tanaka

মেরুল বাড্ডায় রাজউকের দেড় হাজার কোটি টাকার জমি ২১ বছর ধরে দখলে

রাজধানীর মেরুল বাড্ডায় রাজউকের প্রায় ১১ একর জমি দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে দখলে রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। জমিটির বাজারমূল্য প্রায় ১ হাজার ৬৫০ কোটি টাকা। একই জমিকে ঘিরে প্রায় ছয় হাজার মানুষের কাছ থেকে ৩০০ কোটি টাকা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
প্রচ্ছদরাজনীতিকেন বিএনপি ছেড়ে জামায়াত জোটে এলডিপি, ব্যাখ্যা দিলেন অলি আহমদ

কেন বিএনপি ছেড়ে জামায়াত জোটে এলডিপি, ব্যাখ্যা দিলেন অলি আহমদ

বিএনপির দীর্ঘদিনের জোটসঙ্গী লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোটে যোগ দিয়েছে। রোববার (২৮ ডিসেম্বর) বিকাল ৫টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের তৃতীয়তলার আবদুস সালাম হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান জামায়াতে ইসলামীর আমির।

এর আগে শনিবার এলডিপির প্রেসিডিয়াম সদস্যদের দীর্ঘ বৈঠক শেষে সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানান দলের সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ।

দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক মিত্র বিএনপিকে ছেড়ে কেন জামায়াত জোটে যোগ দিল এলডিপি—এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা চলছে। এলডিপির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, আসন সমঝোতা না হওয়ায় আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াত জোটে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে কর্নেল অলি আহমদ বলেন, আসন সমঝোতার জন্য ১৪ জনের একটি শর্টলিস্ট দেওয়ার পরও বিএনপি আলোচনায় বসেনি। তিনি জানান, ওই তালিকা থেকে কাউকে দিতেই হবে—এমন কোনো শর্ত ছিল না।

এলডিপির দাবি, তারা বিএনপিকে অনুরোধ করেছিল শর্টলিস্ট থেকে অন্তত ৮ থেকে ১০ জন প্রার্থী বিবেচনায় নিতে, যাতে দলটি রাজনৈতিকভাবে টিকে থাকতে পারে।

কর্নেল অলি অভিযোগ করে বলেন, বিএনপির মহাসচিবের নেতৃত্বে গঠিত সাত সদস্যের কমিটির সঙ্গে এলডিপির কোনো আনুষ্ঠানিক বৈঠক হয়নি। এলডিপির নেতারা দুই ঘণ্টা বিএনপি কার্যালয়ে অপেক্ষা করলেও আলোচনা হয়নি; কেবল অনানুষ্ঠানিকভাবে কয়েকজনের সঙ্গে একক কথা বলা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, শর্টলিস্টটি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের কাছে পাঠানো হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

এলডিপির অভিযোগ, তাদের রাজনৈতিকভাবে অবমূল্যায়ন করা হয়েছে। কর্নেল অলি বলেন, “বিএনপি যেখানে শত শত আসনে প্রার্থী দিয়েছে, সেখানে আমাদের মাত্র একটি কার্যকর আসন দেওয়া হয়েছে। এটি আমাদের জন্য চরম অবমূল্যায়নের শামিল।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের দল চান্দাবাজি করে না। দলের নেতারাই নিজেদের অর্থ ব্যয় করে এত বছর দল চালিয়েছেন। অথচ শেষ পর্যন্ত দেখা গেল ছাগল আর গরুর দাম এক করে দেখা হচ্ছে।”

এলডিপির দাবি, বিএনপির সংকটকালে তারা পাশে থাকলেও দীর্ঘ সময় ধরে বিএনপির পক্ষ থেকে কোনো যোগাযোগ রাখা হয়নি।

সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে একক নির্বাচন

বিএনপির সঙ্গ ত্যাগের সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে কর্নেল অলি জানান, প্রায় চার ঘণ্টাব্যাপী এক বৈঠকের শেষে দলের তৎকালীন মহাসচিব ড. রিদওয়ান আহমদ প্রস্তাব দেন—এলডিপি আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এককভাবে অংশ নেবে। বৈঠকে উপস্থিত সব প্রেসিডিয়াম সদস্য এ প্রস্তাবে একমত হন এবং লিখিতভাবে সিদ্ধান্তে স্বাক্ষর করেন। তবে পরবর্তীতে ড. রিদওয়ান আহমদ বিএনপিতে যোগ দিয়ে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেন।