গাজা যুদ্ধ শেষ হয়েছে—এই ঘোষণা দিয়েই সোমবার ইসরায়েল সফরে রওনা দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, পশ্চিম এশিয়ায় এবার শান্তি ফিরবে। সফরের অংশ হিসেবে সোমবার (১৩ অক্টোবর) তিনি ভাষণ দেবেন ইসরায়েলের সংসদ ‘নেসেট’-এ।
ইতিমধ্যে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তাঁকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। তবে রাজনৈতিক মহলের মতে, ইসরায়েলে বর্তমানে নেতানিয়াহুর চেয়ে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তাই বেশি।
তেলআবিবে ট্রাম্পকে স্বাগত জানাতে জনতার ভিড় লক্ষ করা যায়, যেখানে তাঁকে নিয়ে ‘জয়ধ্বনি’ উঠেছে। বিশেষ করে গাজা যুদ্ধ থামিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে তাঁর উদ্যোগ প্রশংসিত হয়েছে। অন্যদিকে, নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকেই।
রবিবার তেলআবিবের ‘হোস্টেজেস স্কোয়ার’-এ ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ভাষণ দেওয়ার সময় জনতা উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে ট্রাম্পের নামে স্লোগান দেন। তবে একই ভাষণে নেতানিয়াহুর নাম উঠতেই জনতার ভিড় থেকে ওঠে কটাক্ষ ও বিদ্রুপ। তাঁদের অভিযোগ, যুদ্ধবিরতি ও শান্তি প্রক্রিয়া বিলম্বিত করার জন্য মূল দায় নেতানিয়াহুর।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ইসরায়েলের আইনসভায় এর আগে মাত্র তিনজন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ভাষণ দিয়েছেন—১৯৭৯ সালে জিমি কার্টার, ১৯৯৪ সালে বিল ক্লিনটন এবং ২০০৮ সালে জর্জ ডব্লিউ বুশ। এবার চতুর্থ মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে সেই তালিকায় যোগ দিচ্ছেন ট্রাম্প।
ইসরায়েল সফর শেষে ট্রাম্প সরাসরি মিশরে যাবেন, যেখানে অন্তত ২০ জন রাষ্ট্রনেতার সঙ্গে তাঁর বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। আলোচনার মূল বিষয়—পশ্চিম এশিয়ার শান্তি ও স্থিতিশীলতা। ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসও এই বৈঠকে থাকছেন। তবে ইসরায়েলের কোনো প্রতিনিধি সেখানে থাকছেন না। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও তিনি না যাওয়ায় প্রতিনিধি হিসেবে পাঠানো হচ্ছে বিদেশ প্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিংহকে।
গাজায় শান্তি ফিরিয়ে আনতে ট্রাম্প একটি ২০ দফা প্রস্তাব দিয়েছেন, যাতে বন্দিমুক্তি এবং বন্দি বিনিময়ের কথাও রয়েছে। ইসরায়েল এবং হামাস প্রাথমিকভাবে এই চুক্তিতে সম্মত হয়েছে। নেতানিয়াহুর বাহিনী গাজা থেকে ধীরে ধীরে সরে যাচ্ছে এবং ফিলিস্তিনিরাও ঘরে ফিরছেন।
ইসরায়েল আশা করছে, সোমবারই বন্দিদের মুক্তি শুরু হবে। ইতোমধ্যে গাজায় ত্রাণ ও খাদ্যসামগ্রী পাঠাতে শুরু করেছে জাতিসংঘ। যুদ্ধ ও অবরোধের কারণে যে দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল, সেটি ধীরে ধীরে কাটিয়ে ওঠার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ট্রাম্প।



