tanaka
প্রচ্ছদখেলাকেইনের রেকর্ডের রাতেও বায়ার্নকে হারাতে দিল না আর্সেনাল

কেইনের রেকর্ডের রাতেও বায়ার্নকে হারাতে দিল না আর্সেনাল

হ্যারি কেইনের গোল, রেকর্ড আর বায়ার্ন মিউনিখের দাপট—সবকিছুর পরও শেষ হাসি হাসতে পারল না জার্মান ক্লাবটি। ম্যাচের শেষ দিকে ডেকলান রাইসের দুর্দান্ত গোলে বায়ার্নের মাঠে ২-২ ব্যবধানে ড্র করেছে আর্সেনাল। দুইবার পিছিয়ে পড়ার শঙ্কা সামলে মিকেল আর্তেতার দলের এই লড়াই আবারও প্রমাণ করেছে, শেষ বাঁশি বাজার আগে গানারদের হার মানানো সহজ নয়।

টটেনহ্যামের হয়ে খেলার সময় থেকেই আর্সেনালের বিপক্ষে গোল করার অভ্যাস হ্যারি কেইনের। উত্তর লন্ডন ডার্বিতে সর্বোচ্চ ১৪ গোলের মালিক এই ইংলিশ স্ট্রাইকার এবারও নিজের পুরোনো প্রতিপক্ষের বিপক্ষে জ্বলে উঠেছিলেন। তাঁর গোলেই এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছিল বায়ার্ন। কিন্তু ৮২ মিনিটে রাইসের নিখুঁত ফিনিশিং স্বাগতিকদের সেই স্বপ্নে জল ঢেলে দেয়।

সাকার চোটে ধাক্কা, এজের গোলে এগিয়ে আর্সেনাল

অ্যালিয়াঞ্জ অ্যারেনায় শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে দুই দল। তবে ম্যাচের মাত্র ১০ মিনিটে বড় ধাক্কা খায় আর্সেনাল। উরুর চোটের কারণে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন অধিনায়ক বুকায়ো সাকা। তাঁর চোটের ধরন নিয়ে ম্যাচ শেষে উদ্বেগ প্রকাশ করেন কোচ মিকেল আর্তেতা।

তিনি বলেন, ‘তারা বেশ চিন্তিত। তীব্র যন্ত্রণা নিয়ে যখন কোনো খেলোয়াড়কে মাঠ ছাড়তে হয়, তখন তা কখনোই ভালো খবর নয়। আমাদের অপেক্ষা করে দেখতে হবে।’

সাকার বদলি হিসেবে মাঠে নেমেই আক্রমণে প্রভাব রাখেন এবেরেচি এজে। ম্যাচের ২৫ মিনিটে মার্টিন ওডেগার্ডের নিখুঁত পাস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে দারুণ শটে বল জালে পাঠান তিনি। শুরুতে অফসাইডের শঙ্কা দেখা দিলেও ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) পর্যালোচনার পর গোলটি বৈধ ঘোষণা করা হয়। এতে এগিয়ে যায় আর্সেনাল।

কেইনের পাসে সমতা, পেনাল্টিতে নতুন রেকর্ড

আর্সেনালের বিপক্ষে কেইনের গোল করার অভ্যাস যে সহজে বদলানোর নয়, তা আবারও দেখল ফুটবল বিশ্ব। ম্যাচের ৩৫ মিনিটে নিজের অর্ধ থেকে বাড়ানো অসাধারণ এক থ্রু পাসে আলফনসো ডেভিসকে খুঁজে নেন তিনি। সেই আক্রমণ থেকেই সমতায় ফেরে বায়ার্ন।

বিরতির পর দুই দলের গোলরক্ষকদের দক্ষতায় জমে ওঠে লড়াই। বায়ার্নের মানুয়েল নয়ারের অসাধারণ প্রচেষ্টায় ব্রুনো গিমারেসের হেড ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। অন্যদিকে দায়ো উপামেকানোর কাছ থেকে আসা কাছের দূরত্বের হেড ঠেকিয়ে দেন আর্সেনাল গোলরক্ষক ডেভিড রায়া।

