tanaka

এশিয়ান গেমস • কাবাডিতে কোরিয়া বধের পর বাংলাদেশের চোখ পদকে

এশিয়ান গেমসে পুরুষ কাবাডিতে দক্ষিণ কোরিয়াকে হারিয়েছে বাংলাদেশ। শক্তিশালী দক্ষিণ কোরিয়াকে হারিয়ে লাল-সবুজ দল এখন তাকিয়ে আছে দিনের দ্বিতীয় ম্যাচের দিকে। বিকেলে চাইনিজ তাইপেকে...
প্রচ্ছদজাতীয়জানুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে ঢাকায় আসতে পারেন নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত

জানুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে ঢাকায় আসতে পারেন নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রাষ্ট্রদূত হিসেবে সিনেটের অনুমোদন পাওয়া অভিজ্ঞ কূটনীতিক ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন আগামী জানুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে ঢাকায় পৌঁছাতে পারেন। তার দায়িত্ব গ্রহণের প্রস্তুতিমূলক কাজ চলমান রয়েছে বলে ঢাকায় অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র কালবেলাকে নিশ্চিত করেছে।

গত সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে মনোনয়ন দেন। অক্টোবরে সিনেটের শুনানি শেষে তার মনোনয়ন অনুমোদিত হয়। সিনেটের অনুমোদন পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম লিংকডইনে দেওয়া এক পোস্টে ক্রিস্টেনসেন বলেন,
‘বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রদূত হিসেবে সিনেটের অনুমোদন পেয়ে আমি সম্মানিত। এ জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রাষ্ট্রদূতের আগমন বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। তারা মনে করছেন, দেশে বিদ্যমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। নতুন রাষ্ট্রদূত পরিস্থিতি মূল্যায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশকে কূটনৈতিক সহায়তা দিতে সক্ষম হবেন।

উল্লেখ্য, ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ রাষ্ট্রদূত ছিলেন পিটার হাস। তিনি ২০২২ সালের মার্চে ১৭তম রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং দুই বছর চার মাস দায়িত্ব পালন শেষে গত বছরের ২২ জুলাই ঢাকা ত্যাগ করেন। তার বিদায়ের পর চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত (চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসন।

ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন যুক্তরাষ্ট্রের ফরেন সার্ভিসের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এবং সিনিয়র ফরেন সার্ভিসের কাউন্সেলর র‌্যাংকের সদস্য। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, তিনি ২০১৯ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকবিষয়ক কাউন্সেলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া ২০২২ সালের আগস্ট থেকে চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত তিনি যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্র্যাটেজিক কমান্ড (ইউএসস্ট্র্যাটকম)-এর কমান্ডারের বৈদেশিক নীতি উপদেষ্টা ছিলেন।

এর আগে তিনি ম্যানিলা, সান সালভাদর, রিয়াদ এবং হো চি মিন সিটিতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করেছেন। তিনি ন্যাশনাল ওয়ার কলেজ থেকে ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্ট্র্যাটেজিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

সিনেটের শুনানিতে ক্রিস্টেনসেন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া, মানবাধিকার, রোহিঙ্গা সংকট, আসন্ন নির্বাচন এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন,
‘যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ গঠনে পাশে থাকবে এবং বাণিজ্য বাধা কমিয়ে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে কাজ করবে।’

ঢাকায় অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের এক কর্মকর্তা কালবেলাকে জানান, যুক্তরাষ্ট্র মূলত একটি স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন প্রত্যাশা করে, যাতে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া পুনরুদ্ধার হয় এবং মানবাধিকার সুরক্ষিত থাকে। তিনি বলেন, ক্রিস্টেনসেনের বক্তব্যে স্পষ্ট যে যুক্তরাষ্ট্র একটি স্থিতিশীল সরকার চায়, যা আঞ্চলিক প্রভাব মোকাবিলা করতে সক্ষম হবে এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখবে।

ওই কর্মকর্তা আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র চায় না কোনো চরমপন্থি বা র‌্যাডিক্যাল উপাদান মূলধারায় প্রবেশ করে দেশের স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত করুক। ফলে নতুন রাষ্ট্রদূতের অভিজ্ঞতা ও সক্রিয় ভূমিকার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র নির্বাচন পর্যবেক্ষণ, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক পাঠানো এবং প্রয়োজনে কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগে আরও সক্রিয় হতে পারে। এতে বর্তমান সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি হলেও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফেরাতে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।

এ ছাড়া বাংলাদেশে চলমান প্রতিশোধমূলক রাজনীতি (রিভেঞ্জ পলিটিক্স) এবং অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায়ও নতুন রাষ্ট্রদূত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।