tanaka

এশিয়ান গেমস • কাবাডিতে কোরিয়া বধের পর বাংলাদেশের চোখ পদকে

এশিয়ান গেমসে পুরুষ কাবাডিতে দক্ষিণ কোরিয়াকে হারিয়েছে বাংলাদেশ। শক্তিশালী দক্ষিণ কোরিয়াকে হারিয়ে লাল-সবুজ দল এখন তাকিয়ে আছে দিনের দ্বিতীয় ম্যাচের দিকে। বিকেলে চাইনিজ তাইপেকে...
প্রচ্ছদসারাদেশঘুস না পেয়ে অন্তঃসত্ত্বা নারীকে মারধরের অভিযোগ এসআইয়ের বিরুদ্ধে

ঘুস না পেয়ে অন্তঃসত্ত্বা নারীকে মারধরের অভিযোগ এসআইয়ের বিরুদ্ধে

কক্সবাজারের চকরিয়ায় ঘুস না দেওয়ায় এক অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ কয়েকজনকে মারধর এবং বাদীকে তুলে নিয়ে জোরপূর্বক স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) ফারুক হোসেনের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে মাতামুহুরী তদন্ত কেন্দ্র এলাকায়।

বুধবার (৮ এপ্রিল) ভুক্তভোগী মোহাম্মদ রফিক (৪৫) কক্সবাজারের পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তিনি ঘটনার বিচার ও প্রতিকার দাবি করেছেন।

অভিযোগে বলা হয়, বিরোধপূর্ণ একটি জমিতে পুলিশের উপস্থিতিতে প্রতিপক্ষকে ঘর নির্মাণে সহায়তা এবং জবরদখলে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটে। এতে অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ অন্তত চারজন আহত হন।

জানা যায়, চকরিয়ার পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়নের মধ্যম চরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা রফিকের সঙ্গে স্থানীয় আবু তাহের গংদের বসতভিটার জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ বিষয়ে একটি মামলা চকরিয়া সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে বিচারাধীন। গত ৩ এপ্রিল প্রতিপক্ষ জমি দখলের চেষ্টা করলে রফিক জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল দেন। অভিযোগ রয়েছে, ঘটনাস্থলে গিয়ে এসআই ফারুক কাজ বন্ধ করালেও ‘খরচ’ বাবদ ৩ হাজার টাকা নেন।

রফিকের দাবি, পরে বিষয়টি মীমাংসার কথা বলে এসআই ফারুক তার কাছে এক লাখ টাকা ঘুস দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে প্রতিপক্ষের পক্ষ নেন।

গত ৭ এপ্রিল সকাল ১০টার দিকে এসআই ফারুকের উপস্থিতিতে প্রতিপক্ষ পুনরায় জমি দখলের চেষ্টা করলে রফিকের পরিবার বাধা দেয়। এ সময় অভিযোগ অনুযায়ী, এসআই ফারুক রফিকের ছোট ভাইয়ের স্ত্রী, ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা শিফা জান্নাতকে পেটে লাথি মারেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। এছাড়া রফিকের স্ত্রী পিংকি আক্তার ও বোন শারমিন আক্তারকেও মারধর করা হয়। আহতরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন।

রফিক জানান, ঘটনার পর তাকে জোর করে গাড়িতে তুলে মাতামুহুরী তদন্ত কেন্দ্রের সামনে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে লাঠি দিয়ে মারধর করা হয় এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে ১০০ টাকার তিনটি খালি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয়।

আহত শিফা জান্নাত বলেন, “ভাসুরকে ধরে নিয়ে যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে এসআই ফারুক আমার পেটে লাথি মারেন। আমি তখন মাটিতে পড়ে যাই।”

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত এসআই ফারুক হোসেন। তিনি বলেন, রফিক আদালতের কোনো আদেশ দেখাতে পারেননি, তাই প্রতিপক্ষকে কাজ চালিয়ে যেতে বলা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রফিককে তদন্ত কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছিল। তিনি স্বীকার করেন, “রাগের মাথায় একটি লাঠির আঘাত করা হয়েছিল।”

মাতামুহুরী তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ হিমেল হাসান জানান, ঘটনার সময় তিনি অফিসে ছিলেন না। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এএনএম সাজিদুর রহমান বলেন, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে। প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।