ইরানকে ঘিরে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী—এমন তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। দুই মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে হামলার নির্দেশ দিলে কয়েক সপ্তাহব্যাপী অভিযান চালানোর সক্ষমতা নিশ্চিত করতে আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। পরিকল্পনার সংবেদনশীলতার কারণে কর্মকর্তারা নাম প্রকাশ করতে চাননি। তাদের ভাষ্য, এ ধরনের পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্ককে অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় আরও গুরুতর সংঘাতে ঠেলে দিতে পারে। একই সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক তৎপরতার গুরুত্বও বেড়েছে।
মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ ও জারেড কুশনারের জেনেভায় ইরানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের কথা রয়েছে, যেখানে মধ্যস্থতায় থাকবেন ওমানের কর্মকর্তারা। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কূটনৈতিক সমাধানকে অগ্রাধিকার দেন, যদিও তা সহজ হবে না। এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক উপস্থিতি জোরদার করেছে; অতিরিক্ত বিমানবাহী রণতরী, যুদ্ধবিমান, গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার এবং হাজারো সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতি চলছে। নর্থ ক্যারোলিনার ফোর্ট ব্র্যাগে এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প ইরানে সরকার পরিবর্তনের সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন, তবে বিকল্প নেতৃত্ব বিষয়ে স্পষ্ট কিছু বলেননি।
ট্রাম্প অতীতে স্থলবাহিনী পাঠানোর বিষয়ে অনাগ্রহের কথা জানিয়েছেন। বর্তমানে যে শক্তি মোতায়েন করা হচ্ছে, তা মূলত নৌ ও বিমান অভিযানের ইঙ্গিত বহন করে। গত বছর যুক্তরাষ্ট্র দুটি বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন করে এবং জুনে ‘মিডনাইট হ্যামার’ নামে এককালীন হামলা চালায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। ওই অভিযানে স্টেলথ বোমারু বিমান দিয়ে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় আঘাত হানা হয়। জবাবে ইরান কাতারে অবস্থিত একটি মার্কিন ঘাঁটিতে সীমিত পাল্টা হামলা চালায়।
তবে সম্ভাব্য নতুন পরিকল্পনা আরও বিস্তৃত ও জটিল হতে পারে। কর্মকর্তাদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি অভিযানে শুধু পারমাণবিক স্থাপনা নয়, ইরানের রাষ্ট্রীয় ও নিরাপত্তা অবকাঠামোও লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। বিশ্লেষকদের সতর্কবার্তা—ইরানের শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারের কারণে মার্কিন বাহিনীর ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে এবং পাল্টা হামলা আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে। এক কর্মকর্তা জানান, ওয়াশিংটন ধারণা করছে ইরান প্রতিক্রিয়া দেখাবে, যা পাল্টা-পাল্টি আঘাতের চক্র সৃষ্টি করতে পারে।
ইরানের বিপ্লবী গার্ড সতর্ক করেছে, দেশের ভূখণ্ডে হামলা হলে তারা অঞ্চলে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করবে। যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি রয়েছে জর্ডান, কুয়েত, সৌদি আরব, কাতার, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও তুরস্কে।
এদিকে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সম্প্রতি ওয়াশিংটনে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেন। তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য যে কোনো চুক্তিতে ইসরাইলের নিরাপত্তা স্বার্থ নিশ্চিত করতে হবে। তেহরান জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিনিময়ে পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার বিষয়ে আলোচনা সম্ভব, তবে ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত করতে তারা রাজি নয়।
শনিবার ইরানের প্রবাসী বিরোধী নেতা পাহলভি বলেন, মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপ ইরানে পরিবর্তনের গতি ত্বরান্বিত করতে পারে। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবে উৎখাত হওয়া শাহের পুত্র পাহলভি দাবি করেন, বর্তমান সরকার পতনের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে এবং বাহ্যিক চাপ সেই প্রক্রিয়াকে দ্রুত করতে পারে।



