বরিশাল: আওয়ামী লীগের নেতা নিরব হোসেন টুটুলের চারটি লাইসেন্সে এবার ভারতে ইলিশ রপ্তানির অনুমতি মিলেছে। লাইসেন্সমতে ইতোমধ্যে কলকাতায় প্রায় দুই হাজার কেজি ইলিশ পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে। সরকারি অনুমতি ও স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী টুটুলের চারটি প্রতিষ্ঠান—মাহিমা এন্টারপ্রাইজ, তানিসা এন্টারপ্রাইজ, নাহিয়ান এন্টারপ্রাইজ এবং এআর এন্টারপ্রাইজ—এর মধ্যে মাহিমা ও তানিসা তার দুই কন্যার নামেই করা হয়েছে; বাকী দুইটি লাইসেন্স তার আত্মীয়দের নামে করা হয়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও মৎস্য কর্মকর্তাদের বরাতে সংবাদটিতে বলা হয়েছে, টুটুল কলকাতায় অবস্থান করেই বরিশালের পোর্ট রোডের ইলিশ মোকামের ব্যবসা পরিচালনা করছেন। মৎস্য আড়তদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের বরিশাল মহানগর কমিটির সদস্য সচিব কামাল সিকদার জানিয়েছেন, আড়ত মালিক হিসেবে টুটুলের ব্যবসা চলছে এবং মোকামের নিয়ম অনুযায়ী কাজ হচ্ছে। তবে অন্যান্য সূত্রে অভিযোগ উঠেছে যে বিএনপির কয়েকজন নেতার সহযোগিতায় এই ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছে; অভিযোগগুলো ওই বিএনপি নেতারা অস্বীকার করেছেন।
বোয়ানেপোল মৎস্য কোয়ারেন্টাইন বিভাগের কর্মকর্তা আকসাদুল ইসলাম জানান, তানিসা এন্টারপ্রাইজ বৃহস্পতিবার ১,৩৬০ কেজি ইলিশ পাঠিয়েছে—আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, বুধবার থেকে শুরু হওয়া রপ্তানিতে দুই দিনে প্রায় দুই হাজার কেজি ইলিশ পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরে একটি লাইসেন্সের বিপরীতে ২০ থেকে ৫০ টন ইলিশ রপ্তানি করা যাবে; এই সীমা মাথায় রেখে টুটুল একই ব্যক্তির নামে চারটি লাইসেন্স নিয়েছেন, ফলশ্রুতে মোট রপ্তানির পরিমান কম-বেশি ২০০ টন পর্যায়ে পৌঁছতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে—যার মূল্য প্রায় ৩০ কোটি ৬০ লাখ টাকা পড়তে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
টুটুলের নামে বরিশালে রয়েছে বহুমালিক্য সম্পত্তি; তার বিরুদ্ধে স্থানীয়ভাবে এখন পর্যন্ত সাতটি মামলা হয়েছে—স্থানীয় সূত্রে এ তথ্য জানানো হয়। ২০১৯ সাল থেকে পূজার সময়কালকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ থেকে ভারতে ইলিশ রপ্তানির অনুমতি পাওয়া শুরু হওয়ার পর থেকেই নিয়মিতভাবে তিনি ইলিশ রপ্তানি করছেন বলে দাবি করা হয়।
বহু মৎস্যব্যবসায়ী বলছেন, বর্তমানে যারা মোকাম পরিচালনা করছেন তারা টুটুলের ব্যবসা টিকিয়ে রেখেছেন এবং রপ্তানিও তাদের সহযোগিতায় হচ্ছে। কয়েকজন আড়তদারের দাবি, ৫ আগস্টের পর হলেও মোকামে আগের মতোই বড় সাইজের ইলিশ ক্রয়ের দিকটি এখনো টুটুলের নিয়ন্ত্রণেই দেখা যায়। এ বিষয়ে কলকাতায় অবস্থানরত নিরব হোসেন টুটুলের ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
কামাল সিকদার এ প্রসঙ্গে বলেন, “মোকাম আমার একার নয়—এখানে সব দলের লোক আছে। আমি চাইলে কারও ব্যবসা বন্ধ করতে পারি না। টুটুল না থাকলেও তার লোকজন এখানে ব্যবসা চালাচ্ছে; আর ইলিশ রপ্তানির অনুমতি তো সরকার দিয়েছে, তাই আমি বাধা দিতে পারি না।”



