দেশে ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থাকে আরও সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ করতে ক্রেডিট কার্ড সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ ও হালনাগাদ নীতিমালা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। রোববার (১৫ মার্চ) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধান ও নীতি বিভাগ থেকে এ নির্দেশনা জারি করা হয়। নতুন নীতিমালায় ক্রেডিট কার্ডের বিপরীতে ঋণ নেওয়ার সর্বোচ্চ সীমা দ্বিগুণ করা হয়েছে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এখন থেকে গ্রাহকরা ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ৪০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা পাবেন। প্রযুক্তিগত অগ্রগতি ও গ্রাহকদের ক্রমবর্ধমান চাহিদার কথা বিবেচনায় রেখে ২০০৪ সালের পুরোনো নীতিমালা বাতিল করে এ আধুনিক নির্দেশিকা কার্যকর করা হয়েছে।
ঋণসীমার ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন এনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, জামানতবিহীন বা অনিরাপদ ক্রেডিট কার্ড ঋণের সর্বোচ্চ সীমা এখন ২০ লাখ টাকা, যা আগে ছিল ১০ লাখ টাকা। অন্যদিকে, তরল জামানতের বিপরীতে ঋণের সীমা ২৫ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ৪০ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
তবে কোনো গ্রাহকের ক্রেডিট সীমা নির্ধারণের আগে তার আয়, বিদ্যমান ঋণের পরিমাণ এবং সামগ্রিক আর্থিক সক্ষমতা কঠোরভাবে মূল্যায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ব্যাংকগুলোকে। পাশাপাশি কোনো গ্রাহকের একাধিক ব্যাংকের কার্ড থাকলে তার সামগ্রিক ঋণসীমা বিবেচনায় নিয়ে নতুন সীমা কার্যকর করতে হবে।
নতুন নীতিমালায় ক্রেডিট কার্ডের সুদের হারও নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে ক্রেডিট কার্ডের বার্ষিক কার্যকর সুদের হার কোনোভাবেই ২৫ শতাংশের বেশি হতে পারবে না। এছাড়া সুদ আরোপ করা হবে শুধুমাত্র বকেয়া পাওনার ওপর, মোট বিলের ওপর নয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিল পরিশোধ করলে গ্রাহকরা আগের মতোই সুদমুক্ত সময় বা গ্রেস পিরিয়ডের সুবিধা পাবেন।
তবে কেনাকাটার ক্ষেত্রে সুদমুক্ত সুবিধা থাকলেও ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে নগদ অর্থ উত্তোলনের ক্ষেত্রে এই সুবিধা প্রযোজ্য হবে না। গ্রাহকরা তাদের মোট ক্রেডিট সীমার সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত অর্থ নগদে উত্তোলন করতে পারবেন।
গ্রাহক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে নতুন নীতিমালায় বেশ কিছু কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কার্ড সচল করার আগে ব্যাংকগুলো কোনো ধরনের মাশুল বা সার্ভিস চার্জ কেটে নিতে পারবে না। বিল পরিশোধে বিলম্ব হলে শুধুমাত্র একবারই বিলম্ব ফি আরোপ করা যাবে।
এছাড়া সুদের হার বা অন্য কোনো চার্জ পরিবর্তন করলে অন্তত ৩০ দিন আগে কার্ডধারীকে লিখিত বা ইলেকট্রনিক মাধ্যমে জানাতে হবে। পাওনা টাকা আদায়ের ক্ষেত্রে কোনো ব্যাংক বা রিকভারি এজেন্ট গ্রাহককে মানসিক বা শারীরিক হয়রানি কিংবা হুমকি দিতে পারবে না। এমনকি এ ধরনের যোগাযোগ বা ফোনকল শুধুমাত্র অফিস সময়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখতে হবে।
কার্ড পাওয়ার যোগ্যতার ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, আবেদনকারীর বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হবে এবং তার হালনাগাদ ই-টিন সনদ ও পরিষ্কার সিআইবি রিপোর্ট থাকতে হবে। তবে ১৬ বছর বয়সী শিক্ষার্থীরা প্রধান কার্ডধারীর অধীনে সম্পূরক বা সাপ্লিমেন্টারি কার্ড ব্যবহার করতে পারবে।
নিরাপত্তা জোরদারে প্রতিটি লেনদেনে দুই স্তরের নিরাপত্তা যাচাই (টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন) এবং তাৎক্ষণিক এসএমএস ও ই-মেইল সতর্কবার্তা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। একটি নিরাপদ, দক্ষ ও স্বচ্ছ ক্যাশলেস পেমেন্ট ব্যবস্থা গড়ে তুলতেই এ যুগোপযোগী নীতিমালা কার্যকর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।



