tanaka

চালু হচ্ছে ২০২৭ সালের ডিভি লটারি, আবেদন করতে পারবেন কি বাংলাদেশিরা?

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৭ সালের ডিভি লটারির নিবন্ধন শুরু করতে নির্দেশ দিয়েছেন ফেডারেল আদালত। তবে ২০১২ সাল থেকে অযোগ্য বাংলাদেশিরা এবার আবেদন করতে পারবেন কি না, তা নির্ভর করছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার ওপর।
প্রচ্ছদআন্তর্জাতিকচালু হচ্ছে ২০২৭ সালের ডিভি লটারি, আবেদন করতে পারবেন কি বাংলাদেশিরা?

চালু হচ্ছে ২০২৭ সালের ডিভি লটারি, আবেদন করতে পারবেন কি বাংলাদেশিরা?

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৭ সালের ডাইভারসিটি ভিসা (ডিভি) লটারির নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু করতে নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির একটি ফেডারেল আদালত। তবে নিবন্ধনপ্রক্রিয়া শুরু হলেও বাংলাদেশিরা এতে অংশ নিতে পারবেন কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

বাংলাদেশ ২০১২ সাল থেকেই ডিভি কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার যোগ্যতা হারিয়েছে। ফলে নতুন লটারি নিয়ে আগ্রহ তৈরি হলেও, বাংলাদেশিরা আবেদন করতে পারবেন কি না, তা নির্ভর করছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ও যোগ্য দেশের তালিকার ওপর।

আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী ১ নভেম্বরের মধ্যে ২০২৭ সালের ডিভি লটারির আবেদন গ্রহণ শুরু করতে হবে। এর আগে ২৯ অক্টোবরের মধ্যে নিবন্ধনের সুনির্দিষ্ট সময়সূচি ঘোষণা করতে হবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরকে।

বাংলাদেশে এ খবর প্রকাশের পর অনেকেই আবেদনপ্রক্রিয়া ও যোগ্যতার শর্ত সম্পর্কে জানতে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। তবে বাংলাদেশিদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, আসন্ন লটারিতে বাংলাদেশকে যোগ্য দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে কি না। এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত বাংলাদেশিদের আবেদনের সুযোগ নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

কেন ডিভি লটারিতে অংশ নিতে পারে না বাংলাদেশ?

ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, ২০১২ সাল থেকে বাংলাদেশ ডাইভারসিটি ভিসা কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার যোগ্যতা হারিয়েছে।

২০০৭ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে ৫০ হাজারের বেশি বাংলাদেশি এই কর্মসূচির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন করায় বাংলাদেশকে যোগ্য দেশের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়।

ডিভি কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হলো, যেসব দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনের হার তুলনামূলকভাবে কম, সেসব দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ দেওয়া। এ কর্মসূচির আওতায় প্রতিবছর সর্বোচ্চ ৫৫ হাজার অভিবাসী ভিসা দেওয়ার বিধান রয়েছে। বিশ্বজুড়ে এটি ‘গ্রিন কার্ড লটারি’ নামেও পরিচিত।

ডিভি লটারির বিশেষ সুবিধা কী?

অন্যান্য অনেক কর্মভিত্তিক অভিবাসন প্রক্রিয়ার তুলনায় ডিভি লটারির একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো, এতে আবেদন করার জন্য সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রতিষ্ঠানের চাকরির প্রস্তাব বা নিয়োগকর্তার পৃষ্ঠপোষকতার প্রয়োজন হয় না।

তবে লটারিতে নির্বাচিত হলেই গ্রিন কার্ড পাওয়া নিশ্চিত হয় না। নির্বাচিত আবেদনকারীদের নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা এবং অভিবাসন ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়।

আবেদনের যোগ্যতা কী?

ডিভি লটারিতে অংশ নিতে সাধারণত উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বা সমমানের শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকতে হয়। বিকল্প হিসেবে নির্ধারিত শর্ত পূরণ করে—এমন কোনো পেশায় কাজের অভিজ্ঞতাও গ্রহণযোগ্য হতে পারে।

তবে শিক্ষাগত যোগ্যতা পূরণ করলেই আবেদন করার সুযোগ নিশ্চিত হয় না। সংশ্লিষ্ট বছরের ডিভি কর্মসূচিতে আবেদনকারীর জন্মদেশ যোগ্য দেশের তালিকায় থাকতে হবে এবং অন্যান্য শর্তও পূরণ করতে হবে।

কবে শুরু হবে নিবন্ধন?

ফোর্বসের ১৯ অক্টোবর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৭ সালের ডিভি লটারির নিবন্ধন কার্যক্রম ৩০ দিন পর্যন্ত চালু থাকতে পারে। তবে নিবন্ধন শুরুর চূড়ান্ত তারিখ, আবেদনের সময়সীমা, যোগ্য দেশের তালিকা এবং আবেদনপদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

বাংলাদেশ নতুন করে ডিভি লটারির যোগ্য দেশের তালিকায় ফিরবে কি না, তা নিয়ে আগ্রহ থাকলেও এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিত তথ্য নেই। তাই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত বাংলাদেশিদের আবেদন করার সুযোগ রয়েছে—এমন দাবি করা ঠিক হবে না।

সূত্র: ফোর্বস