নওগাঁর মহাদেবপুরে চুরির অপবাদে কয়েক ঘণ্টা আটকে রেখে প্রথম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। পরে বাড়ি ফিরে কীটনাশক পান করে অসুস্থ হয়ে পড়ে শিশুটি। পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে পত্নীতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। বর্তমানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে।
নির্যাতনের শিকার শিশু মো. মাফি (৮) উপজেলার সহরাই গ্রামের ওয়াহেদুজ্জামানের ছেলে। সে সহরাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার রাইগাঁ ইউনিয়নের সহরাই গ্রামের মনতাজের দোকানে যায় মাফি। এ সময় দোকানের ক্যাশবাক্সে হাত দেওয়ার অভিযোগে তাকে পাশের একটি ঘরে কয়েক ঘণ্টা আটকে রাখা হয়। অভিযোগ রয়েছে, মনতাজ, তাঁর স্ত্রী নাজমা এবং পাশের কয়েকজন দোকানদার শিশুটিকে বেঁধে মারধর করেন। এ ঘটনায় দোকানঘরের মালিক ও স্থানীয় বাসিন্দা মোনায়েম হোসেন রঞ্জুর বিরুদ্ধেও নির্যাতনে সহায়তার অভিযোগ উঠেছে।
শিশুটিকে আটকে রাখার খবর পেয়ে তাকে ছাড়িয়ে নিতে বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষিকা ও দপ্তরি ফিরোজ ঘটনাস্থলে যান। অভিযোগ অনুযায়ী, এ সময় তাঁদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে সেখান থেকে চলে যেতে বলা হয়।
পরে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বিদ্যালয়ের শিক্ষক আতিয়ার রসুল ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার অনুরোধ জানান। এ সময় মোনায়েম হোসেন রঞ্জুর সঙ্গে তাঁর বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে রঞ্জু ওই শিক্ষককে চোর আখ্যা দিয়ে চুরির টাকা তাঁর কাছে রয়েছে বলে অভিযোগ করেন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, দুপুর থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত শিশুটিকে আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতন করা হয়। শিশুটির শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলেও তাঁরা জানান।
পরে বাড়িতে ফিরে শিশুটি কীটনাশক পান করে অসুস্থ হয়ে পড়ে। বিষয়টি বুঝতে পেরে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে বলে জানা গেছে।
অভিযোগের বিষয়ে মোনায়েম হোসেন রঞ্জু বলেন, খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে নির্যাতনের শিকার শিশুটিকে তার অভিভাবকের হাতে তুলে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। ওই শিক্ষকের সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে কিছুটা ধাক্কাধাক্কি হয়েছে বলেও স্বীকার করেন তিনি।
মহাদেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওমর ফারুক জানান, এ ঘটনায় শিশুটির বাবা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শিশুটিকে নির্যাতনের অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চলছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দায় নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ হবে।



