বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলন আজ রোববার (৩ মে) শুরু হচ্ছে। চার দিনব্যাপী এ সম্মেলনে উন্নয়ন ও সংস্কারসংক্রান্ত ডিসি ও বিভাগীয় কমিশনারদের দেওয়া ৪৯৮টি প্রস্তাব আলোচনা করা হবে। মোট প্রস্তাব জমা পড়েছিল এক হাজার ৭২৯টি।
আজ সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সম্মেলনে মাঠ প্রশাসনের উদ্দেশে সরকারের নীতি ও কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরবেন শীর্ষ নীতিনির্ধারকেরা।
৩০টি অধিবেশনে ডিসি ও বিভাগীয় কমিশনাররা ৫৬টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। পাশাপাশি রাষ্ট্রপতি, জাতীয় সংসদের স্পিকার এবং প্রধান বিচারপতির সঙ্গে পৃথক কার্য অধিবেশনেও অংশ নেবেন তারা।
আজ রাত সাড়ে ৮টায় বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন-এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন ডিসিরা। আগামীকাল সোমবার (৪ মে) জাতীয় সংসদ চত্বরে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ নির্ধারিত রয়েছে। মঙ্গলবার (৫ মে) বিকেলে সুপ্রিম কোর্টে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী-এর সঙ্গে বৈঠকে অংশ নিয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা নেবেন তারা।
ডিসি সম্মেলন উপলক্ষে গতকাল শনিবার সচিবালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. হুমায়ুন কবির সম্মেলনের বিস্তারিত তুলে ধরেন। এ সময় মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, স্বৈরাচারী শাসনের পর দেশে গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা শুরু হয়েছে, ফলে সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে রাজনৈতিক নেতৃত্ব দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। মাঠ প্রশাসনের সঙ্গে সরকারের কার্যকর সমন্বয় বাড়াতেই এবারের সম্মেলনের মূল লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ উদ্দেশ্যে সম্মেলনের সময়সূচিও এক দিন বাড়ানো হয়েছে।
কৃচ্ছ্রসাধনের অংশ হিসেবে এবারের সম্মেলনের বাজেট কমানো হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, গত বছর বরাদ্দ ছিল ১ কোটি ৭৩ লাখ টাকা, ব্যয় হয় ১ কোটি ২ লাখ টাকা। এ বছর বাজেট নির্ধারণ করা হয়েছে ৭১ লাখ টাকা। প্রয়োজনীয় ব্যয় ছাড়া অতিরিক্ত খরচ এড়ানো হবে।
ডিসিদের প্রস্তাব
প্রেস ব্রিফিংয়ে সম্মেলন উপলক্ষে দেওয়া ৫০টি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। এসব প্রস্তাবে জনসেবা ও স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়ন, জনদুর্ভোগ কমানো, অবকাঠামো উন্নয়ন, পর্যটন বিকাশ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং জনস্বার্থ সংরক্ষণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা খাতসংক্রান্ত প্রস্তাবই সবচেয়ে বেশি—৪৪টি।
প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে—
- গাজীপুরে অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন
- ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র পুনর্নির্মাণ ও জনবল নিয়োগ
- হাসপাতালের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আধুনিক পরিশোধনাগার নির্মাণ
- কওমি মাদ্রাসার জন্য নীতিমালা প্রণয়ন
- নোয়াখালীতে আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর স্থাপন
- কৃষকদের স্বল্প সুদে বড় ঋণ সুবিধা
- মা ইলিশ সংরক্ষণকালে জেলেদের বিকল্প কর্মসংস্থান
- হাওর অঞ্চলে স্থায়ী মৎস্য অভয়াশ্রম গড়ে তোলা
এ ছাড়া ভূমি ব্যবস্থাপনা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, স্থানীয় সরকার কার্যক্রম জোরদার, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি এবং তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর বিষয়গুলোও গুরুত্ব পাবে।
গত বছরের ডিসি সম্মেলনে গৃহীত ৪০০টি সিদ্ধান্তের মধ্যে স্বল্পমেয়াদি ৬১ শতাংশ, মধ্যমেয়াদি ৩৫ শতাংশ এবং দীর্ঘমেয়াদি ১৬ শতাংশ বাস্তবায়িত হয়েছে বলে জানানো হয়।



