tanaka
প্রচ্ছদলাইফষ্টাইলবিনোদনসালমানকে হত্যার পরিকল্পনা, নজরদারিতে আমির-অমিতাভ-অক্ষয়; শেষ পর্যন্ত হামলা টাইগারের গাড়িতে

সালমানকে হত্যার পরিকল্পনা, নজরদারিতে আমির-অমিতাভ-অক্ষয়; শেষ পর্যন্ত হামলা টাইগারের গাড়িতে

বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলির ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা মুম্বাইয়ে অবস্থানকালে আমির খান, অমিতাভ বচ্চন ও অক্ষয় কুমারসহ একাধিক তারকার বাড়ির আশপাশে নজরদারি চালিয়েছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ সূত্র। তদন্তসংশ্লিষ্টদের দাবি, হামলাকারীদের প্রাথমিক লক্ষ্য ছিলেন সালমান খান। তবে তার বাসভবনের কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা দেখে পরিকল্পনা বদলে ফেলেন তারা।

এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত বন্দুকধারীরা জানিয়েছেন, প্রথমে সালমান খানের গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্টে নজরদারি চালানো হয়। কিন্তু সেখানে নিরাপত্তাব্যবস্থা অত্যন্ত কঠোর হওয়ায় হামলার পরিকল্পনা থেকে সরে আসেন তারা।

এরপর আমির খান, অমিতাভ বচ্চন ও অক্ষয় কুমারের বাড়ির আশপাশেও নজরদারি চালানো হয়। তবে এসব তারকার কাছে পৌঁছানো কঠিন মনে হওয়ায় শেষ পর্যন্ত টাইগার শ্রফকে লক্ষ্যবস্তু করা হয় বলে দাবি তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের।

গত ১৮ অক্টোবর সন্ধ্যায় মুম্বাইয়ের জুহু এলাকায় ফুটবল খেলে গাড়িতে করে ফেরার সময় টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালান দুই ব্যক্তি। সে সময় গাড়ির জানালা দিয়ে ভক্তদের দিকে হাত নাড়ছিলেন অভিনেতা। গুলি চালানোর পর মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যান হামলাকারীরা। ঘটনায় টাইগার শ্রফ বড় ধরনের আঘাত না পেলেও তার গাড়িচালক ও এক পথচারী আহত হন।

মুম্বাই পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গাড়ি লক্ষ্য করে পাঁচ থেকে ছয় রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়েছিল। এ ঘটনায় রাজস্থান, উত্তর প্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ ও হরিয়ানা থেকে এখন পর্যন্ত ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আমির খানের বাড়িতে এক মাস নজরদারি

মুম্বাই পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, টাইগার শ্রফের গাড়িতে গুলি চালানোর আগে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সদস্যরা আমির খানের বান্দ্রার বাসভবনের আশপাশে প্রায় এক মাস অবস্থান করেছিলেন। এ সময় তিন দফায় বাড়িটির আশপাশে নজরদারি চালানো হয় বলে জানা গেছে।

এনডিটিভিকে সূত্রগুলো জানিয়েছে, আমির খান প্রায়ই সিনেমার শুটিংয়ের কাজে বাড়ির বাইরে থাকতেন। আবার কখনো দীর্ঘ সময় বাড়ির ভেতরেই অবস্থান করতেন। তার এই অনিয়মিত চলাফেরা এবং সহজে কাছে পৌঁছাতে না পারার বিষয়টি হামলাকারীদের পরিকল্পনায় বাধা হয়ে দাঁড়ায় বলে ধারণা করা হচ্ছে।

হামলার দায় স্বীকার অনিল পণ্ডিতের

টাইগার শ্রফের ওপর হামলার ঘটনায় অনিল পণ্ডিত নামে এক গ্যাংস্টারকে পলাতক আসামি হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। তিনি লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সহযোগী বলে অভিযোগ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করে তিনি গ্যাংটির কার্যক্রম পরিচালনা করছেন বলে ধারণা তদন্তসংশ্লিষ্টদের। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট দিয়ে টাইগার শ্রফের ওপর হামলার দায়ও স্বীকার করেছিলেন তিনি।

এদিকে, আমির খানের তৃতীয় বিয়ে ও স্ত্রী গৌরী স্প্র্যাটকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি অডিও ক্লিপ এবং কয়েকটি পোস্ট ছড়িয়ে পড়েছে। ‘আরজু বিষ্ণোই’ ও ‘টাইসন বিষ্ণোই’ নামে ব্যক্তিদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে দাবি করা এসব অডিও ও পোস্টে আমির খানের বিয়েকে ‘লাভ জিহাদ’ এবং ‘সনাতন’ সংস্কৃতির পরিপন্থী বলে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে অভিনেতাকে ‘শিক্ষা দেওয়ার’ হুমকিও দেওয়া হয়েছে।

তবে ‘লাভ জিহাদ’ শব্দটির কোনো স্বীকৃত সংজ্ঞা ভারতের প্রচলিত আইনে নেই। ২০২০ সালে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় লোকসভায় জানিয়েছিল, বিদ্যমান আইনে ‘লাভ জিহাদ’ নামে কোনো বিষয় সংজ্ঞায়িত করা হয়নি। শব্দটি প্রায়ই মুসলিমদের বিরুদ্ধে বিয়ের মাধ্যমে জোরপূর্বক ধর্মান্তরের অভিযোগ বোঝাতে ব্যবহার করা হয়।

আমির খানের বাড়িতে নজরদারির খবর এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অডিও ক্লিপ—দুই বিষয়ই খতিয়ে দেখছে মুম্বাই পুলিশ।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট দেখে লক্ষ্যবস্তু টাইগার

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত রিলস ও ইনস্টাগ্রাম পোস্ট পর্যবেক্ষণ করে হামলাকারীরা জানতে পারেন, টাইগার শ্রফ প্রতি রোববার জুহুর পুষ্পা নারসি গ্রাউন্ডে ফুটবল খেলতে যান।

অভিনেতার চলাফেরা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের পর তাকে তুলনামূলক সহজ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করেন হামলাকারীরা। অন্য কয়েকজন বলিউড তারকার তুলনায় টাইগারের নিরাপত্তাব্যবস্থা কম কঠোর বলে তাদের মনে হয়েছিল বলে দাবি সূত্রের।

পুলিশের ধারণা, বলিউডে আতঙ্ক সৃষ্টি করা এবং একজন বড় তারকাকে লক্ষ্যবস্তু করাই ছিল এই হামলার ষড়যন্ত্রের উদ্দেশ্য। তবে হামলার পরিকল্পনা, অভিযুক্তদের ভূমিকা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া হুমকির পেছনের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।