কাপ্তাই-রাঙামাটি সড়কের আগরবাগান এলাকায় একদল বন্যহাতির বিচরণে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন অংশে হাতির দল অবস্থান নেওয়ায় যানবাহন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। পরে বন বিভাগের কর্মীদের তৎপরতায় হাতিগুলো জঙ্গলের দিকে সরে গেলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিকেল ৫টার দিকে আগরবাগান এলাকায় সড়কে বন্যহাতির দলটি দেখা যায়। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত হাতিগুলো কখনো সড়কের এক পাশে, আবার কখনো অন্য পাশে চলাচল করছিল। এতে ওই পথে চলাচলকারী যানবাহনের চালক ও যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়।
খবর পেয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের কাপ্তাই রেঞ্জ কর্মকর্তা মামুনুর রহমান বনকর্মী ও ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিমের (ইআরটি) সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। তারা আতশবাজি, ফাঁকা গুলি ও গাড়ির হর্ন ব্যবহার করে হাতিগুলোকে সড়ক থেকে সরিয়ে বনের দিকে নেওয়ার চেষ্টা করেন।
সড়কে আবারও হাতির উপস্থিতি
একপর্যায়ে হাতির দলটিকে সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়া সম্ভব হলেও কাপ্তাই প্রবেশপথের দিকে আবার একটি বন্যহাতি সড়কে অবস্থান নেয়। এতে পরিস্থিতি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।
পরে পার্বত্য চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এস এম সাজ্জাদ হোসেন ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে বন বিভাগের কর্মকর্তারা ওই অংশে দ্রুত যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেন।
সন্ধ্যার পর চলাচলে নিষেধাজ্ঞার আহ্বান
কাপ্তাই রেঞ্জ কর্মকর্তা মামুনুর রহমান বলেন, সন্ধ্যার পর কাপ্তাই-রাঙামাটি সড়কে বন্যহাতির চলাচল বাড়তে পারে। এ কারণে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সন্ধ্যার পর ওই সড়কে যানবাহন চালানো থেকে বিরত থাকার জন্য সবাইকে সতর্ক করা হচ্ছে।
বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এস এম সাজ্জাদ হোসেনও একই ধরনের সতর্কতা দিয়েছেন। তিনি বলেন, সড়কে বন্যহাতির উপস্থিতির কারণে সন্ধ্যার পর এ পথে চলাচলের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন। ঝুঁকি নিয়ে কেউ যেন সড়কটি ব্যবহার না করেন, সে জন্য স্থানীয়দের সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
বন্যহাতির চলাচল অব্যাহত থাকায় স্থানীয়দের পাশাপাশি এই পথে চলাচলকারী চালক ও যাত্রীদেরও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে বন বিভাগ। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর হাতির মুখোমুখি হলে হর্ন বাজিয়ে বা তাড়া করে পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক না করার বিষয়েও সতর্কতা প্রয়োজন।



