ঘরের দেয়ালে টিকটিকি দেখা অনেকের কাছেই খুব সাধারণ ঘটনা। কিন্তু কারও কারও কাছে ছোট এই প্রাণীটিই আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। টিকটিকি দেখামাত্র চিৎকার করা, ঘর ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়া কিংবা শরীরে অস্বস্তি তৈরি হওয়া—এসবের পেছনে শুধু বিরক্তি নয়, মানসিক কিছু কারণও থাকতে পারে।
আজ বিশ্ব লিজার্ড দিবস। এ উপলক্ষে জানা যাক, টিকটিকিকে ঘিরে মানুষের মনে এত ভয় তৈরি হয় কেন।
লিজার্ড বলতে কী বোঝায়?
লিজার্ড বা গিরগিটি জাতীয় সরীসৃপ একটি বিশাল প্রাণীগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত। সাধারণত এদের চারটি পা থাকে, বাইরের দিকে কানের ছিদ্র দেখা যায় এবং চোখের পাতা নড়াচড়া করতে পারে। তবে প্রজাতিভেদে এসব বৈশিষ্ট্যের ব্যতিক্রমও রয়েছে।
বিশ্বজুড়ে লিজার্ডের হাজার হাজার প্রজাতি রয়েছে। ঘরের টিকটিকি ছাড়াও গিরগিটি, তক্ষক, গুইসাপ, ইগুয়ানা, স্কিংক ও কোমোডো ড্রাগন এ গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত। জীবিত লিজার্ডদের মধ্যে আকারে সবচেয়ে বড় হলো কোমোডো ড্রাগন।
তবে কুমির বা অ্যালিগেটরকে লিজার্ড বলা যায় না। তারা আলাদা ধরনের সরীসৃপ।
টিকটিকি দেখলে ভয় লাগে কেন?
ঘরের টিকটিকি সাধারণত মানুষের জন্য বিপজ্জনক নয়। তারা সাধারণত মানুষকে আক্রমণ করে না এবং বিষধরও নয়। তারপরও অনেকের কাছে টিকটিকির উপস্থিতি তীব্র ভয় বা অস্বস্তি তৈরি করতে পারে।
এর একটি কারণ হলো টিকটিকির হঠাৎ ও দ্রুত চলাফেরা। দেয়ালে স্থির থাকার পর মুহূর্তের মধ্যেই এটি দ্রুত এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় চলে যেতে পারে। এই অনিশ্চিত আচরণ অনেকের মস্তিষ্কে স্বাভাবিকভাবেই সতর্কতার প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে।
এ ছাড়া টিকটিকির চেহারা, শরীরের গঠন ও চলাফেরাও কারও কারও কাছে অস্বস্তিকর মনে হতে পারে। ফলে টিকটিকি দেখার সঙ্গে সঙ্গে ভয়, ঘৃণা বা আতঙ্কের অনুভূতি তৈরি হয়।
শৈশবের অভিজ্ঞতাও দায়ী হতে পারে
ছোটবেলার কোনো ভয়ংকর অভিজ্ঞতা পরবর্তী জীবনে টিকটিকির প্রতি ভয়ের কারণ হয়ে উঠতে পারে। যেমন—শরীরের ওপর হঠাৎ টিকটিকি পড়ে যাওয়া, খুব কাছ থেকে সেটিকে দ্রুত ছুটতে দেখা কিংবা অন্য কাউকে টিকটিকির কারণে আতঙ্কিত হতে দেখা।
পরিবারের সদস্যদের আচরণও শিশুর ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। বাবা-মা বা কাছের কাউকে টিকটিকি দেখলেই ভয় পেতে দেখলে শিশুর মনেও প্রাণীটিকে বিপজ্জনক হিসেবে মনে হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
কখন এটিকে ফোবিয়া বলা যায়?
কোনো নির্দিষ্ট প্রাণী বা বস্তুর প্রতি অস্বাভাবিক ও অতিরিক্ত ভয়কে ফোবিয়ার সঙ্গে যুক্ত করা হয়। টিকটিকিকে ঘিরে ভয়ও কখনো এতটাই তীব্র হতে পারে যে তা দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেলতে শুরু করে।
যেমন, ঘরে টিকটিকি দেখলে আতঙ্কে বাইরে চলে যাওয়া, ওই ঘরে ঢুকতে না চাওয়া কিংবা ভয় সামলাতে না পারা—এসব যদি নিয়মিত ঘটতে থাকে, তাহলে বিষয়টি সাধারণ অস্বস্তির চেয়ে বেশি হতে পারে।
এ ধরনের ভয় জীবনযাত্রায় সমস্যা তৈরি করলে মনোবিদ বা মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উপকারী হতে পারে। প্রয়োজন অনুযায়ী কাউন্সেলিং ও আচরণভিত্তিক থেরাপির মাধ্যমে অতিরিক্ত ভয় নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
অর্থাৎ, টিকটিকিকে ভয় পাওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। তবে ভয় যখন স্বাভাবিক জীবনযাপনে বাধা হয়ে দাঁড়ায়, তখন সেটিকে গুরুত্ব দিয়ে কারণ বোঝা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নেওয়াই সবচেয়ে ভালো।



