tanaka

এশিয়ান গেমস • কাবাডিতে কোরিয়া বধের পর বাংলাদেশের চোখ পদকে

এশিয়ান গেমসে পুরুষ কাবাডিতে দক্ষিণ কোরিয়াকে হারিয়েছে বাংলাদেশ। শক্তিশালী দক্ষিণ কোরিয়াকে হারিয়ে লাল-সবুজ দল এখন তাকিয়ে আছে দিনের দ্বিতীয় ম্যাচের দিকে। বিকেলে চাইনিজ তাইপেকে...
প্রচ্ছদসারাদেশকিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্যে অস্থির চট্টগ্রাম মহানগরী

কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্যে অস্থির চট্টগ্রাম মহানগরী

চট্টগ্রাম মহানগরীর ১৬টি থানার বাসিন্দারা এখন প্রায় ২০০টি কিশোর গ্যাংয়ের দেড় হাজার সদস্যের দাপটে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। এসব গ্যাং খুন, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা ও জমি দখলসহ নানা অপরাধে জড়িত। প্রকাশ্যে লাঠিসোটা, ধারালো অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে মহড়া দেওয়া এবং তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়া তাদের নিত্যদিনের ঘটনা। এসব গ্যাংয়ের নেতৃত্বে রয়েছে ৬৪ জন ‘বদ্দা’ বা বড় ভাই। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ছয় বছরে তারা ৫৫৮টি অপরাধ সংঘটিত করেছে, যা নগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে করেছে অস্থির।

অভিযান চললেও থামছে না অপরাধ। নগর পুলিশের ‘এস ড্রাইভ’ অভিযানে গত ২ মার্চ থেকে ১৬ মার্চ পর্যন্ত ১৪৮ জন কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবুও অপরাধের হার কমেনি। সাধারণত ১০ থেকে ১৫ জন সদস্য নিয়ে গঠিত প্রতিটি গ্যাং স্থানীয় ‘বদ্দা’দের প্রশ্রয়ে পরিচালিত হয়।

নগর পুলিশের এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, স্কুলে অনুপস্থিত থাকা ৫৪ শতাংশ শিক্ষার্থীর বড় অংশই অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। তারা পর্নোগ্রাফি, সাইবার অপরাধ, ছিনতাই, চুরি, মাদক গ্রহণ ও বিক্রি এবং অনলাইন জুয়ার মতো কর্মকাণ্ডে যুক্ত হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রেই স্কুল সময়েই এসব অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে।

র‌্যাব-৭-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. হাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং চাঞ্চল্যকর ঘটনাগুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। যাদের বিরুদ্ধে মামলা ও ওয়ারেন্ট রয়েছে, তাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। একইসঙ্গে অন্যান্য অপরাধ নিয়ন্ত্রণেও র‌্যাব কাজ করছে।

চট্টগ্রাম নগর পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী বলেন, কিশোর গ্যাং দমনে প্রতিদিন অভিযান চলছে এবং প্রতিটি ঘটনার তদন্ত করা হচ্ছে।

সম্প্রতি এসব গ্যাংয়ের সহিংসতার একাধিক ঘটনা ঘটেছে। গত ১৩ এপ্রিল চকবাজারের ডিসি রোড এলাকায় নির্মাণাধীন ভবনের লিফটের গর্তে ফেলে বিএএফ শাহীন কলেজের ছাত্র আশফাক কবীর সাজিদকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় সাতজন কিশোর গ্যাং সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং একজন নিরাপত্তাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এর আগে ৬ এপ্রিল বাকলিয়ায় আদালতে যাওয়ার পথে মিনহাজ উদ্দিন নামে এক যুবদল কর্মীর হাতের কবজি কেটে দেয় দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় কিশোর গ্যাং লিডার মো. সবুজকে পরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

একইভাবে ৪ এপ্রিল বাকলিয়ার মিয়াখান নগরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই কিশোর গ্যাংয়ের মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনায় এক কিশোরসহ চারজন গুলিবিদ্ধ হন। এ ঘটনায় ১৪ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করা হয়েছে।

গত বছরের ১৬ মে হালিশহরে ‘বিংগু’ ও ‘পাইথন’ নামে দুটি কিশোর গ্যাংয়ের দ্বন্দ্বে কলেজছাত্র ওয়াহিদুল হক ওরফে সাব্বির খুন হন। প্রতিশোধমূলক হামলায় ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হওয়ার পর ছয় দিন চিকিৎসাধীন থেকে তিনি মারা যান।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পারিবারিক ভাঙন, অভিভাবকের অনুপস্থিতি এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে বিচ্ছিন্নতা কিশোরদের অপরাধে জড়িয়ে পড়ার প্রধান কারণ। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সাখাওয়াত হোসেন বলেন, অনেক কিশোরই ভাঙা পরিবার থেকে আসা বা অভিভাবকহীন হওয়ায় তারা সহজেই গ্যাংয়ে জড়িয়ে পড়ছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, নগরের স্টেশন রোড, বিআরটিসি মোড়, কদমতলী, চকবাজার, চট্টগ্রাম কলেজ এলাকা, চমেক হোস্টেল, সিআরবি, খুলশি, ফয়স লেক, চান্দগাঁও, আগ্রাবাদ, হালিশহর, বন্দর ও পতেঙ্গাসহ বিভিন্ন এলাকায় সন্ধ্যার পর কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা বেড়ে যায়। মোটরসাইকেল ও সাইকেল ব্যবহার করে তারা ছিনতাই ও মাদক বেচাকেনাসহ বিভিন্ন অপরাধ চালিয়ে যাচ্ছে, যা নগরবাসীর জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।