ইরানের ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) জেনারেল আহমেদ ভাহিদি তেহরানে ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছেন—এমন অসমর্থিত দাবি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক প্রতিবেদনে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে এ নিয়ে এখনো কোনো স্বাধীন বা নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
মঙ্গলবার (৯ জুন) এ সংক্রান্ত গুঞ্জন প্রথম সামনে আসে বলে জানা যায়। এরপর ইরানের সামরিক নেতৃত্ব ও অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার কাঠামো নিয়ে নানা আলোচনা ও জল্পনা তৈরি হয়েছে।
আহমেদ ভাহিদি দীর্ঘদিন ধরে আইআরজিসির একজন গুরুত্বপূর্ণ জেনারেল হিসেবে পরিচিত। তিনি তেহরানের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে প্রভাবশালী অবস্থান তৈরি করেছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতা বা যুদ্ধবিরতি আলোচনায় ইরানের কঠোর অবস্থানের পক্ষে ভূমিকা রাখেন বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন পোস্ট ও বিশ্লেষক-ঘনিষ্ঠ অ্যাকাউন্ট থেকে এই মৃত্যুর দাবির সূত্রপাত হয়েছে বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক সংঘাত পরিস্থিতি নিয়ে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে বিষয়টি আরও আলোচনায় আসে।
তবে প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত ইরান সরকার ভাহিদির মৃত্যুর বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি। একইভাবে ইসরায়েল বা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য বা নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি। এর আগেও তার মৃত্যুকে ঘিরে একাধিকবার গুজব ছড়ালেও পরে তা ভিত্তিহীন বলে প্রমাণিত হয়েছে।
আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভাহিদি ইরানের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার কাঠামোয় একজন প্রভাবশালী ও বিতর্কিত ব্যক্তিত্ব হিসেবে বিবেচিত। ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ার’ এক প্রতিবেদনে দাবি করেছে, আইআরজিসির ভেতরে তার ঘনিষ্ঠ বলয় ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রাখে এবং বেসামরিক কর্তৃপক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টি করে আসছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই গোষ্ঠী যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেকোনো ধরনের আপস বা সমঝোতার বিরোধিতায় কঠোর অবস্থান ধরে রেখেছে।
তথ্যসূত্র: গালফ নিউজ



