংকট দেখা দিয়েছে। সিলেট, খুলনা, চট্টগ্রাম, রংপুর, রাজশাহী, কক্সবাজার, নওগাঁ, বাগেরহাট, নেত্রকোণা, সাতক্ষীরা, গাইবান্ধা, মেহেরপুর, লক্ষ্মীপুরসহ বিভিন্ন জেলা থেকে লক্ষাধিক নেতাকর্মী বাস, ট্রেন, মাইক্রোবাস ও প্রাইভেটকারে করে ঢাকায় আসছেন।

দলীয় নেতাদের আশা, তারেক রহমানের এই প্রত্যাবর্তন শুধু বিএনপির জন্য নয়, দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসেও একটি স্মরণীয় অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হবে।