tanaka
প্রচ্ছদসারাদেশডেঙ্গুতে বিপদ বাড়ার আগে যেসব লক্ষণে দ্রুত হাসপাতালে নেবেন

ডেঙ্গুতে বিপদ বাড়ার আগে যেসব লক্ষণে দ্রুত হাসপাতালে নেবেন

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত বেশিরভাগ রোগী চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী বাসায় থেকেই সুস্থ হয়ে ওঠেন। তবে কিছু ক্ষেত্রে রোগটি দ্রুত গুরুতর আকার ধারণ করতে পারে। বিশেষ করে জ্বর কমে যাওয়ার পরের ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা অনেক রোগীর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ সময়। এ সময়ে সতর্কতার সঙ্গে রোগীর শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা জরুরি।

ডেঙ্গুর সাধারণ লক্ষণ

ডেঙ্গুর প্রধান লক্ষণের মধ্যে রয়েছে জ্বর, তীব্র মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, পেশি ও গিঁটে ব্যথা, বমি বমি ভাব, বমি এবং ত্বকে লালচে র্যাশ। পেটব্যথা, খাবারে অরুচি ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গ্রন্থি ফুলে যাওয়াও দেখা দিতে পারে।

যে লক্ষণগুলো বিপদের সংকেত

জ্বর কমে যাওয়ার পর নিচের যেকোনো লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে হাসপাতালে নিতে হবে—

  • তীব্র বা অব্যাহত পেটব্যথা

  • বারবার বমি

  • নাক বা মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়া

  • বমি বা পায়খানার সঙ্গে রক্ত যাওয়া

  • দ্রুত বা কষ্ট করে শ্বাস নেওয়া

  • অতিরিক্ত দুর্বলতা, অস্থিরতা বা ঝিমুনি

  • শরীর ঠান্ডা ও ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া

  • প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া

  • বিভ্রান্তি, খিঁচুনি বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়া

  • রক্তচাপ কমে যাওয়ার লক্ষণ

মারাত্মক ডেঙ্গুতে রক্তনালি থেকে তরল বেরিয়ে গিয়ে পানিশূন্যতা, গুরুতর রক্তপাত, শ্বাসকষ্ট এবং গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের কার্যকারিতায় সমস্যা হতে পারে। এসব জটিলতা জীবনহানির কারণ হতে পারে।

শিশু ও ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে সতর্কতা

শিশুদের ক্ষেত্রে জ্বর, অতিরিক্ত দুর্বলতা, ঘুম ঘুম ভাব, খিটখিটে মেজাজ, বমি, র্যাশ ও পানিশূন্যতার লক্ষণ দেখা দিতে পারে। এক বছরের কম বয়সি শিশু দ্রুত গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে।

এ ছাড়া গর্ভবতী নারী, বয়স্ক ব্যক্তি এবং ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদ্যন্ত্র বা কিডনির রোগে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

ডেঙ্গু শনাক্ত ও চিকিৎসা

রোগের সময়কাল অনুযায়ী এনএস১ অ্যান্টিজেন, আইজিএম অ্যান্টিবডি এবং অন্যান্য রক্ত পরীক্ষা করে ডেঙ্গু শনাক্ত করা হয়। রোগীর অবস্থা পর্যবেক্ষণে সিবিসি, প্লাটিলেট ও হেমাটোক্রিট পরীক্ষাও করা হতে পারে।

ডেঙ্গুর নির্দিষ্ট অ্যান্টিভাইরাল চিকিৎসা নেই। সাধারণত পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও তরল গ্রহণ এবং জ্বর বা ব্যথার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্যারাসিটামল ব্যবহার করা হয়। অ্যাসপিরিন বা আইবুপ্রোফেন চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ব্যবহার করা উচিত নয়, কারণ এতে রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

ডেঙ্গু আক্রান্ত ব্যক্তিকে মশার কামড় থেকেও সুরক্ষিত রাখতে হবে। জ্বর কমে গেলেও পরবর্তী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা রোগীর অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা জরুরি। বিপদের কোনো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।