বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া-কে বাংলাদেশের রাজনীতিতে দেশপ্রেম ও সাহসিকতার এক অনন্য প্রতীক হিসেবে অভিহিত করেছেন বিএনপি মহাসচিব ও সংসদ সদস্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, “দীর্ঘ ৪৩ বছরের রাজনৈতিক জীবনে তিনি গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার প্রশ্নে কখনোই কারও সঙ্গে আপস করেননি।”
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) জাতীয় সংসদে শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে তিনি বেগম জিয়ার নেতৃত্বে গৃহীত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরেন।
বক্তব্যের শুরুতে মির্জা ফখরুল ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে জীবন উৎসর্গকারী তরুণদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, “আমাদের তরুণরা একটি সত্যিকারের গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রাণ দিয়েছে। তাদের আত্মত্যাগ কখনোই বৃথা যেতে দেওয়া হবে না।” মেয়েদের অবৈতনিক শিক্ষা ও নারী ক্ষমতায়নের ভিত্তি তিনিই গড়েছিলেন। প্রাথমিক শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করা, উন্মুক্ত ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এবং বেসরকারি খাতে বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিক্যাল কলেজের অনুমতি ছিল তার দূরদর্শী সিদ্ধান্ত।’
কৃষি ও অর্থনীতিতে বেগম জিয়ার অবদান তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘কৃষকদের ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ মওকুফ এবং ২৫ বিঘা পর্যন্ত জমির খাজনা মাফ করে তিনি গ্রামবাংলার মানুষের ভাগ্য বদলে দিয়েছিলেন। তার হাত ধরেই মুক্তবাজার অর্থনীতি ও স্বনির্ভর অর্থনীতির যাত্রা শুরু হয়েছিল।বক্তব্যের এক পর্যায়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কবি আল মাহমুদের লেখা একটি কবিতার পঙক্তি উদ্ধৃত করে বেগম জিয়ার ব্যক্তিত্ব বর্ণনা করেন।
তিনি আবৃত্তি করেন—
‘জনতাই প্রতিশ্রুতি হেঁটে যায় আমাদের গন্তব্যের আহ্বানে,
মাটি জন্ম দিল এক প্রশস্ত বন্ধু…
কখনো ভুলো না কেন তোমার কুণ্ঠায় আছে মানুষের আশার মানুষ।’
মির্জা ফখরুল বলেন, “কারামুক্ত হওয়ার পর বেগম খালেদা জিয়া কোনো প্রতিহিংসা নয়, বরং ঐক্যের ডাক দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘আসুন, আমরা ভালোবাসার বাংলাদেশ গড়ে তুলি।’” বিএনপি মহাসচিব স্পিকারকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘বেগম জিয়ার এই দর্শনই আমাদের আগামীর পথ চলার প্রেরণা।



