কৃষ্ণসাগরে রাশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দরে হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। এ হামলায় অন্তত চারটি রণতরী লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে এবং এতে উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
বুধবার (৪ মার্চ) কিয়েভ ইন্ডিপেনডেন্ট-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউক্রেনের নিরাপত্তা সংস্থা এসবিইউ-এর একটি সূত্র জানিয়েছে, রাশিয়ার নোভোরোসিস্ক বন্দরে এই হামলা চালানো হয়। গত সোমবার (২ মার্চ) পরিচালিত অভিযানে রাশিয়ার চারটি জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজগুলোর মধ্যে রয়েছে কালিব্র ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র বহনকারী ফ্রিগেট অ্যাডমিরাল এসেন। এছাড়া মাইনসুইপার ভ্যালেনটাইন পিকুলন এবং অ্যান্টি-সাবমেরিন জাহাজ ইয়েসেক ও কাশিমভও হামলার শিকার হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে এসবিইউ এই হামলা চালিয়েছে বলে সূত্রটি উল্লেখ করেছে।
হামলায় তিনজন রুশ নাবিক নিহত এবং অন্তত ১৪ জন আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
সূত্রটি জানায়, ‘অ্যাডমিরাল এসেন’ জাহাজটির মাঝামাঝি অংশে আঘাত লাগে। এতে জাহাজটির টিকে-২৫ ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম, জেডআর-৯০ রাডার এবং প্রতিরক্ষামূলক গ্রেনেড লঞ্চার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এছাড়া দূরপাল্লার লক্ষ্য শনাক্তকারী ফ্রিগেড এম২এম নজরদারি রাডারও ক্ষতির মুখে পড়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ইউক্রেনের দাবি, এ হামলার ফলে জাহাজটির কালিব্র ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে এবং আপাতত এটি ইউক্রেনের লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাতে পারবে না।
হামলার সময় ইউক্রেনের ইউনিটগুলো নোভোরোসিস্ক উপসাগর ঘিরে থাকা রাশিয়ার বহুস্তরীয় বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করে বন্দরে প্রবেশ করে বলে জানানো হয়েছে। হামলার পর জাহাজটির ডেকে আগুন ধরে যায়, যা প্রায় ১৮ ঘণ্টা ধরে জ্বলতে থাকে।
একই হামলায় নোভোরোসিস্কের বড় তেল টার্মিনালের সাতটির মধ্যে ছয়টি তেল লোডিং বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি একটি গাইডেন্স রাডার ও একটি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানানো হয়।
তবে কিয়েভ ইন্ডিপেনডেন্ট জানিয়েছে, ইউক্রেনের এসব দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।



