দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের প্রধান দুই উৎস- রপ্তানি ও প্রবাসী আয়। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রেমিট্যান্স প্রবাহ ইতিবাচক ধারায় থাকলেও রপ্তানি খাতে নেই স্বস্তি। বাংলাদেশের প্রধান দুই রপ্তানি গন্তব্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক আমদানির প্রবৃদ্ধি চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে ঋণাত্মক হওয়ায় তৈরি হয়েছে নতুন উদ্বেগ।
দেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৭০ শতাংশই আসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশ থেকে। ফলে এসব বাজারে চাহিদা কমে যাওয়া বাংলাদেশের রপ্তানি, কর্মসংস্থান, শিল্প উৎপাদন এবং সামগ্রিক বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের ওপর উল্লেখযোগ্য চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন শিল্পের মালিক ও অর্থনীতিবিদরা।
ইউরোস্ট্যাটের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত সময়ে বিশ্ববাজার থেকে ইইউর পোশাক আমদানি ১০ দশমিক ৪২ শতাংশ কমে ২৭ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। আগের বছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ৩১ বিলিয়ন ডলার।
একই সময়ে ইইউতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি আরও বেশি হারে কমেছে। রপ্তানি ১৯ দশমিক ৩৩ শতাংশ কমে ৬ দশমিক ০৮ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৭ দশমিক ৫৪ বিলিয়ন ডলার।ইইউর সবচেয়ে বড় সরবরাহকারী চীনের রপ্তানি কমেছে ৪ দশমিক ৭০ শতাংশ, যা দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ৯৫ বিলিয়ন ডলারে। তৃতীয় বৃহত্তম রপ্তানিকারক তুরস্কের রপ্তানি ১৬ দশমিক ৬০ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ২ দশমিক ৪৪ বিলিয়ন ডলারে। ভারতের রপ্তানি ১২ দশমিক ১০ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ৬৪ বিলিয়ন ডলারে।
বাংলাদেশের জন্য আরও উদ্বেগের বিষয় হলো রপ্তানি মূল্যের বড় ধরনের পতন। ইইউ বাজারে গড় আমদানিমূল্য যেখানে ৫ দশমিক ২২ শতাংশ কমেছে, সেখানে বাংলাদেশের গড় রপ্তানিমূল্য কমেছে ১০ দশমিক ৪৫ শতাংশ।
চীনের গড় মূল্য কমেছে ৭ দশমিক ৭০ শতাংশ এবং ভারতের ৪ দশমিক ৭৬ শতাংশ। অন্যদিকে, ভিয়েতনাম গড় রপ্তানিমূল্যে ১ দশমিক ৪৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে, যা প্রতিযোগীদের তুলনায় তাদের শক্তিশালী অবস্থানের ইঙ্গিত দেয়।



