বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. মোহাম্মদ শফিকুর রহমান বলেছেন, তিনি জামায়াতের নয়—বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চান। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে এগারো দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থীদের ভোট দিয়ে বিজয়ী করার আহ্বান জানান তিনি।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রাম নগরীর বন্দর স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ডা. শফিকুর রহমান।
তিনি বলেন, “চট্টগ্রামের মানুষ সমুদ্রের ঢেউ ও জলোচ্ছাসকে ভয় পায় না। যারা ভয়কে জয় করেছে, তারাই ১২ তারিখেও জয়ী হবে। ওই দিন নতুন ইতিহাস রচিত হবে।”
তিনি ‘হ্যাঁ’ ভোটকে বিজয়ী করতে এবং এগারো দলীয় ঐক্যের প্রার্থীদের নিজ নিজ প্রতীকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “চট্টগ্রাম শুধু বন্দর নগরী বা বাণিজ্যিক রাজধানী নয়, এটি সংগ্রাম ও প্রতিরোধের রাজধানী। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার ঘোষণা এখান থেকেই দেওয়া হয়েছিল।” এ সময় তিনি এলডিপির চেয়ারম্যান ড. অলি আহমদের অবদানের কথাও স্মরণ করেন।
চট্টগ্রামকে ‘গর্বের চট্টলা’ হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করে জামায়াত আমীর বলেন, “কিছু মানুষ যুগ যুগ ধরে চট্টগ্রাম বন্দরকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করেছে। ভবিষ্যতে আর সে সুযোগ দেওয়া হবে না। জনগণের বন্দর জনগণেরই থাকবে।”
দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার বিষয়ে তিনি বলেন, “এই দেশের প্রতি ইঞ্চি মাটি পাহারা দেওয়া আমাদের দায়িত্ব। আধ ইঞ্চি জমিও কাউকে দেওয়া হবে না। কোনো আধিপত্যবাদ বাংলাদেশে মানা হবে না।”
ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘ ১৫ বছর জামায়াতে ইসলামী নির্যাতিত হলেও ধৈর্য ধরে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় ভূমিকা রেখেছে। অথচ একটি মহল চাঁদাবাজি, দখলদারি ও সহিংসতায় লিপ্ত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “আমাদের মা-বোনদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এসবের প্রতিবাদ করায় আমার নামে জঘন্য অপপ্রচার চালানো হয়েছে। আমরা আল্লাহকে সাক্ষী রেখে বলছি—এ ধরনের নোংরা চিন্তা আমাদের নেই।”
তরুণ সমাজের ভূমিকাকে গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, “দেশের ছাত্রসমাজ দুর্নীতিবাজ ও চাঁদাবাজদের লাল কার্ড দেখিয়েছে। ভয় দেখিয়ে গণজোয়ার থামানো যাবে না।”
তিনি জানান, জামায়াত যুবসমাজকে বেকার ভাতা দিয়ে নয়, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দেশ গড়ার কারিগর হিসেবে গড়ে তুলতে চায়।
জনসভায় সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের আমীর নজরুল ইসলাম। এতে আরও বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ এবং এগারো দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের বিভিন্ন আসনের প্রার্থীরা।
এর আগে ডা. শফিকুর রহমান মহেশখালী, কক্সবাজার, লোহাগাড়া ও সীতাকুণ্ডে পৃথক চারটি নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দেন।



