চুলকে দ্রুত কোমল ও চকচকে দেখাতে অনেকেই ঘরোয়া বিভিন্ন উপাদান ব্যবহার করেন। এর মধ্যে মেথি ও ডিম বেশ জনপ্রিয়। তবে চুলকে মসৃণ, নরম ও ঝলমলে দেখানোর ক্ষেত্রে কাঁচা ডিমের তুলনায় ভেজানো মেথি তুলনামূলকভাবে বেশি কার্যকর হতে পারে।
মেথির দানা সারারাত পানিতে ভিজিয়ে রাখলে তা পিচ্ছিল ও জেলির মতো হয়ে যায়। এই উপাদান চুলের ওপর একটি মসৃণ আবরণ তৈরি করে প্রাকৃতিক কন্ডিশনারের মতো কাজ করতে পারে। এতে চুলের বাইরের স্তর বা কিউটিকল কিছুটা মসৃণ হয় এবং আলো সমানভাবে প্রতিফলিত হওয়ায় চুলকে আরও চকচকে দেখায়।
অনেক সময় চুলের জট, রুক্ষতা ও ছোট ছোট চুল উঁচু হয়ে থাকার কারণে পছন্দের সাজ নষ্ট হয়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে অনেকে হেয়ার স্পা করান। এতে সাময়িকভাবে চুল নরম হলেও কয়েক দিন পর আবার আগের অবস্থায় ফিরে আসতে পারে। তাই ঘরোয়া পরিচর্যায় মেথি বা ডিমের মতো উপাদান ব্যবহারের প্রবণতা রয়েছে।
তবে কোনটি বেশি কার্যকর— এ নিয়ে অনেকেরই প্রশ্ন থাকে। চুলকে মসৃণ, কোমল ও চকচকে দেখানো যদি মূল লক্ষ্য হয়, তাহলে ভেজানো মেথি এগিয়ে থাকতে পারে। কারণ এর পিচ্ছিল উপাদান চুলের ওপর মসৃণ আবরণ তৈরি করে।
মেথির হেয়ার মাস্ক
মেথির দানায় বিভিন্ন উদ্ভিজ্জ রাসায়নিক উপাদান রয়েছে এবং দীর্ঘদিন ধরে চুলের পরিচর্যায় এটি ব্যবহার হয়ে আসছে। দানা সারারাত পানিতে ভিজিয়ে রাখলে তা নরম ও জেলির মতো হয়ে যায়। এরপর মেথি বেটে পেস্ট তৈরি করে হেয়ার মাস্ক হিসেবে ব্যবহার করা যায়।
মেথির তৈরি এই মিশ্রণ চুলে প্রাকৃতিক কন্ডিশনারের মতো কাজ করতে পারে। ব্যবহারের পর চুল ধুয়ে নিলে তা তুলনামূলকভাবে নরম ও মসৃণ হতে পারে এবং আঁচড়ানোও সহজ হয়।
চুলের বাইরের স্তর বা কিউটিকল যতটা মসৃণ থাকে, আলো তত সমানভাবে প্রতিফলিত হয়। ফলে চুল দেখতে আরও উজ্জ্বল ও চকচকে লাগে।
ডিমের হেয়ার মাস্ক
ডিমে প্রোটিন ও বিভিন্ন অ্যামিনো অ্যাসিড রয়েছে। এ কারণে চুলের যত্নে ব্যবহৃত বিভিন্ন পণ্যে প্রোটিন উপাদান দেখা যায়। ডিমে থাকা বায়োটিন ও ভিটামিন এ, ডি ও ই শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহ করে।
তবে ডিম খেয়ে শরীর যে পুষ্টি পায়, কাঁচা ডিম সরাসরি চুলে লাগালে একই ধরনের উপকার পাওয়া যায় না। পাশাপাশি কাঁচা ডিমের হেয়ার মাস্ক ব্যবহার করলেই ক্ষতিগ্রস্ত চুলের গঠন মেরামত হয়ে যাবে— এমন নির্ভরযোগ্য প্রমাণও নেই।
তাই চুলকে সাময়িকভাবে নরম, মসৃণ ও চকচকে দেখানোর জন্য ঘরোয়া পরিচর্যায় মেথি ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে চুল পড়া, অতিরিক্ত রুক্ষতা বা মাথার ত্বকের কোনো সমস্যা দীর্ঘদিন থাকলে শুধু ঘরোয়া টোটকার ওপর নির্ভর না করে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া ভালো।



