tanaka

এশিয়ান গেমস • কাবাডিতে কোরিয়া বধের পর বাংলাদেশের চোখ পদকে

এশিয়ান গেমসে পুরুষ কাবাডিতে দক্ষিণ কোরিয়াকে হারিয়েছে বাংলাদেশ। শক্তিশালী দক্ষিণ কোরিয়াকে হারিয়ে লাল-সবুজ দল এখন তাকিয়ে আছে দিনের দ্বিতীয় ম্যাচের দিকে। বিকেলে চাইনিজ তাইপেকে...
প্রচ্ছদআন্তর্জাতিকইসরায়েল-আরব গোপন সামরিক সম্পর্ক নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস

ইসরায়েল-আরব গোপন সামরিক সম্পর্ক নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস

হোয়াইট হাউজ থেকে ফাঁস হওয়া নথির ভিত্তিতে একটি মার্কিন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, গত তিন বছরে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) সহায়তায় ইসরায়েল ও ছয়টি আরব দেশের মধ্যে একটি যৌথ নিরাপত্তা ও সামরিক কাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে।

প্রকাশিত তথ্য অনুসারে, গাজা যুদ্ধসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক সংঘাতের সময় ইসরায়েল ও আরব দেশগুলোর কর্মকর্তারা একাধিক গোপন বৈঠক ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। এসব বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয় ছিল ইরান ও গাজার ভূগর্ভস্থ টানেল মোকাবিলার উপায় এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা হুমকি।

ওয়াশিংটন পোস্ট এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, গাজা যুদ্ধের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অবস্থান নেওয়া সত্ত্বেও আরব দেশগুলো নীরবে ইসরায়েলের সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়িয়েছে। তবে সেপ্টেম্বরে কাতারে ইসরায়েলি হামলার পর এই সামরিক সম্পর্ক কিছুটা চাপের মুখে পড়ে।

নথি থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের মে মাসে কাতারের আল উদাইদ ঘাঁটিতে এক গোপন বৈঠকে অংশ নেয় ইসরায়েলি প্রতিনিধিদল। তারা সরাসরি সামরিক বিমানে সেখানে পৌঁছায় এবং সাধারণ প্রবেশপথ এড়িয়ে যায়, যাতে উপস্থিতি গোপন রাখা যায়।

এই সামরিক কাঠামোতে ইসরায়েল ছাড়াও রয়েছে কাতার, বাহরাইন, মিশর, জর্ডান, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। কুয়েত ও ওমানকে ‘সম্ভাব্য অংশীদার’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে, যাদের সব বৈঠক সম্পর্কে অবহিত রাখা হয়েছে।

আরেকটি নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের ফোর্ট ক্যাম্পবেল ঘাঁটিতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে আরব ও ইসরায়েলি অংশীদাররা গাজায় ব্যবহৃত ভূগর্ভস্থ টানেল শনাক্ত ও ধ্বংসের কৌশল নিয়ে একটি প্রশিক্ষণ সেশনে অংশ নেয়।

নথিতে আরও উল্লেখ আছে, অংশীদার রাষ্ট্রগুলো নতুন কোনো জোট গঠন না করেই এই সহযোগিতা চালিয়ে যাচ্ছে এবং সকল বৈঠক ‘গোপনীয়’ভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, এই সহযোগিতার মূল লক্ষ্য ছিল ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হুমকি মোকাবিলা এবং একটি অভিন্ন প্রতিরক্ষা কর্মসূচি গঠন। ২০২২ সালে এক সম্মেলনে এ পরিকল্পনার খসড়া তৈরি হয় এবং পরবর্তীতে যৌথ সামরিক মহড়া ও তথ্য বিনিময়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সেন্টকম ২০২৪ সালে এই দেশগুলোর রাডার ও সেন্সর যুক্ত করে তাদের একটি সম্মিলিত নেটওয়ার্কে সংযুক্ত করে। এর মাধ্যমে তারা পারস্পরিক তথ্য ও ছবি আদান-প্রদান করে। তবে ৯ সেপ্টেম্বর কাতারে ইসরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সময় এই প্রতিরক্ষা কাঠামো কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি।

এ গোপন সামরিক কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার সৌদি আরব, যেটি ইসরায়েল ও অন্যান্য আরব রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে তথ্য সমন্বয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে।

উৎস: মেহের ও তাসনিম নিউজ, ওয়াশিংটন পোস্ট