টিকিট সিন্ডিকেট ও হজযাত্রীদের ভোগান্তি বন্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম। তিনি বলেছেন, হজ মৌসুমকে সামনে রেখে যাত্রীসেবায় কোনো ধরনের অনিয়ম বা অব্যবস্থাপনা বরদাশত করা হবে না।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে মানিকগঞ্জ সার্কিট হাউজ মিলনায়তনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা জানান। মন্ত্রী বলেন, পবিত্র হজ পালনে যাওয়া নাগরিকদের যেন সামান্যতম ভোগান্তিতেও পড়তে না হয়, সে জন্য সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিমানের টিকিটকে ঘিরে গড়ে ওঠা অসাধু সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
দায়িত্ব গ্রহণের পর স্বল্প সময় পেলেও কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এর তৃতীয় টার্মিনাল দ্রুত চালু করা সরকারের অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীও বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
আফরোজা খানম বলেন, হজ কার্যক্রমের প্রস্তুতির প্রতিটি ধাপ নিবিড়ভাবে তদারকি করা হবে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রবাসীদের যাতায়াতে স্বস্তি ফেরাতে বিমানবন্দরে সেবার মানোন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। যাত্রীরা দেশে নেমেই ইতিবাচক পরিবর্তন অনুভব করবেন—এ লক্ষ্যেই কাজ চলছে।
মতবিনিময় সভায় জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মহরম আলী, মানিকগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বিশ্বাস, সাধারণ সম্পাদক শাহানুর ইসলাম, সাবেক সভাপতি গোলাম ছারোয়ার ছানু, বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতির জেলা শাখার সাবেক সভাপতি ও যুগান্তর পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার মতিউর রহমান, টেলিভিশন রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি বিএম খোরশেদ, সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল আলম, সম্পাদক পরিষদের সভাপতি শহিদুল ইসলাম সুজন ও সাধারণ সম্পাদক আকরাম হোসেনসহ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
মানিকগঞ্জ-৩ আসন থেকে নির্বাচিত এই সংসদ সদস্য শপথ নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো নিজ এলাকায় এসে উন্নয়নের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, নদীশাসন, নদীকেন্দ্রিক পর্যটনের সম্ভাবনা কাজে লাগানো এবং সাটুরিয়ার ঐতিহ্যবাহী বালিয়াটি জমিদার বাড়ি-সহ বিভিন্ন প্রত্নস্থানের উন্নয়ন পরিকল্পনায় রয়েছে।
এ সময় তিনি তার প্রয়াত পিতা, সাবেক মন্ত্রী হারুনুর রশিদ খান মুন্নু-র অসমাপ্ত স্বপ্ন বাস্তবায়নের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এবং স্থানীয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
পরে তিনি সার্কিট হাউজে জেলা সিনিয়র আইনজীবীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করেন। মানিকগঞ্জের বিভিন্ন সেক্টরের সমস্যা চিহ্নিত করে জনবান্ধব প্রশাসন গড়ে তোলার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। নাগরিকরা যেন কোনো হয়রানি ছাড়াই সরকারি সেবা পান, সে বিষয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
দিনের কর্মসূচির অংশ হিসেবে মন্ত্রী তার প্রয়াত পিতার কবর জিয়ারত করেন এবং দলের সাবেক মহাসচিব ও চিফ হুইপ খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন-এর কবর জিয়ারত করেন। বিকেলে সদর ও সাটুরিয়া উপজেলার বিভিন্ন স্তরের দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়ের কর্মসূচি রয়েছে বলে জানা গেছে।