এরপর ম্যাচের ৬৯ মিনিটে জুরিয়েন টিম্বারের হ্যান্ডবলের কারণে পেনাল্টি পায় বায়ার্ন। স্পটকিক থেকে ঠান্ডা মাথায় বল জালে জড়িয়ে দলকে এগিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি ব্যক্তিগত রেকর্ডেও নাম লেখান কেইন।

আর্সেনালের বিপক্ষে তাঁর গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ১৬-তে। একই সঙ্গে চ্যাম্পিয়নস লিগে টানা ১০ ম্যাচে গোল করার কীর্তিও গড়েন এই ইংলিশ স্ট্রাইকার। টুর্নামেন্টে টানা ১১ ম্যাচে গোল করার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর রেকর্ড থেকে এখন মাত্র এক ম্যাচ দূরে তিনি।

পেনাল্টি থেকে গোল করার অভিজ্ঞতা নিয়ে ‘টিএনটি স্পোর্টস’কে কেইন বলেন, ‘পেনাল্টি নিয়ে কোনো অনিশ্চয়তা ছিল না। প্রচুর অনুশীলন আর কঠোর পরিশ্রম থাকে এর পেছনে। স্কোরশিটে নাম তুলতে পেরে ভালো লেগেছে। আর্সেনালের বিপক্ষে আমি সব সময়ই পেনাল্টি পাই!’

রাইসের গোলে বায়ার্নের জয়ের স্বপ্নভঙ্গ

কেইনের রেকর্ডের রাতে বায়ার্ন যখন জয়ের অপেক্ষায়, তখনই ম্যাচের চিত্র পাল্টে দেন ডেকলান রাইস। ৮২ মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নামা ভিক্টর গিয়োকারেসের বাড়ানো বল পেয়ে বক্সের কোণ থেকে নিখুঁত শটে জালে পাঠান ইংলিশ মিডফিল্ডার। তাতেই সমতায় ফেরে আর্সেনাল।

নিজেদের মাঠে টানা ৩৯ ম্যাচ অপরাজিত থাকার রেকর্ড ধরে রাখার পাশাপাশি জয়ের স্বপ্ন দেখছিল বায়ার্ন। কিন্তু রাইসের গোলে শেষ পর্যন্ত পূর্ণ তিন পয়েন্ট পাওয়া হয়নি তাদের। অন্যদিকে প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও লড়াই চালিয়ে গিয়ে গুরুত্বপূর্ণ এক পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ে আর্সেনাল।

দলের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে আর্তেতা বলেন, ‘কী এক ম্যাচ হলো! সাম্প্রতিক সময়ে আমরা যত ফুটবল খেলেছি, প্রতিপক্ষের মান ও চাহিদার বিচারে আজকের ম্যাচটি ছিল তার অন্যতম সেরা পর্যায়। ছেলেরা আজ যা করে দেখিয়েছে, তা সত্যিই বিশেষ কিছু।’

অন্যদিকে জয়ের কাছাকাছি গিয়েও পুরো তিন পয়েন্ট না পাওয়ার হতাশা থাকলেও ড্রয়ের ফলকে অযৌক্তিক মনে করেননি কেইন। তাঁর ভাষায়, ‘একটু তো হতাশা আছেই, তবে আপনি যদি পুরো ৯০ মিনিটের দিকে তাকান, তবে এই ড্র একটি একদমই ন্যায্য ফলাফল।’

কেইনের ব্যক্তিগত রেকর্ড আর বায়ার্নের আধিপত্যের মাঝেও শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করেছে আর্সেনালের লড়াকু মানসিকতা। রাইসের শেষ মুহূর্তের গোল তাই শুধু সমতাই ফেরায়নি, বায়ার্নের মাঠে গানারদের দৃঢ়তারও প্রমাণ হয়ে থাকল।