দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী মির্জা আব্বাস এখন অনেকটাই সুস্থ হয়ে উঠেছেন। তবে পুরোপুরি সুস্থ হতে তাকে আরও কিছুদিন ফিজিওথেরাপি ও নিয়মিত চিকিৎসার মধ্যে থাকতে হবে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
গতকাল মালয়েশিয়া থেকে জানান মির্জা আব্বাস। তিনি বলেন, আগের তুলনায় শারীরিক অবস্থার অনেক উন্নতি হয়েছে। ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরছেন তিনি। অসুস্থতার সময় দেশবাসী, দলীয় নেতাকর্মী ও নির্বাচনী এলাকার মানুষের দোয়া ও খোঁজখবর নেওয়ার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন বিএনপির এই প্রবীণ নেতা।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে তিনি মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরের একটি মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সেখানে তাকে নিয়মিত থেরাপি দেয়া হচ্ছে। এখন তিনি স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে ও খাবার গ্রহণ করতে পারছেন। চিকিৎসকদের পরামর্শে প্রতিদিন তাকে খোলা জায়গা বা হাসপাতালের লবিতে হাঁটাচলা করানো হচ্ছে। শারীরিক সক্ষমতা পুরোপুরি ফিরে পেতে আরও কিছুদিন চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হবে।
আগামী ঈদুল আজহার আগেই দেশে ফেরার পরিকল্পনা থাকলেও চিকিৎসকদের পরামর্শে তা আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। আরও কিছুদিন মালয়েশিয়ায় থেকে চিকিৎসা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পরিবার। তার দ্রুত সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন স্বজনরা।
গত ১১ মার্চ রাজধানীর শাহজাহানপুরের বাসায় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন মির্জা আব্বাস। পরে তাকে দ্রুত রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসকরা জানান, তিনি স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছেন। গুরুতর অবস্থায় ১৩ মার্চ তার মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হয়। প্রাথমিক ঝুঁকি কাটলেও অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ মার্চ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাকে সিঙ্গাপুর নেয়া হয়।
সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসার পর তার অবস্থার উন্নতি হয়। পরে উন্নত পুনর্বাসন চিকিৎসা ও ফিজিওথেরাপির জন্য গত ১৩ এপ্রিল তাকে মালয়েশিয়ায় নেয়া হয়। বর্তমানে স্ত্রী আফরোজা আব্বাসসহ পরিবারের সদস্যরা তার সঙ্গে রয়েছেন।
পরিবারের ভাষ্য, চিকিৎসা শেষ করে দেশে ফেরার পর ধীরে ধীরে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় হতে পারেন মির্জা আব্বাস। তবে এই মুহূর্তে তার পূর্ণ সুস্থতাকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।
উল্লেখ্য, মির্জা আব্বাস দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। তিনি অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের মেয়র, সংসদ সদস্য এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। সর্বশেষ তাকে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়।



