মানুষ আর মানুষ। মানুষের ভারে যেন ন্যুব্জ হয়ে পড়েছে রাজধানী ঢাকা। প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসছে রাজধানীমুখী। কেউ আসছেন চাকরির সন্ধানে, কেউ শিক্ষা ও চিকিৎসার জন্য, আবার কেউ ব্যবসা-বাণিজ্য কিংবা উন্নত জীবনযাপনের আশায়। ফলে ঢাকার ওপর বাড়ছে জনসংখ্যার চাপ। সেই চাপ সামাল দিতে গিয়ে আবাসন, পরিবহন, চিকিৎসা, শিক্ষা, পানি, পয়ঃনিষ্কাশন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা—প্রায় প্রতিটি নাগরিক সেবাই পড়ছে বাড়তি চাপে।
হাঁটার জায়গা সংকুচিত হচ্ছে, স্বস্তিতে শ্বাস নেওয়ার সুযোগও কমছে। যানজট, জলাবদ্ধতা, বায়ুদূষণ ও আবাসন সংকট এখন রাজধানীবাসীর নিত্যসঙ্গী। অথচ দেশের রাজধানী শহরে প্রকৃতপক্ষে কত মানুষের বসবাস—এর সুনির্দিষ্ট হিসাব নিয়েও রয়েছে বিভ্রান্তি। কারণ ঢাকার জনসংখ্যা নির্ধারণে প্রশাসনিক সীমানা, সিটি করপোরেশন ও বৃহত্তর নগর সমষ্টির সংজ্ঞা এক নয়।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে মোট জনসংখ্যা প্রায় ১ কোটি ২৮ লাখ। এর মধ্যে ঢাকা উত্তরে ৫৯ লাখ ৭৯ হাজার ৫৩৭ এবং দক্ষিণে ৪২ লাখ ৯৯ হাজার ৩৪৫ জন। অন্যদিকে, জাতিসংঘের ‘ওয়ার্ল্ড আরবানাইজেশন প্রসপেক্টস ২০২৫’-এ ঢাকাকে বৃহত্তর শহুরে এলাকা বা নগর সমষ্টি হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। সেই হিসাবে ২০২৫ সালে ঢাকার জনসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ৬৫ লাখ ৮৫ হাজারে।
অর্থাৎ, কোন সংজ্ঞায় ‘ঢাকা’কে বিবেচনা করা হচ্ছে, তার ওপরই জনসংখ্যার হিসাব ব্যাপকভাবে বদলে যাচ্ছে। প্রশাসনিক সীমানায় এক হিসাব, আর বৃহত্তর নগরাঞ্চল বিবেচনায় আরেক হিসাব। ফলে ঢাকায় প্রকৃতপক্ষে কত মানুষ বসবাস করেন—এ প্রশ্নের উত্তরও একক কোনো পরিসংখ্যানে পাওয়া কঠিন।
২০৫০ সালে ঢাকার জনসংখ্যা ছাড়াতে পারে ৫ কোটি
জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বিশ্বের জনবহুল নগরগুলোর মধ্যে ঢাকার অবস্থান দ্বিতীয়। শীর্ষে রয়েছে ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা, যার জনসংখ্যা ৪ কোটি ১৯ লাখ ১৪ হাজার। তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে জাপানের টোকিও, জনসংখ্যা ৩ কোটি ৩৪ লাখ ১৩ হাজার।
জাতিসংঘের পূর্বাভাস বলছে, ২০৫০ সালে ঢাকার জনসংখ্যা বেড়ে দাঁড়াতে পারে ৫ কোটি ২১ লাখ ২৩ হাজারে। অর্থাৎ ২০২৫ সালের তুলনায় আগামী ২৫ বছরে বৃহত্তর ঢাকা নগর সমষ্টিতে আরও প্রায় ১ কোটি ৫৫ লাখ মানুষ যুক্ত হতে পারে। এতে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার দাঁড়াবে প্রায় ৪২ শতাংশ।
একই সময়ে জাকার্তার জনসংখ্যা ৫ কোটি ১৭ লাখ ৮৪ হাজার এবং টোকিওর জনসংখ্যা ৩ কোটি ৬ লাখ ৫৮ হাজারে দাঁড়ানোর পূর্বাভাস দিয়েছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির তালিকা অনুযায়ী, ২০০০ সালে ঢাকার অবস্থান ছিল নবম। ২০২৫ সালে তা উঠে এসেছে দ্বিতীয় অবস্থানে। আর ২০৫০ সালে ঢাকা বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল নগর হয়ে উঠতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
