tanaka

জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক পদে তানজিম ইবনে ওয়াহাবের নিয়োগ নবায়ন

বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক পদে তানজিম ইবনে ওয়াহাবের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ আরও এক বছরের জন্য নবায়ন করেছে সরকার। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখা থেকে...
প্রচ্ছদজাতীয়তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা নিয়ে কার্যকর সমাধান চায় আপিল বিভাগ: প্রধান বিচারপতি

তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা নিয়ে কার্যকর সমাধান চায় আপিল বিভাগ: প্রধান বিচারপতি

তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা নিয়ে একটি স্থায়ী ও কার্যকর সমাধান চায় দেশের সর্বোচ্চ আদালতের আপিল বিভাগ—জানিয়েছেন প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ। তিনি বলেন, “এটি যেন বারবার বিতর্কিত না হয়, সেই দিক বিবেচনায় রেখেই আমরা কাজ করছি। নির্বাচনকালীন সরকারব্যবস্থা নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে—এমন একটি সমাধান চান আমরা।”

বুধবার (২৭ আগস্ট) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন ৬ সদস্যের আপিল বেঞ্চে এ বিষয়ে রিভিউ শুনানি শুরু হয়। এর আগে মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) একই বেঞ্চে শুনানি মুলতবি করা হয়েছিল।

প্রসঙ্গত, ২০১১ সালের ১০ মে আপিল বিভাগের ৭ সদস্যের বেঞ্চ সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে রায় দেয়, যা তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থাকে অবৈধ ঘোষণা করে। এই রায় পুনর্বিবেচনার দাবিতে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, নাগরিক সংগঠন ‘সুজন’সহ একাধিক ব্যক্তি ও সংগঠন আবেদন করেন।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গত বছরের অক্টোবরে এই রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ আবেদন করেন। এর আগে সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার, তোফায়েল আহমেদ, এম হাফিজউদ্দিন খান, জোবাইরুল হক ভূঁইয়া ও জাহরা রহমানও রিভিউ আবেদন করেন। একইভাবে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং নওগাঁর বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মোফাজ্জল হোসেনও পৃথকভাবে রিভিউ আবেদন করেন।

২১ আগস্ট আপিল বিভাগের কার্যতালিকার ১৭ নম্বরে ত্রয়োদশ ও পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়ে করা মোট পাঁচটি রিভিউ আবেদন শুনানির জন্য ওঠে। ওইদিন আইনজীবী শিশির মনির শুনানির শুরুতেই বলেন, “তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের পক্ষে রায় দেওয়া বিচারপতিরাই পরবর্তীতে প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান।”

উল্লেখযোগ্যভাবে, ১৯৯৬ সালে সংবিধানে ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা যুক্ত হয়। এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ১৯৯৮ সালে হাইকোর্টে রিট করা হয়। হাইকোর্ট ২০০৪ সালের ৪ আগস্ট এই সংশোধনীর বৈধতা বহাল রাখে। পরে ২০০৫ সালে আপিল করা হলে ২০১১ সালের ১০ মে আপিল বিভাগ ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে রায় দেয়। সেই রায়ের ভিত্তিতে ২০১১ সালের ৩০ জুন জাতীয় সংসদে পাস হয় সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী আইন, যা তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার বিলোপ ঘটায়।

পরে পঞ্চদশ সংশোধনীও আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে। ২০২4 সালের ১৮ আগস্ট সুজন সম্পাদকসহ ৫ বিশিষ্ট ব্যক্তি এ আইন চ্যালেঞ্জ করে রিট করলে হাইকোর্ট রুল দেন। একইভাবে বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মোফাজ্জল হোসেনও সংশোধনীর ১৬টি ধারা চ্যালেঞ্জ করে রিট করেন। হাইকোর্ট চূড়ান্ত রায়ে পঞ্চদশ সংশোধনীর ২০ ও ২১ ধারা বাতিল ঘোষণা করে এবং গণভোটের বিধান পুনর্বহাল করে।