tanaka

ভরিতে সোনার দাম বাড়লো ২১৫৮ টাকা

দেশের বাজারে সোনার গহনার দাম বাড়ানো হয়েছে। সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) সোনার গহনার দাম বাড়ানো হয়েছে...
প্রচ্ছদআন্তর্জাতিকগাজামুখী শত শত অধিকারকর্মীকে ফেরত পাঠাল ইসরায়েল

গাজামুখী শত শত অধিকারকর্মীকে ফেরত পাঠাল ইসরায়েল

গাজায় ত্রাণ পৌঁছে দিতে যাওয়া নৌবহরে অভিযান চালিয়ে আটক করা শত শত আন্তর্জাতিক অধিকারকর্মীকে ফেরত পাঠিয়েছে ইসরায়েল। আটক কর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগে বিশ্বজুড়ে সমালোচনার মুখে পড়ে দেশটি।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, তুরস্কে বৃহস্পতিবার দিনভর নৌবহরের বহু অংশগ্রহণকারী ইস্তাম্বুল বিমানবন্দরে পৌঁছান। তাদের কেউ ফিলিস্তিনি কেফিয়াহ গলায় জড়িয়ে শান্তির প্রতীক হিসেবে আঙুল তুলে ধরেন। ফিলিস্তিনি পতাকা হাতে সমর্থকেরা তাদের স্বাগত জানান।

তুরস্ক সরকার জানিয়েছে, বিশেষ ফ্লাইটে মোট ৪২২ জনকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে ৮৫ জন তুরস্কের নাগরিক। দেশে ফেরার পর তাদের জন্য চিকিৎসক দল ও অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখা হয়।

ফ্রান্সের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ৩৭ জন ফরাসি নাগরিক ছিলেন। এছাড়া কয়েকজন স্প্যানিশ অধিকারকর্মী তুরস্ক হয়ে মাদ্রিদে পৌঁছেছেন। জর্ডানও জানিয়েছে, তাদের দুই নাগরিক ইসরায়েলের দক্ষিণ সীমান্তপথ দিয়ে দেশে ফিরেছেন।

এর আগে ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ওরেন মারমোরস্টেইন বলেন, “প্রচারমূলক এই নৌবহরের সব বিদেশি কর্মীকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। গাজার ওপর বৈধ নৌ অবরোধ ভাঙার সুযোগ দেওয়া হবে না।”

ফিলিস্তিনিদের অধিকারবিষয়ক আইনি সংস্থা আদালাহ আল জাজিরাকে জানায়, প্রায় ৪৩০ জন আটক অধিকারকর্মীর বেশিরভাগকে দক্ষিণ ইসরায়েলের রামোন বিমানবন্দর দিয়ে ফেরত পাঠানো হয়েছে। বাকিদের পাঠানো হয়েছে তেল আবিবের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দর হয়ে।

নৌযাত্রায় প্রথমবার অংশ নেওয়া ৫৭ বছর বয়সী বেলজিয়ান নাগরিক জুলিয়েন কাবরাল ইস্তাম্বুলে পৌঁছানোর পর তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়। চোখের নিচে কালশিটে দাগ ও কপালে ক্ষত নিয়ে তিনি বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, নৌবহরে অভিযানের সময় এক ইসরায়েলি নৌসেনা সদস্য তাকে ঘুষি মারে।

তিনি অভিযোগ করেন, আটক প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে অধিকারকর্মীদের চড়-থাপ্পড়, গালাগালি এবং মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। খাবার, পানি ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসামগ্রী পেতেও তাদের বারবার অনুরোধ করতে হয়েছে। আহতদের চিকিৎসা সুবিধাও দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

অন্যদিকে, ইতালীয় সাংবাদিক আলেসান্দ্রো মানতোভানি জানান, তাদের হাতকড়া ও পায়ে শিকল পরিয়ে বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে নেওয়া হয়। পরে এথেন্সগামী বিমানে তোলা হয়। তিনি বলেন, “তারা আমাদের লাথি ও ঘুষি মেরেছে। এরপর বলেছে— ‘ইসরায়েলে স্বাগতম।’”

সর্বশেষ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় গাজামুখী বৈশ্বিক সংহতি নৌবহরের শেষ অংশটিও আটকে দেয় ইসরায়েলি বাহিনী। আন্তর্জাতিক জলসীমা দিয়ে গাজার দিকে যাওয়া ৫০টির বেশি নৌকার বহর থামিয়ে দেওয়া হয়।

ইসরায়েলের এই অভিযানের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বিভিন্ন দেশ। স্পেন, ব্রাজিল ও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ ১০টি দেশের মন্ত্রীরা একে আন্তর্জাতিক আইন ও মানবিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছেন।

এদিকে, কট্টর ডানপন্থি ইসরায়েলি জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গাভির বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করলে বিতর্ক আরও বাড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, হাত বাঁধা অবস্থায় মেঝেতে হাঁটু গেড়ে বসে থাকা অধিকারকর্মীদের বিদ্রূপ করছেন তিনি।

ঘটনার জেরে ফ্রান্স, কানাডা, স্পেন, পর্তুগাল ও নেদারল্যান্ডসসহ কয়েকটি দেশ তাদের রাজধানীতে ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতদের তলব করে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়েছে। একই সময়ে ইউরোপীয় কাউন্সিলের সভাপতি আন্তোনিও কস্তা বেন গাভিরের আচরণে ‘স্তম্ভিত’ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে একে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেন।