বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় গত মে মাসে গ্রেফতার হয়েছিলেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ফারিয়া। আকস্মিক এই ঘটনার কারণে শোবিজ অঙ্গনে ছড়িয়েছিল বিস্ময় ও উদ্বেগ। তবে দুই দিনের মধ্যেই জামিনে মুক্তি পান তিনি।
কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর নুসরাত সমর্থন এবং পাশে থাকার জন্য সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছিলেন। এক ফেসবুক পোস্টে তিনি জানিয়েছিলেন, এটি তার জীবনের সবচেয়ে দুঃসহ ও সংবেদনশীল সময় ছিল। এরপর প্রায় চার মাস ধরে এ নিয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি। অবশেষে, হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেফতার প্রসঙ্গে প্রথমবার মুখ খুললেন নুসরাত।
নিউইয়র্কভিত্তিক বাংলা গণমাধ্যম ‘ঠিকানা’-এর বিশেষ অনুষ্ঠান ফ্রাইডে নাইট উইথ জায়েদ খান-এ নুসরাত বলেন, “এ রকম কিছু হবে আশা করিনি। কখনো দুঃস্বপ্নেও ভাবিনি। আমার জীবন সাধারণ—স্কিন কেয়ার, মেকআপ, ঘোরাফেরা, শপিং, পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো। সেই ছোট ছোট খুশির মাঝে এমন জটিলতার মুখোমুখি হওয়া ভীষণ হতাশাজনক।”
তিনি আরও বলেন, “আমি মনে করি, এটাকেই বড় হওয়া বলা যায়। পরিস্থিতি মানুষকে বড় করে। পুরো ঘটনায় আমি মানসিকভাবে অনেক বড় হয়েছি। গ্রেফতারির পর এটি আমার প্রথম সাক্ষাৎকার। আমি আগে কোথাও কথা বলিনি, মানসিকভাবে এখনো পুরোপুরি প্রস্তুত নই।”
নুসরাত জানিয়েছেন, “আমার সঙ্গে যা ঘটেছে, তা অন্য কারো সঙ্গেও হতে পারত। তবে আমি ভাগ্যবান। কাজের মাধ্যমে দেশের মানুষের ভালোবাসা পেয়েছি। আমার পরিবার, বাবা-মা, ভাই-বোন এবং সবাই যার দোয়া ও ভালোবাসার কারণে কঠিন সময় পার করতে পেরেছি।”
জামিনের অল্প কিছুদিনের মধ্যেই তিনি পুনরায় কাজ শুরু করেন। নুসরাত বলেন, “গ্রেফতারির ১০-১৫ দিন পর আমি আবার কাজের মধ্যে ফিরেছি। পুরো ঘটনাটি আমাকে শিখিয়েছে, কোনো কিছুই স্থায়ী নয়। জীবন অস্থির ও অনিশ্চয়তাপূর্ণ। নিজের মানসিক প্রস্তুতি থাকা জরুরি। সৎ থাকলে পৃথিবীর কোনো খারাপ শক্তি তোমাকে আটকাতে পারবে না। বিপদের মুখোমুখি হতে হবে, তবে সৃষ্টিকর্তা সেই বিপদ থেকে বাঁচিয়ে আনবেন। এটি আমার জীবনের সবচেয়ে বড় শিক্ষা।”
সবশেষে দর্শক, সংবাদকর্মী এবং সহকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে নুসরাত বলেন, “দর্শকদের একসাথে হয়ে আমার জন্য কথা বলা এবং সহকর্মীদের সমর্থনের জন্য আমি কৃতজ্ঞ। শিল্পী নুসরাত ফারিয়া হিসেবে এর চেয়ে বড় অর্জন আর কিছু হতে পারে না।”



