tanaka

নিরাপত্তা পরিষদের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন, দ্রুত সংস্কারের আহ্বান জি-৪-এর

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বর্তমান কাঠামো নিয়ে প্রশ্ন তুলে দ্রুত সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছে জি-৪ জোট। ভারত, ব্রাজিল, জার্মানি ও জাপান নিয়ে গঠিত এই জোটের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা...
প্রচ্ছদরাজনীতিতরুণ ভোটারদের সঙ্গে জাইমা রহমানের ব্যতিক্রমী ‘চায়ের আড্ডা’

তরুণ ভোটারদের সঙ্গে জাইমা রহমানের ব্যতিক্রমী ‘চায়ের আড্ডা’

তরুণ ভোটারদের ভাবনা, প্রত্যাশা ও স্বপ্নের কথা সরাসরি শুনেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। রাজধানীতে আয়োজিত এক ব্যতিক্রমধর্মী ‘চায়ের আড্ডা’ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি নতুন প্রজন্মের বাংলাদেশ ভাবনার কথা তুলে ধরেন।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে মহাখালী ডিওএইচএস খেলার মাঠে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কন্টেন্ট জেনারেশন টিমের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয় এই ব্যতিক্রমী আয়োজন। এতে উঠে আসে তরুণ সমাজের চিন্তা, স্বপ্ন ও প্রত্যাশার নানা দিক।

আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই ‘চায়ের আড্ডা’র উদ্দেশ্য ছিল তরুণ ভোটারদের সঙ্গে জাতীয় রাজনৈতিক কণ্ঠস্বরের একটি অর্থবহ ও সরাসরি সংলাপ তৈরি করা। প্রায় ৫৫ জন তরুণ-তরুণী এতে অংশ নেন এবং তাদের আতিথেয়তা করেন জাইমা রহমান।

প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী এই ইন্টারেক্টিভ আড্ডায় সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় নানা বিষয়ে তরুণদের সঙ্গে খোলামেলা মতবিনিময় করেন তিনি। দেশের ভবিষ্যৎ নির্মাণে তরুণদের চিন্তা-ভাবনা, আকাঙ্ক্ষা ও উদ্বেগ শোনার পাশাপাশি নিজের অভিজ্ঞতা ও দৃষ্টিভঙ্গিও তুলে ধরেন জাইমা রহমান। আলোচনায় উঠে আসে মেধা পাচার, বিদেশে যাওয়ার প্রবণতা, চাকরির অনিশ্চয়তা, আর্থিক নিরাপত্তার অভাবসহ নাগরিক সমাজের নানা সমস্যা।

প্রচলিত সভা বা বক্তৃতামূলক আয়োজনের বাইরে গিয়ে মেলার আদলে এই অনুষ্ঠানটি সাজানো হয়। প্রথম পর্বে সবার সঙ্গে একত্রে বসে কথা বলেন জাইমা রহমান, আর শেষ পর্বে কোনো নির্দিষ্ট স্থানে না বসে তরুণ-তরুণীদের সঙ্গে হাঁটতে হাঁটতে আলোচনা করেন তিনি।

এই সময় তিনি তরুণদের সঙ্গে একসঙ্গে চা, চটপটি, জিলাপি ও ঝালমুড়ি উপভোগ করেন, যা আয়োজনটিকে আরও প্রাণবন্ত ও আন্তরিক করে তোলে।

মতবিনিময়ে নারীর ক্ষমতায়ন, কর্মক্ষেত্রে নারীর নিরাপত্তা, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ, ঢাকাসহ বড় শহরের যানজট সমস্যা এবং ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ গুরুত্ব পায়।

আড্ডায় অংশ নেওয়া এক তরুণী সোশ্যাল মিডিয়ায় ফেক আইডি ও সাইবার বুলিংয়ের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, ‘সোশ্যাল মিডিয়ায় বুলিং অনেক বেড়ে গেছে, কিন্তু কার্যকর সমাধান দেখা যাচ্ছে না। বিশেষ করে মেয়েদের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও গুরুতর।’

এর জবাবে সাইবার বুলিং প্রতিরোধে আইনের কঠোর প্রয়োগের ওপর জোর দেন জাইমা রহমান। তিনি বলেন, ‘সোশ্যাল মিডিয়া খুব শক্তিশালী একটি মাধ্যম। এটি সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনা না করলে সমস্যা তৈরি হয়। সাইবার বুলিংয়ের কারণে অনেক নারী ও কিশোরী মত প্রকাশের সাহস হারিয়ে ফেলে। রিপোর্টিংয়ের প্রক্রিয়া সম্পর্কে মানুষকে জানাতে হবে। স্কুল পর্যায় থেকেই শেখানো দরকার—এমন পরিস্থিতিতে কী করতে হবে। পাশাপাশি কার্যকর আইনি গাইডলাইন থাকলে এই সমস্যা মোকাবিলা করা সম্ভব।’

শহর ও গ্রামের শিক্ষার বৈষম্য দূর করতে প্রাথমিক পর্যায় থেকেই উদ্যোগ নেওয়ার তাগিদ দেন তিনি। আড্ডার এক পর্যায়ে জাইমা রহমান বলেন, ‘দেশের জন্য তরুণদের কাজ করার আগ্রহ অত্যন্ত ইতিবাচক। তবে সবাইকে সম্পৃক্ত করতে হলে একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা জরুরি।’