চব্বিশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক ঘটনাপ্রবাহকে ধারণ করে শিল্পীদের আঁকা চিত্রকর্ম প্রজন্মের পর প্রজন্ম দেশের শিল্প-সংস্কৃতিতে স্মৃতি ও ইতিহাসের ধারক হয়ে থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।
সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর চত্বরে ‘বিস্মৃতির বিরুদ্ধে স্মৃতি’ শীর্ষক দিনব্যাপী আর্ট ক্যাম্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
জাদুঘরের মহাপরিচালক এহসান মাহমুদের উদ্যোগে এ আর্ট ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।
সময়ের ইতিহাস ক্যানভাসে তুলে ধরছেন শিল্পীরা
নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, যেকোনো সৃষ্টির সঙ্গে নির্দিষ্ট সময় ও প্রেক্ষাপটের সম্পর্ক রয়েছে। সেই সময়ই অনেক ক্ষেত্রে নির্ধারণ করে দেয় শিল্প-সাহিত্য ও সংস্কৃতির সৃষ্টির ধরন। একুশের ভাষা আন্দোলন ও উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থানের সময় যেমন শিল্প-সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে বিশেষ আবহ তৈরি হয়েছিল, তেমনি ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানও বাংলাদেশের ইতিহাসে গভীর তাৎপর্যপূর্ণ একটি অধ্যায়।
সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, হাজার হাজার ছাত্র-জনতা ও মেহনতি মানুষের ওপর নির্যাতন এবং নির্বিচার গুলিবর্ষণের পর ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে বিজয় অর্জিত হয়। সে সময় মানুষের মধ্যে যে জাগরণ তৈরি হয়েছিল এবং ঢাকার মানুষ যেভাবে রাস্তায় নেমে এসেছিল, সেই সময় ও ঘটনাপ্রবাহকে উপজীব্য করেই শিল্পীরা ক্যানভাসে রং তুলেছেন।
তিনি বলেন, শিল্পীদের কোনো নির্দিষ্ট বিষয় বেঁধে দেওয়া হয়নি। তাঁরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিজেদের অনুভূতি ও অভিজ্ঞতার আলোকে সেই সময়কে চিত্রকর্মে ফুটিয়ে তুলেছেন। এসব সৃষ্টি আগামী প্রজন্মের কাছে কালোত্তীর্ণ হয়ে দেশের শিল্প-সংস্কৃতির চর্চায় স্থায়ীভাবে বহমান থাকবে।
ইতিহাস সংরক্ষণে শিল্পচর্চার গুরুত্ব
আর্ট ক্যাম্পের সাফল্য কামনা করে সংস্কৃতিমন্ত্রী এ ধরনের উদ্যোগের গুরুত্ব সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরতে উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান।
২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের রক্তাক্ত স্মৃতি, আত্মত্যাগের ইতিহাস এবং ছাত্র-জনতার সাহসিকতাকে ক্যানভাসে জীবন্ত করে তোলার লক্ষ্য নিয়ে এ আর্ট ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়। এতে দেশের প্রবীণ ও উদীয়মান তরুণ চিত্রশিল্পীরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের মহাপরিচালক এহসান মাহমুদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।



