গাজীপুরের সিফাত আব্দুল্লাহ নামে এক ব্যক্তিকে আটকের ঘটনায় প্রশ্ন তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক নেত্রী ডা. তাসনিম জারা। তার প্রশ্ন, ক্ষমতাসীনদের গালিগালাজ করা কি সন্ত্রাস হিসেবে গণ্য হবে?
তাসনিম জারা বলেন, সিফাতের ভাষা ভদ্র ছিল না—এ নিয়ে বিতর্কের কিছু নেই। তবে তাকে অভদ্রতার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়নি। তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়েছে। তাই গালিগালাজের কারণে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
ঘটনার সূত্রপাত, গাজীপুরের সিফাত আব্দুল্লাহ তার বাসায় অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল আসছে—এমন অভিযোগ তুলে প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের গালিগালাজ করে ফেসবুকে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তাকে আটক করা হয়। পরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা মামলায় তাকে গাজীপুরের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে এ ঘটনায় নিজের প্রতিক্রিয়া জানান তাসনিম জারা।
‘গালি দেওয়া কি সন্ত্রাস?’
পোস্টে তাসনিম জারা লেখেন, ‘সিফাতের ভাষা ভদ্র ছিল না। এটা নিয়ে তর্ক করার কিছু নাই। কিন্তু প্রশ্নটা ভদ্রতার নয়। কারণ সিফাতকে অভদ্রতার জন্য গ্রেফতার করা হয়নি। মামলা দেওয়া হয়েছে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে। তাহলে গালি দেওয়া কি সন্ত্রাস?’
তিনি আরও বলেন, যারা সিফাতের গ্রেফতারের বিরোধিতা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখছেন, তাদের অনেকের মন্তব্যেও গালিগালাজ দেখা যাচ্ছে। অথচ একই ব্যক্তিরা সিফাত গালিগালাজ করেছে বলেই তাকে আটক করা যৌক্তিক বলে মন্তব্য করছেন।
তাসনিম জারা বলেন, ‘আয়রনি হলো, তারা নিজেরাই গালি দিয়ে সেটা বলছেন। এবং তাদের কোনো ভয় নাই। কারণ তারা জানেন গালিটা তারা কাকে দিচ্ছেন, আর কাকে দিচ্ছেন না।’
‘ক্ষমতাসীন কাউকে গালি দিলে সেটা অপরাধ?’
তাসনিম জারা তার পোস্টে রাজনৈতিকভাবে ক্ষমতাসীন ও ক্ষমতার বাইরে থাকা ব্যক্তিদের সমালোচনার ক্ষেত্রে ভিন্ন আচরণের অভিযোগও তোলেন।
তিনি লেখেন, ‘অর্থাৎ ক্ষমতাসীন কাউকে গালি দিলে সেটা অপরাধ, ক্ষমতায় না থাকা কাউকে দিলে সেটা গ্রহণযোগ্য।’
এ প্রসঙ্গে তিনি বিদ্যুৎ বিল বা সরকারি সেবা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশের ক্ষেত্রেও নাগরিকদের জন্য কোনো সীমা নির্ধারণ করা আছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
তিনি বলেন, কী লেখা, কী আঁকা কিংবা বিলের কাগজ হাতে নিয়ে কী বলা হলে পুলিশ রাতে দরজায় হাজির হবে না—এমন একটি তালিকা দেওয়া উচিত। তার ভাষায়, জনগণ সেই তালিকা মেনে চলবে।
‘সিফাতকে অবিলম্বে মুক্তি দিন’
পোস্টের শেষ দিকে তাসনিম জারা সিফাত আব্দুল্লাহকে দ্রুত মুক্তি দেওয়ার দাবি জানান। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহার এবং কথা বলার কারণে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের যেসব ধারা ব্যবহার করা যেতে পারে, সেগুলো সংশোধনের আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, ‘সিফাতকে অবিলম্বে মুক্তি দিন। মামলা প্রত্যাহার করুন। আর সন্ত্রাসবিরোধী আইনের যে ধারাগুলো কথা বলার বিরুদ্ধে ব্যবহার করা যায়, সেগুলো সংশোধন করুন।’
তাসনিম জারার এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সিফাত আব্দুল্লাহর আটকের ঘটনায় মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, আইন প্রয়োগের সীমা এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইনের প্রয়োগ নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।



