কালপ্রিটরা মব সৃষ্টি করে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি মো. নুরুল হক নুর।
তিনি বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে এবং গত ১৫ মাসে পরিকল্পিতভাবে কিছু কালপ্রিট দেশের ভেতরে মব তৈরি করে বাংলাদেশকে বিশ্বের কাছে একটি অস্থিতিশীল রাষ্ট্র হিসেবে উপস্থাপন করতে চেয়েছে। একই সঙ্গে তারা রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের উদ্দেশ্যে জাতীয় ঐক্য নষ্ট করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) রাতে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার তল্লা রেললাইন এলাকায় বিএনপির সাবেক চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় আয়োজিত দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।
রাজনৈতিক ও রাষ্ট্র পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের ইঙ্গিত করে ভিপি নূর বলেন, মতের অমিল থাকতেই পারে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কারও প্রোফাইল দেখলেই বোঝা যায় কে কোন দলের সমর্থক। এভাবে বিভাজন তৈরি করে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ সম্ভব নয়। আমরা অতীতের মতো কালো রাজনীতির পরিবেশ আর দেখতে চাই না।
গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি বলেন, দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে একসঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে—যে বাংলাদেশে হানাহানি, সংঘাত ও সহিংসতার স্থান থাকবে না; থাকবে পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ববোধ। তাহলেই বেগম খালেদা জিয়াকে স্মরণ করা সার্থক হবে।
মো. নুরুল হক নুর বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর যে বাংলাদেশের কথা আমরা বলছি, তা গড়তে হলে দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে। এ আহ্বান অতীতেও এসেছিল—৭৫–পরবর্তী অস্থির সময়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কাছ থেকে। তিনি অল্প সময়ে কৃষিতে বিপ্লব ঘটিয়েছিলেন এবং বৈদেশিক কর্মসংস্থানের মাধ্যমে মুসলিম ভ্রাতৃত্ববোধকে জোরদার করেছিলেন।
তিনি আরও বলেন, পরবর্তীতে বেগম খালেদা জিয়া দেশের আপামর মানুষের ভালোবাসা পেয়েছিলেন। বাংলাদেশের স্বার্থে ভারতীয় আধিপত্যবাদ ও আগ্রাসনের প্রশ্নে তিনি ছিলেন দৃঢ় অবস্থানে। তিনি বলেছিলেন, ‘বিদেশে আমাদের কোনো প্রভু নেই, আমাদের বন্ধু আছে।’ গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের প্রশ্নে তিনি আপোষহীন ভূমিকা পালন করেছেন।



