tanaka

জলবায়ু অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণে উন্নত দেশগুলোকে আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় উন্নত দেশগুলোকে অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণ, ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য তহবিল পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন...
প্রচ্ছদআন্তর্জাতিকইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনাকে ঘিরে অপেক্ষার প্রহর

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনাকে ঘিরে অপেক্ষার প্রহর

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনাকে ঘিরে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অপেক্ষার প্রহর গুনছে সংশ্লিষ্ট মহল। যদিও এখনো পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে বৈঠক শুরুর কোনো সুস্পষ্ট লক্ষণ দেখা যায়নি, তবুও পাকিস্তান কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে দুই পক্ষকে আলোচনার টেবিলে আনতে।

আলোচনাকে সামনে রেখে ইসলামাবাদের গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলোতে কড়া নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। প্রধান সড়কগুলো আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়েছে এবং প্রশাসনিক এলাকাগুলোকে ‘রেড জোন’ হিসেবে ঘোষণা করে নিরাপত্তা বলয়ে আনা হয়েছে।

পাকিস্তানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত হলেও তারা যেকোনো সময় দুই দেশের প্রতিনিধিদলের আগমনের জন্য প্রস্তুত রয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এই আলোচনায় অংশ নিতে পারেন বলে পূর্বে ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি গত সপ্তাহে জানান, ইরানের সঙ্গে একটি ঐতিহাসিক চুক্তির সম্ভাবনা থাকায় পাকিস্তান সফরের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এক সরকারি কর্মকর্তা বলেন, “আমাদের জানানো হয়েছে, যেকোনো দিন আলোচনা শুরু হতে পারে।”

এই অনিশ্চয়তার কারণে টানা দুই সপ্তাহ ধরে কার্যত স্থবির হয়ে আছে ইসলামাবাদ। প্রথম দফার আলোচনার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে গত ১১ এপ্রিল থেকে শহরে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও আংশিক লকডাউন কার্যকর করা হয়।

এর প্রভাব পড়েছে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায়। কর্মজীবী মানুষদের যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে, বিশেষ করে যারা সপ্তাহান্তে নিজ বাড়িতে ফেরেন। ৩৫ বছর বয়সী রিজওয়ানা রইস দুই সপ্তাহ পর নিজ শহর অ্যাবোটাবাদে ফেরার চেষ্টা করলেও বাস না পেয়ে বিপাকে পড়েন। পরে তিনি অনলাইনের মাধ্যমে গাড়ি ভাড়া করে বাড়ি ফেরার ব্যবস্থা করেন।

একটি বাস টার্মিনালের ম্যানেজার আব্দুর রেহবাম ইরশাদ জানান, “গত পাঁচ-ছয় দিন ধরে টার্মিনাল বন্ধ রয়েছে।”

অন্যদিকে, রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে অবস্থানরত আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকর্মীরাও অনিশ্চয়তায় রয়েছেন। তারা নিয়মিত আপডেটের অপেক্ষায় থাকলেও এখনো নিশ্চিত হতে পারছেন না বৈঠক আদৌ অনুষ্ঠিত হবে কি না।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার হোয়াইট হাউস প্রতিনিধি ফাদি মনসুর বলেন, “আমরা জানিই না কী ঘটতে যাচ্ছে। কতদিন এখানে থাকতে হবে, সেটাও অনিশ্চিত।”

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানোর ঘোষণা দিলেও ইরান সে বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের প্রতি আস্থাহীনতার ইঙ্গিত দিয়েছে।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ইরানের একটি ছোট প্রতিনিধি দল শুক্রবার রাতে ইসলামাবাদে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এই দলের নেতৃত্বে থাকবেন আব্বাস আরাঘচি। যদিও এই সফর পূর্বনির্ধারিত বলে জানা গেছে, তবুও দ্বিতীয় দফার বৈঠক নিয়ে তারা এখনো নিশ্চিত কোনো ঘোষণা দেয়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানি প্রতিনিধি দলের এই সফর নতুন করে সংলাপ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করেছে এবং কূটনৈতিক অচলাবস্থা কাটানোর একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।