tanaka
প্রচ্ছদআন্তর্জাতিকবিয়ের অনুষ্ঠানে মার্কিন হামলাকে ‘যুদ্ধাপরাধ’ বলল ইরান

বিয়ের অনুষ্ঠানে মার্কিন হামলাকে ‘যুদ্ধাপরাধ’ বলল ইরান

ইরানের সামরিক স্থাপনা ধ্বংসের উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের চালানো নতুন হামলাকে ঘিরে দেশটিতে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ইরানের সিরিক কাউন্টিতে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে মার্কিন হামলার অভিযোগ উঠেছে। এতে আনন্দের অনুষ্ঠান মুহূর্তেই পরিণত হয় শোকের মিছিলে।

ইরানি সংবাদমাধ্যমের বরাতে বিবিসি জানিয়েছে, বিয়ের অনুষ্ঠানে চালানো ওই হামলায় অন্তত চারজন নিহত এবং ৬৭ জন আহত হয়েছেন। ঘটনাটিকে ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে ইরান।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, নিরপরাধ মানুষের ওপর এ ধরনের হামলা আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফও এ ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁর অভিযোগ, সংঘাতের সময় যুক্তরাষ্ট্র বারবার শিশু ও সাধারণ মানুষকে লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে।

তবে ইরানের এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র টিম হকিন্স বলেন, তারা এ খবর সম্পর্কে অবগত এবং বিষয়টি তদন্ত করে দেখছেন। তিনি দাবি করেন, মার্কিন বাহিনী কখনোই ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্য করে হামলা চালায় না।

এদিকে হোয়াইট হাউসে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের প্রশংসা করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, মার্কিন বাহিনী গত রাতে ইরানকে ‘খুব শক্ত আঘাত’ করেছে। প্রয়োজন হলে যেকোনো সময় আবারও হামলা চালানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানান তিনি।

ট্রাম্প আরও দাবি করেন, মার্কিন সেনাবাহিনী কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রেখেছে। একই সঙ্গে ইরানের রাডার ও সমুদ্রপথে মাইন স্থাপনের সক্ষমতা ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

এমনকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হরমুজ প্রণালির নাম পরিবর্তন করে ‘ট্রাম্প প্রণালি’ করার ইঙ্গিতও দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

ইরানের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে বেসামরিক মানুষের হতাহতের ঘটনা সংঘাতকে আরও ভয়াবহ করে তুলছে। অন্যদিকে ওয়াশিংটন বলছে, তাদের লক্ষ্য সামরিক স্থাপনা এবং বেসামরিক মানুষকে ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়নি। ফলে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও হুমকিতে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।

সূত্র: বিবিসি