tanaka
প্রচ্ছদসারাদেশগোয়েন্দা প্রতিবেদনে সহিংসতার নেপথ্যে শীর্ষ সন্ত্রাসীদের মদদের তথ্য, বড় অভিযানের ভাবনা

গোয়েন্দা প্রতিবেদনে সহিংসতার নেপথ্যে শীর্ষ সন্ত্রাসীদের মদদের তথ্য, বড় অভিযানের ভাবনা

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রতিক হামলা ও সহিংসতার ঘটনায় শীর্ষ সন্ত্রাসীদের মদদ এবং অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের তথ্য পেয়েছে গোয়েন্দারা। এসব ঘটনার আড়ালে থেকে একটি পক্ষ পরিস্থিতি আরও অস্থিতিশীল করে সরকারকে বেকায়দায় ফেলার চেষ্টা করছে বলেও গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

গোয়েন্দা তথ্যের বরাত দিয়ে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সামনে জনজীবনে আরও বড় ধরনের ঘটনা ঘটিয়ে দেশের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা হতে পারে। বিষয়টি সরকারকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। পরিস্থিতি যেদিকে যাচ্ছে, তাতে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে যৌথ অভিযানের বিকল্প নেই বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র যুগান্তরকে এসব তথ্য জানিয়েছে।

পুরোনো কৌশলেই শীর্ষ সন্ত্রাসীরা

সূত্রের দাবি, ক্ষমতার পালাবদল ও রাজনৈতিক পরিবর্তন হলেও দখলদারি এবং আধিপত্য বিস্তারে শীর্ষ সন্ত্রাসীদের ব্যবহারের পুরোনো কৌশল এখনো বদলায়নি। রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয় এবং পুরোনো বিরোধকে কাজে লাগিয়ে এসব অপরাধী আড়াল থেকে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে কলকাঠি নাড়ছে।

সাম্প্রতিক কয়েকটি হামলার ঘটনায় বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের নাম আলোচনায় এলেও গোয়েন্দা অনুসন্ধানে এসব ঘটনার গভীরে পুরোনো শীর্ষ সন্ত্রাসীদের বিভিন্ন পরিকল্পনার বিষয়টি উঠে এসেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ‘অপারেশন ক্লিন হার্ট’-এর আদলে বড় ধরনের কোনো অভিযান পরিচালনা করা যায় কি না, তা নিয়ে সরকার চিন্তাভাবনা করছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বিষয়টি প্রাথমিক পর্যায়ে আলোচনা চলছে। উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে পর্যালোচনার পরই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

কঠোর অবস্থানে যাওয়ার প্রস্তুতি পুলিশের

পুলিশ সদর দপ্তরও বলছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও কঠোর অবস্থানে যেতে হবে। অপরাধীদের কোনো ধরনের ছাড় না দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে।

ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও ইন্ধনদাতাদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। তদন্তে যাদের নাম আসছে, তাদেরই গ্রেফতার করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, অপরাধীদের ধরতে পোশাকধারী পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) যৌথভাবে নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে। এসব অভিযান আরও জোরদার করা হবে।

ডিএমপি কমিশনার আরও বলেন, নতুন করে যেসব অপরাধী মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে, তাদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

নেপথ্যের ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার তাগিদ

সাবেক আইজিপি নূরুল হুদা যুগান্তরকে বলেন, সাম্প্রতিক অপরাধমূলক ঘটনাগুলো কারা ঘটাচ্ছে এবং কী উদ্দেশ্যে ঘটাচ্ছে—এসব বিষয়ে এরই মধ্যে সুনির্দিষ্ট তথ্য বেরিয়ে এসেছে।

তার মতে, প্রতিটি ঘটনা ধরে নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা গেলে পরিস্থিতি সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসা সম্ভব।

নূরুল হুদা বলেন, ‘পরাজিত শক্তি সব সময়ই সরকারকে বেকায়দায় ফেলার জন্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করে।’

তিনি বলেন, বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই সরকারকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে কঠোর অবস্থান নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।