শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ম্যাচে পরিষ্কার গোলের সুযোগ ছিল খুবই কম। তবে পাওয়া সুযোগগুলো দারুণভাবে কাজে লাগিয়ে নেপালকে ২-১ গোলে হারিয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশ। বুধবার গোয়ার পন্ডিত জওহরলাল নেহেরু স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সেমিফাইনালে লাল-সবুজের জয়ের নায়ক ছিলেন ঋতুপর্ণা চাকমা ও সাগরিকা।
গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে মিডফিল্ডার আফঈদা খন্দকারকে একাদশে ফিরিয়ে দল সাজান কোচ পিটার বাটলার। তবে একাদশে জায়গা হয়নি শামসুন্নাহার ও মনিকা চাকমার। ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেললেও মাঝমাঠের লড়াইয়ে কিছুটা আধিপত্য দেখায় নেপাল। বেশিরভাগ সময় বল ছিল বাংলাদেশের অর্ধেই, ফলে রক্ষণ সামলাতেই বেশি ব্যস্ত থাকতে হয়েছে ডিফেন্ডারদের।
আগের দুই ম্যাচের মতো এদিনও বাংলাদেশ অধিনায়ক মারিয়া মান্দাকে খুব একটা প্রভাব বিস্তার করতে দেখা যায়নি। অন্যদিকে নেপাল ধারাবাহিকভাবে আক্রমণ শানাতে থাকে এবং তারই ফল পায় ম্যাচের ২৩তম মিনিটে। বাংলাদেশের বক্সের সামনে সৃষ্ট জটলার সুযোগ কাজে লাগিয়ে দীপা শাহির কর্নার থেকে ভেসে আসা বলে হেড ছুঁইয়ে জালে পাঠান গীতা রানা। তাতেই ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় নেপাল।
গোল হজমের পর সমতায় ফেরার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে বাংলাদেশ। মাঝমাঠ থেকে আক্রমণ গড়ে তোলার পাশাপাশি দুই উইং ব্যবহার করে নেপালের রক্ষণে চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা চলে। কিন্তু প্রতিপক্ষের সুশৃঙ্খল ডিফেন্সের কারণে স্পষ্ট কোনো সুযোগ তৈরি করা কঠিন হয়ে পড়ে।
প্রথমার্ধের শেষ দিকে ব্যবধান আরও বাড়িয়ে নেওয়ার সুযোগ পেয়েছিল নেপাল। ৩৬তম মিনিটে প্রীতি রায়ের শক্তিশালী দূরপাল্লার শট বাংলাদেশের পোস্টে আঘাত করে ফিরে আসে। এ ক্ষেত্রে গোলরক্ষক মিলিরও কৃতিত্ব রয়েছে, কারণ তার আঙুল ছুঁয়ে বলটি পোস্টে লেগেছিল। ফলে বড় বিপদ থেকে রক্ষা পায় বাংলাদেশ এবং ১-০ ব্যবধান নিয়েই বিরতিতে যায় দুই দল।
প্রথমার্ধের শেষ মিনিটে অবশেষে জ¦লে উঠলেন বাংলার মেসি খ্যাত ঋতুপর্ণা চাকমা। কর্ণার থেকে সরাসরি তার অলিম্পিক গোলেই ১-১ ব্যবধানে সমতায় ফেরে বাংলাদেশ। এই গোলের পর মাঠে উজ্জীবিত বাংলাদেশকেই দেখা গেছে। ৪৭ মিনিটে রেখা পাউডেল ফাকা বার পেয়ে শট নিলে গোলকিপার মিলি আক্তার এগিয়ে আসেন। ফাকা বারে বল গড়িয়ে সাইড পোস্টে লেগে ফিরে আসে। এ যাত্রাতেও বেঁচে যায় লাল সবুজের মেয়েরা।
৭৮ মিনিটে মনিকার বাড়িয়ে দেওয়া বলে দুর্দান্ত এক শট নেন সাগরিকা। গোলকিপার লাফিয়ে উঠে বল ঠেলে দেন মাঠের বাইরে। গোলবঞ্চিত হয় বাংলাদেশ। গোলের আশায় কোচ পিটার মৌমিতার জায়গায় মনিকা এবং আনিকার জায়গায় নামানো হয় সাগরিকাকে। পরে অবশ্য ইনজুরির কারণে মনিকাকে ফের উঠিয়ে নামানো হয় শাহেদা আক্তার রিপাকে। ম্যাচরে অতিরিক্ত সময়ে সাগরিকার গোলে বাজিমাত বাংলাদেশের (২-১)। অলআউট ফুটবল খেলেও নেপালকে ফাইনালে নিতে পারলেন না অধিনায়ক আঞ্জিলা সুব্বা।