তবে এই হিসাব বোঝার ক্ষেত্রে একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। জাতিসংঘের ২০২৫ সালের নতুন নগরায়ণ পদ্ধতিতে শুধু প্রশাসনিক সীমানার শহর নয়, ধারাবাহিকভাবে বিস্তৃত বৃহত্তর নগরাঞ্চলকে হিসাবের আওতায় নেওয়া হয়েছে। ফলে ঢাকার নগর সমষ্টির জনসংখ্যা সিটি করপোরেশন এলাকার জনসংখ্যার তুলনায় অনেক বেশি।
একই কারণে ঢাকা বিভাগের মোট ৪ কোটি ৪২ লাখ মানুষের হিসাবের সঙ্গে ৩ কোটি ৬৬ লাখের কাছাকাছি ঢাকা নগর সমষ্টির জনসংখ্যাকে এক করে দেখা যাবে না।
প্রতি বর্গকিলোমিটারে ৩৩ হাজারের বেশি মানুষ
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুযায়ী, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে প্রতি বর্গকিলোমিটারে প্রায় ৩০ হাজার ৪৭৪ জন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে প্রায় ৩৯ হাজার ৩৫৩ জন মানুষ বসবাস করেন। দুই সিটি করপোরেশনের আয়তন ও জনসংখ্যা বিবেচনায় নিলে ঢাকার গড় জনঘনত্ব দাঁড়ায় প্রতি বর্গকিলোমিটারে প্রায় ৩৩ হাজার ৬০০ জন।
ঘনবসতির চিত্র আরও প্রকট পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকায়। লালবাগ, বংশাল, গেন্ডারিয়া ও সবুজবাগের মতো এলাকায় প্রতি একরে প্রায় ৭০০ থেকে ৮০০ জন মানুষ বসবাস করেন। ঢাকার কিছু বস্তিতে জনঘনত্ব প্রতি বর্গকিলোমিটারে ২ লাখ ২০ হাজার পর্যন্ত পৌঁছেছে।
শুধু ঢাকার প্রশাসনিক সীমানায় নয়, আশপাশের এলাকাতেও দ্রুত বাড়ছে মানুষের বসতি। শহরমুখী মানুষের এই প্রবণতার চিত্র উঠে এসেছে বিবিএস ও জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের (ইউএনএফপিএ) এক গবেষণায়। গবেষণায় দেখা যায়, ঢাকা ও আশপাশের এলাকা নিয়ে গঠিত মেগাসিটিতে প্রতিদিন গড়ে নতুন করে প্রায় ১ হাজার ৭০০ মানুষ যুক্ত হচ্ছেন।
শিক্ষা-চাকরির টানে ঢাকামুখী মানুষ
ঢাকার ওপর জনসংখ্যার চাপ কীভাবে তৈরি হচ্ছে, তার একটি ছোট চিত্র পাওয়া যায় রাজধানীর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের তথ্যেও।
২০১৪ সালে বিশ্ববিদ্যালয়টির সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগ বিভাগে দুই সেশনে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, দুই সেশনে ভর্তি হয়েছিলেন ২৪ ও ২৮ জন—মোট ৫২ জন। ২০১৮ সালে তাদের অনার্স শেষ হয়।
এই ৫২ শিক্ষার্থীর মধ্যে ৪৭ জনই ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বাইরের বিভিন্ন এলাকা থেকে এসেছিলেন। তাদের মধ্যে ১২ জন পরবর্তী সময়ে দেশের বাইরে চলে যান, সাতজন নিজ এলাকায় ফিরে যান এবং দুজন অন্য শহরে চাকরি করছেন। বাকিরা ঢাকাতেই থেকে গেছেন।
অর্থাৎ শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের মতো সুযোগগুলো ঢাকায় কেন্দ্রীভূত থাকায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মানুষের একটি বড় অংশ পড়াশোনা শেষ করেও রাজধানী ছাড়ছেন না।
‘পপুলেশন গ্রোথ নয়, মূল সমস্যা সক্ষমতার সঙ্গে অসামঞ্জস্য’
