চীনের ৫০টিরও বেশি শীর্ষ কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রতিষ্ঠান এবং শিল্প খাতের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে
কারিগরি শিক্ষার মান ও দক্ষতা বাড়াতে চীনের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদারের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ। এ লক্ষ্যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর, একটি আন্তর্জাতিক সার্ভিস সেন্টার উদ্বোধন এবং তিনটি নতুন প্রাতিষ্ঠানিক প্ল্যাটফর্ম চালু করা হয়েছে।
সম্প্রতি তিন দিনের চীন সফর শেষে এসব তথ্য জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন। সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে আয়োজিত ‘চীন সফর-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে’ তিনি সফরের বিভিন্ন অর্জন তুলে ধরেন। খবর বাসসের।
ড. মাহদী আমিন বলেন, স্বল্প ব্যয়ে মানসম্মত ও কার্যকর কারিগরি শিক্ষা প্রদানের ক্ষেত্রে চীনের আন্তর্জাতিকভাবে সুনাম রয়েছে। সম্প্রতি শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের নেতৃত্বে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল চীন সফর করে। সেখানে দেশটির ৫০টিরও বেশি শীর্ষস্থানীয় কারিগরি ও বৃত্তিমূলক বিশ্ববিদ্যালয়, ইনস্টিটিউট এবং শিল্প খাতের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হলো বাংলাদেশের কারিগরি শিক্ষার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য একটি সুস্পষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি তৈরি করা।’
সফরকালে ‘চীন-বাংলাদেশ ভোকেশনাল এডুকেশন, ট্রেনিং অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার’ প্রতিষ্ঠার বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করা হয়। পাশাপাশি ‘চায়না-বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড এডুকেশন ইন্টিগ্রেশন ইন্টারন্যাশনাল সার্ভিস সেন্টার’ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে।
চালু হয়েছে তিন সহযোগিতা প্ল্যাটফর্ম
বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে কারিগরি শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নে সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করতে তিনটি নতুন প্ল্যাটফর্ম চালু করা হয়েছে। এগুলো হলো—
- চীন-বাংলাদেশ ভোকেশনাল টিচার ট্রেনিং সেন্টার
- বাংলাদেশ ভোকেশনাল এডুকেশন রিসার্চ সেন্টার
- বাংলাদেশ-চাইনিজ ল্যাঙ্গুয়েজ+ স্কিল ডেভেলপমেন্ট সহযোগিতা কেন্দ্র
ড. মাহদী আমিন বলেন, তরুণদের দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত করে দ্রুত কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। এ লক্ষ্যে শিক্ষার্থীদের চীনা ভাষায় দক্ষ করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে তারা দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও আন্তর্জাতিক সংস্থায় কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধা পায়।
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য হলো দক্ষতাকে সরাসরি কর্মসংস্থানে রূপান্তর করা।’
শিক্ষার্থীদের জন্য আন্তর্জাতিক বৃত্তির সুযোগ বাড়ানো, যৌথ ডিগ্রি প্রোগ্রাম চালু এবং তৃতীয় ভাষা হিসেবে চীনা ভাষা শেখার সুযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। এসব উদ্যোগের ফলে বাংলাদেশের তরুণরা বৈশ্বিক শ্রমবাজারে আরও প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান তৈরি করতে পারবে বলে আশা প্রকাশ করেন উপদেষ্টা।
এ ছাড়া চীন থেকে বাংলাদেশে আসা কারিগরি বিশেষজ্ঞ ও শিক্ষকদের ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করতে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান ড. মাহদী আমিন।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়াসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।



