গত মে মাসে ভারতীয় প্রতিরক্ষা বাহিনীর সামরিক অভিযান ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর ফলে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির তথ্য প্রথমবারের মতো স্বীকার করেছে পাকিস্তান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও উপপ্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার জানান, এ অভিযানে পাকিস্তানের নূর খান বিমান ঘাঁটি গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
রোববার রাজধানী ইসলামাবাদে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ইসহাক দার বলেন, “মাত্র ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে ভারত নূর খান বিমান ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ৮০টি বিস্ফোরকবাহী ড্রোন নিক্ষেপ করে। পাকিস্তানের এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম এর মধ্যে ৭৯টি ড্রোন ভূপাতিত করতে সক্ষম হলেও একটি আটকানো সম্ভব হয়নি।”
তিনি আরও বলেন, নূর খান বিমান ঘাঁটিতে ভারতের হামলা ছিল একটি কৌশলগত ভুল। এই হামলার পরই পাকিস্তান পাল্টা সামরিক অভিযান ‘অপারেশন বুনিয়ান উম মারসুস’ শুরু করার সিদ্ধান্ত নেয়।
উল্লেখ্য, এর আগে অপারেশন সিঁদুরে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি পাকিস্তান সরকারের কোনো মন্ত্রী। ইসহাক দারের এই বক্তব্যে স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলছে যে, এ বিষয়ে ইসলামাবাদ আগের অবস্থান থেকে সরে এসেছে। রাজধানী ইসলামাবাদ থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত নূর খান বিমান ঘাঁটিকে পাকিস্তান বিমান বাহিনীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ইসহাক দার আরও জানান, পাকিস্তান কখনোই ভারতকে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানায়নি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ১০ মে ভোরে নূর খান বিমান ঘাঁটিতে হামলার পর সকাল ৮টা ১৭ মিনিটে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তাকে ফোন করে জানান যে ভারত যুদ্ধবিরতিতে আগ্রহী এবং পাকিস্তানের অবস্থান জানতে চায়।
ইসহাক দার বলেন, “আমি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে জানিয়েছি, পাকিস্তানের যুদ্ধ বাড়ানোর কোনো ইচ্ছা নেই।”