‘মেগাসিটি পপুলেশন গ্রোথ ও আরবান প্ল্যানিং’ নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় গবেষণারত আতিউর রহমান সৃজন বলেন, ঢাকার সমস্যা এখন শুধু জনসংখ্যা বৃদ্ধিতে সীমাবদ্ধ নেই; বরং শহরের ধারণক্ষমতা ও অবকাঠামোগত সক্ষমতার সঙ্গে জনসংখ্যা বৃদ্ধির বড় ধরনের অসামঞ্জস্য তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, যে হারে জনসংখ্যা বাড়ছে, সে হারে আবাসন, চলাচল ব্যবস্থা, পানি, পয়ঃনিষ্কাশন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও জনপরিসর তৈরি হচ্ছে না। ফলে উচ্চ ঘনত্বের মেগাসিটি হিসেবে ঢাকায় যানজট, দূষণ, তাপজনিত চাপ ও জীবনযাত্রার মান—সবকিছুর ওপরই বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে।
তার মতে, শুধু ঢাকার সীমানা সম্প্রসারণ করে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। প্রয়োজন ‘পলিসেন্ট্রিক আরবান ডেভেলপমেন্ট’ বা বহুকেন্দ্রিক নগর উন্নয়ন। ঢাকার বাইরে আঞ্চলিক অর্থনৈতিক কেন্দ্র গড়ে তুলে কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা বিকেন্দ্রীকরণ করতে হবে।
একইসঙ্গে ভূমি ব্যবহার পরিকল্পনা, গণপরিবহন, সাশ্রয়ী আবাসন ও পরিবেশগত অঞ্চলগুলোকে একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনতে হবে।
আতিউর রহমান সৃজন আরও বলেন, ঢাকায় বড় ধরনের ভূমিকম্পকেন্দ্রিক দুর্যোগ হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। তাই এখনই ঢাকার ওপর চাপ কমানোর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। গার্মেন্টসহ বড় প্রতিষ্ঠানগুলো ধীরে ধীরে রাজধানীর বাইরে নেওয়ার পরিকল্পনাও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
কৃষিজমিতেও পড়ছে জনসংখ্যার চাপ
জনসংখ্যা বৃদ্ধির প্রভাব শুধু নগর অবকাঠামোতেই সীমাবদ্ধ নেই; এর চাপ পড়ছে কৃষিজমি ও পরিবেশের ওপরও।
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. তাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে সীমিত কৃষিজমির ওপর চরম চাপ তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশের আয়তন অপরিবর্তিত থাকলেও একই জমি থেকে অধিক খাদ্য উৎপাদনের চেষ্টা করতে হচ্ছে।
বিশেষ করে ঢাকার আশপাশের কৃষিজমিতে এর প্রভাব ব্যাপক। আগে যেখানে বছরে এক বা দুটি ফসল উৎপাদিত হতো, সেখানে এখন একই জমিতে তিন থেকে চারটি ফসল বা স্বল্পমেয়াদি সবজি উৎপাদনের চেষ্টা চলছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, অধিক ফলনের এই প্রতিযোগিতায় কৃষিজমিতে অতিরিক্ত কীটনাশক ও রাসায়নিক ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে প্রাকৃতিক বাস্তুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি পানি দূষণও বাড়ছে।
খাদ্যের চাহিদা মেটাতে পতিত জমি ও বনভূমি চাষযোগ্য করার প্রবণতাও বেড়েছে। এর ফলে দেশের মোট বনভূমির পরিমাণ ১০ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন, যা পরিবেশের ভারসাম্যের জন্য বড় ধরনের হুমকি তৈরি করছে।
‘বিকেন্দ্রীকরণের কোনো বিকল্প নেই’
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শাম্মী আক্তার সেতু বলেন, ঢাকায় জনসংখ্যা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হলো আবাসন, চাকরি, চিকিৎসাসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা রাজধানীকেন্দ্রিক হয়ে থাকা। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য নীতিগতভাবে বিকেন্দ্রীকরণের কোনো বিকল্প নেই।
স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রেও ঢাকার ওপর অতিরিক্ত চাপ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে জেলা পর্যায় থেকে রোগীদের চিকিৎসার একপর্যায়ে ঢাকায় পাঠানো হয়। জেলা পর্যায়ে পর্যাপ্ত চিকিৎসক, হাসপাতাল ও প্রয়োজনীয় ডায়াগনস্টিক সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে রাজধানীতে রোগীর চাপ অনেকটাই কমানো সম্ভব।
কর্মসংস্থানকেও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে দেখছেন তিনি। তার মতে, প্রতিটি জেলায় কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো গেলে কাজের সন্ধানে ঢাকায় এসে অনানুষ্ঠানিক খাতে যুক্ত হওয়া মানুষের একটি অংশ নিজ এলাকাতেই কর্মসংস্থানের সুযোগ পেতে পারেন।
তাই ঢাকার ওপর জনসংখ্যার চাপ কমাতে চাকরি, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা জেলা ও আঞ্চলিক পর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়ার ওপর জোর দেন তিনি।
‘ভবিষ্যৎ ভয়ঙ্কর’
নগরপরিকল্পনাবিদ ও স্থপতি ইকবাল হাবিব ঢাকার ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, হকার, অবৈধ ব্যাটারিচালিত যান, ছিনতাই বৃদ্ধি ও অপরিকল্পিত নগরায়ণের মতো সমস্যার পেছনে অন্যতম কারণ হলো শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাণিজ্য ও বিনোদনের মতো প্রায় সব সুযোগকে ঢাকাকেন্দ্রিক করে ফেলা।
তার মতে, সারা দেশের সুষম উন্নয়নকে উপেক্ষা করে সবকিছু রাজধানীকেন্দ্রিক করায় ঢাকার ওপর জনসংখ্যার চাপ ক্রমেই বেড়েছে। একই সময়ে রাজধানীর চারপাশের খাল, জলাধার ও প্রাকৃতিক জলপ্রবাহের পথ দখল ও ধ্বংস করা হয়েছে।
ইকবাল হাবিব বলেন, পৃথিবীর অন্যতম অবাসযোগ্য শহর হিসেবে পরিচিত হওয়ার পরও পরিকল্পিত নগরায়ণের মাধ্যমে ঢাকাকে বাসযোগ্য করে তোলার কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া যায়নি।
তার মতে, ঢাকার ওপর চাপ কমাতে বিকেন্দ্রীকরণের কোনো বিকল্প নেই। সহজ যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলার পাশাপাশি স্থানীয় সরকারকে নিজস্ব সম্পদ কাজে লাগিয়ে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির সক্ষমতা দিতে হবে।
কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো সরকারই নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতির বাইরে গিয়ে এ কাজ কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে পারেনি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ফলে জনস্বাস্থ্য, গণপরিবহন, যানজট ও জলাবদ্ধতার সংকট ক্রমেই প্রকট হচ্ছে। বিশেষ করে জলাধার ও প্রাকৃতিক জলপ্রবাহের পথ ধ্বংসের কারণে ভবিষ্যতে ঢাকা আরও বড় ধরনের জনস্বাস্থ্য সংকটে পড়তে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
ঢাকার ওপর মানুষের এই অব্যাহত স্রোত যদি পরিকল্পিতভাবে নিয়ন্ত্রণ ও বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে সামাল দেওয়া না যায়, তাহলে জনসংখ্যার চাপের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকবে নগরের অবকাঠামোগত সংকট। তখন শুধু বাসযোগ্যতা নয়, রাজধানীর পরিবেশ, জনস্বাস্থ্য ও সামগ্রিক জীবনমান—সবই আরও বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।



