tanaka

তিনবেলা খাবার জুটত না, এখন শাহরুখ সেজে আয় ৫ লাখ রুপি!

একসময় সাইনবোর্ড আঁকাই ছিল জীবিকা নির্বাহের প্রধান অবলম্বন। অনিয়মিত আয়ের কারণে সংসার চালানোও ছিল কঠিন। কিন্তু চেহারায় বলিউড তারকা শাহরুখ খানের সঙ্গে অদ্ভুত মিলই...
প্রচ্ছদআন্তর্জাতিকট্রাম্পের অবরোধ ভাঙতে হরমুজে নামছে চীনের নৌবহর!

ট্রাম্পের অবরোধ ভাঙতে হরমুজে নামছে চীনের নৌবহর!

হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ ঘিরে নতুন করে জটিল হয়ে উঠছে বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি। ইরানকে চাপের মুখে রাখতে নেওয়া এই পদক্ষেপ এখন চীনের জ্বালানি সরবরাহের ওপরও প্রভাব ফেলছে। এ কারণে প্রশ্ন উঠছে—নিজেদের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কি শেষ পর্যন্ত হরমুজে নৌ উপস্থিতি বাড়াবে বেইজিং? বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি যেভাবে এগোচ্ছে, তাতে মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তেজনা ধীরে ধীরে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত থেকে সরে যুক্তরাষ্ট্র-চীন টানাপোড়েনে রূপ নিতে পারে।

সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে বলছে, মধ্যপ্রাচ্যে চীনের সামরিক উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে সীমিত হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর চাপ প্রয়োগে সুবিধা পেয়েছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতি চীনকেও এই সংকটে আরও সরাসরি যুক্ত করছে, যার কেন্দ্রে রয়েছে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি। ইরানি বন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ মূলত তেহরানকে লক্ষ্য করে হলেও তা চীনের ওপরও প্রভাব ফেলছে, কারণ চীনের প্রায় ৪০ শতাংশ তেল এই রুট দিয়েই আমদানি হয়।

এ পরিস্থিতিতে চীন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়ে আসছে। দেশটি যুক্তরাষ্ট্রকে বেইজিংয়ের স্বার্থে হস্তক্ষেপ না করার আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্প্রতি চীনা মালিকানাধীন একটি তেলবাহী জাহাজ যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ এড়িয়ে যেতে না পেরে ইরানের বন্দরে ফিরে যায়। পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর এই অবরোধ আরোপ করা হয় বলে উল্লেখ করা হয়, যার লক্ষ্য ইরানের প্রধান তেল আয়ের উৎস সীমিত করা। তবে এতে চীনের ওপরও চাপ তৈরি হচ্ছে, কারণ দেশটি ইরানি তেলের বড় ক্রেতা।

কানাডার ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষক দিমিত্রি লাসকারিস সামাজিক মাধ্যমে মন্তব্য করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এর আগে ভেনেজুয়েলার তেলেও চীনের প্রবেশাধিকার সীমিত করার চেষ্টা করেছিল, এবং ইরানের ক্ষেত্রেও একই ধরনের পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে। তার মতে, এটি শুধু ইরান নয়, চীনের সঙ্গেও উত্তেজনা বাড়াতে পারে।

উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি সরবরাহের ওপর চীনের নির্ভরতা বেশি হওয়ায় সরবরাহ ব্যাহত হলে তাদের অর্থনীতিতে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এ অবস্থায় চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপকে “বিপজ্জনক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন” বলে উল্লেখ করেছে এবং সতর্ক করেছে যে এ ধরনের অবরোধ সংঘাত আরও বাড়াতে পারে।

পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে যুক্তরাষ্ট্র যদি চীনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তেলবাহী জাহাজে বাধা দেয়, তবে তা সরাসরি উত্তেজনার কারণ হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এতে চীন তাদের নৌবাহিনী মোতায়েনের বিষয়টিও বিবেচনা করতে পারে।

প্যারিস বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ঝাং লুন বলেন, ওয়াশিংটনের এই কৌশল চীনকে সরাসরি চাপের মুখে আনতে পারে, যাতে তারা ইরানের ওপর প্রভাব বিস্তারে ভূমিকা রাখে।

ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষক মারিও নওফাল মনে করেন, এই সংঘাত ধীরে ধীরে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান পরিস্থিতি থেকে যুক্তরাষ্ট্র-চীন উত্তেজনার দিকে এগোচ্ছে, যা সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দিক।

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ সন্দীপ উন্নিথান বলেন, পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে চীন সমুদ্রপথে তেলবাহী জাহাজে নিরাপত্তা দিতে নৌ এসকর্ট মোতায়েন করতে পারে। গালফ অব এডেন এলাকায় চীনের এমন টাস্কফোর্স আগে থেকেই সক্রিয় রয়েছে, ফলে এটি তাদের জন্য নতুন কিছু হবে না।

তবে সামরিক সক্ষমতার দিক থেকে চীনের কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। তাদের কাছে যুদ্ধজাহাজের সংখ্যা যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে বেশি হলেও বিমানবাহী রণতরী, সাবমেরিন সক্ষমতা এবং যুদ্ধক্ষেত্রের বাস্তব অভিজ্ঞতায় যুক্তরাষ্ট্র এখনো এগিয়ে রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, চীন চাইলে মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে গিয়ে তাইওয়ান প্রণালির মতো সংবেদনশীল অঞ্চলেও কৌশলগত চাপ সৃষ্টি করতে পারে, যা সংঘাতকে আরও বিস্তৃত করতে পারে। পাশাপাশি কূটনৈতিক চাপ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক বা আলোচনাও স্থগিত করার মতো পদক্ষেপ নিতে পারে বেইজিং।

বর্তমান পরিস্থিতিতে চীন এখনো সরাসরি কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেয়নি। তবে হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা দীর্ঘায়িত হলে তাদের জ্বালানি স্বার্থ রক্ষায় আরও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা বাড়ছে।