tanaka

তিনবেলা খাবার জুটত না, এখন শাহরুখ সেজে আয় ৫ লাখ রুপি!

একসময় সাইনবোর্ড আঁকাই ছিল জীবিকা নির্বাহের প্রধান অবলম্বন। অনিয়মিত আয়ের কারণে সংসার চালানোও ছিল কঠিন। কিন্তু চেহারায় বলিউড তারকা শাহরুখ খানের সঙ্গে অদ্ভুত মিলই...
প্রচ্ছদজাতীয়কর্মঘণ্টার অপচয়, পাম্প এলাকায় তীব্র যানজট

কর্মঘণ্টার অপচয়, পাম্প এলাকায় তীব্র যানজট

রাজধানীর বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে জ্বালানি তেলের জন্য অপেক্ষা করতে গিয়ে দিন-রাত একাকার হয়ে যাচ্ছে যানবাহন চালক ও মালিকদের। দিন যত যাচ্ছে, তেলপ্রত্যাশীদের দীর্ঘ লাইন আরও বাড়ছে। অনেকেই ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়ে থাকছেন। ফলে একদিকে যেমন মূল্যবান কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে দৈনন্দিন আয়ও কমে যাচ্ছে। এতে পরিবার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন অনেকে। একই সঙ্গে পাম্প ঘিরে সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট, যা আশপাশের সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়িয়ে তুলছে।

শুক্রবার সরেজমিনে রাজধানীর তেজগাঁওয়ের ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশন, শাহবাগের মেঘনা মডেল সার্ভিস এবং পূর্বাচল ট্রেডার্স এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ছুটির দিন হওয়ায় আগের তুলনায় লাইনের দৈর্ঘ্য আরও বেড়েছে। প্রচণ্ড গরমে অপেক্ষমাণ চালকদের অনেকেই হাঁসফাঁস করছেন। কেউ কেউ ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা অপেক্ষা করেও পাম্পের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারছেন না।

শাহবাগ এলাকায় হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে তীব্র যানজট দেখা যায়। মেঘনা মডেল সার্ভিস ও পূর্বাচল ট্রেডার্সে তেল নিতে আসা যানবাহনগুলো ডাবল লাইনে দাঁড় করানোয় সড়কের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ফলে শাহবাগ চত্বর থেকে আসা যানবাহনগুলো পুনরায় একই এলাকায় আটকে পড়ছে। এই পরিস্থিতি শুধু একদিনের নয়, দীর্ঘদিন ধরেই চলছে।

অন্যদিকে তেজগাঁওয়ের ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশন ঘিরে হাজারো চালকের ভিড় দেখা গেছে। মহাখালী থেকে সাতরাস্তা পর্যন্ত দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে রাত কাটাচ্ছেন চালকরা। পাম্প ঘিরে দুটি লেন দখল হয়ে যাওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক সংকুচিত হয়ে পড়েছে, যার প্রভাব পড়ছে পুরো এলাকার যান চলাচলে।

চালকদের অভিযোগ, তেল সংগ্রহে দীর্ঘ সময় ব্যয় হওয়ায় তাদের আয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। বিশেষ করে রাইড শেয়ারিং চালকরা বলছেন, প্রতিদিন ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা লাইনে কাটাতে হওয়ায় যাত্রী পরিবহনের সময় কমে যাচ্ছে। ফলে আগের মতো আয় করা সম্ভব হচ্ছে না।

নিউমডেল ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী মোরশেদ জানান, পড়াশোনার পাশাপাশি চাকরি করেন তিনি। অফিস শেষে রাত ১০টায় লাইনে দাঁড়িয়ে পরদিন দুপুর পর্যন্ত অপেক্ষা করেও পুরোপুরি তেল নিতে পারেননি। একইভাবে পিকআপ চালক খাইরুল আলম বলেন, রাতভর লাইনে কাটিয়েও পরদিন বিকেল পর্যন্ত তেল পাননি। “এখানেই খাওয়া-দাওয়া, এখানেই ঘুম—তেল নিতেই যেন জীবন শেষ,” বলেন তিনি।

রাইডশেয়ার চালক তারেক আজিজ জানান, গত দুই মাসে তার আয় অর্ধেকে নেমে এসেছে। প্রতিদিন কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। তেল পেতেও নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে নিতে হচ্ছে, যা দিয়ে কয়েকদিনের বেশি চলা যায় না।

এদিকে ফুয়েল পাস না থাকায় সাধারণ চালকদের দুর্ভোগ আরও বেশি। অনেকেই ৭-৮ ঘণ্টা অপেক্ষা করে মাত্র ৫০০ টাকার তেল পাচ্ছেন। ফলে একাধিক পাম্প ঘুরে প্রয়োজনীয় জ্বালানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে।

অকটেন সরবরাহ বাড়ানোর চিন্তা

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত মাসের তুলনায় চলতি মাসে অকটেন সরবরাহ কমে যাওয়ায় সংকট আরও বেড়েছে। যদিও দেশে পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে বলে জানা গেছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগামীকাল থেকে অকটেন সরবরাহ ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর চিন্তা করছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)।

বিপিসির চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান জানান, সরবরাহ বাড়ানোর বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে, তবে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।