ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল সংঘাতের মূল লক্ষ্য এখন তেলক্ষেত্র। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেলক্ষেত্র এবং অবকাঠামোতে হামলা চালাচ্ছে, এবং জবাবে ইরানও উপসাগরীয় অঞ্চলে হামলা চালাচ্ছে।
শুক্রবার ইরানের খার্গ দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের ভয়াবহ হামলার পর, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, ইরানের অন্যান্য দ্বীপও লক্ষ্য হতে পারে। জবাবে ইরান সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও ওমান পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনাগুলোতে হামলা চালাচ্ছে। ইরানের আধা সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, দুবাইয়ের জেবেল আলি বন্দর, আবু ধাবি খলিফা বন্দর এবং ফুজাইরাহ বন্দরের আশেপাশের এলাকাগুলো দ্রুত খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ অঞ্চলগুলোতে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি থাকায় সেগুলো বৈধ লক্ষ্য হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।
ইরানের হামলার ফলে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহতে একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনায় আগুন ধরে যায়। ভিডিওতে দেখা গেছে, শহরের আকাশে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠছে। আমিরাতের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ড্রোন ধ্বংসের পরে ধ্বংসাবশেষে আগুন লেগেছে। ফুজাইরাহ বন্দর হরমুজ প্রণালির ঠিক বাইরে অবস্থিত এবং আঞ্চলিক তেল বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
ইরানি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের বাহিনী ক্রমেই অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করছে। এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ইসরাইল ও উপসাগরীয় প্রতিবেশী দেশে তীব্র হামলার সক্ষমতা রাখে এবং হরমুজ প্রণালিতে তেল সরবরাহের পথে বাধা সৃষ্টি করছে।
যুক্তরাষ্ট্র এই যুদ্ধে ২৫০০ স্থল সেনা মোতায়েন করেছে। জাপানের ওকিনাওয়া বন্দর থেকে ৩১তম মেরিন এক্সপেডিশনাল ইউনিটের সেনারা উভচর আক্রমণকারী জাহাজ ইউএসএস ত্রিপোলিতে করে যুদ্ধক্ষেত্রে পৌঁছাবে। ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিতে তেল সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে অংশীজনদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, তবে সাড়া তেমন নেই।
ইরানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, খার্গ দ্বীপ থেকে তেল রপ্তানি স্বাভাবিকভাবে চলছে এবং তেল কোম্পানিগুলোর কার্যক্রম বিঘ্নহীন। তবে যুক্তরাষ্ট্র সতর্ক করেছে, যদি ইরান হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ রাখে, তবে গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনাগুলো পরবর্তী লক্ষ্য হতে পারে। ইরানি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যৌথ হামলার পর থেকে দেশজুড়ে ৩৬,৫০০ বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে বেশির ভাগ আবাসিক ইউনিট এবং জনসেবাকেন্দ্র।
খার্গ ও কিশ দ্বীপ ছাড়াও আবু মুসা দ্বীপকে ঘিরে ইরানি সেনাবাহিনী প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও আহভাজেও স্থল সেনা মোতায়েনের বিষয়টি বিবেচনায় আসছে, কারণ এই অঞ্চলে দেশের অধিকাংশ তেল ও গ্যাস উত্তোলন হয়।
ইরানে হামলার পর সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ বন্দরে আগুন নিয়ন্ত্রণে সিভিল ডিফেন্স কাজ করছে। এ পর্যন্ত হতাহতের খবর নেই।
একই সময়ে, ১৯৭৯ সালের বিপ্লবে ক্ষমতাচ্যুত ইরানের শেষ শাহর নির্বাসিত পুত্র রেজা পাহলভি জানিয়েছেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্রের পতনের পর তিনি ক্ষমতা হস্তান্তরে নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত। তিনি ট্রানজিশনাল সিস্টেমের জন্য দেশের ভেতর ও বাইরে বিভিন্ন ব্যক্তি বাছাই করছেন।
মধ্যপ্রাচ্যে এই তেলক্ষেত্র কেন্দ্রিক হামলা ও পাল্টা হামলার ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল এবং অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে।



